• মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশে ঘোষণা, আমরা যাবো না

প্রকাশ:  ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৩৬ | আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার দুই বছর পূর্তিতে বিশাল সমাবেশে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্বের নিশ্চিত না হলে মিয়ানমার ফিরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। লাখো রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে বিশাল সমাবেশ শ্লোগান ওঠেছে, আগে নাগরিকত্ব পরে প্রত্যাবাসন।

রোববার (২৫ আগস্ট) দিনভর মধুরছড়া এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পের খোলা মাঠে উখিয়ার ২২টি ক্যাম্প থেকে লাখো নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দুই বছর পূর্তির কর্মসূচিতে অংশ নেন। বর্ষপূর্তির এ সমাবেশের আয়োজন করে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বা এআরএসপিএইচ।

সমাবেশে এআরএসপিএইচ’র চেয়ারম্যান মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, আমরা বাংলাদেশের সমর্থন নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমার ফিরতে চাই। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, মিয়ানমারে স্বাধীন ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ নিজ ঘরবাড়ি বুঝে পেলে ফিরে যেতে প্রস্তুত আমরা । বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবতা দেখিয়েছে তার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে শুধু অধিকার ফিরে পেতে। আমরা নিজেদের দেশে ফিরতে চাই। কিন্তু অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কখনো ফিরে যাব না।

সমাবেশ শেষ হয় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে। মোনাজাত পরিচালনা করেন রোহিঙ্গা মাওলানা নুরুল ইসলাম। মোনাজাতে মিয়ানমারে নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া কামনা করা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যেন দ্রুত সময়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সে জন্য বিশেষ প্রার্থনা করে মোনাজাত করেন।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রোহিঙ্গা রিফুউজি কাউন্সিলের আয়োজনে কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকের মাঠে আরেকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা।

এ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার জাফর আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিত তাহলে সেটিই হতো বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মানবিক ট্র্যাজেডি। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রাণ রক্ষা করায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চিরদিন বাংলাদেশ ও স্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যেভাবে উদারতা ও সহানুভূতি দেখিয়েছে, সেভাবে রোহিঙ্গাদের জীবনের নিরাপত্তার, নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করে মিয়ানমার ফেরত পাঠাবে।

উভয় সমাবেশ রোহিঙ্গা নেতারা ঘোষণা দেন পাঁচ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমার ফিরে যাবে না। কারণ মিয়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখা বোকামি।

সমাবেশে ঘোষণাকৃত দাবিগুলো হলো, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে হবে, নিরাপত্তা ও অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা, নিজেদের হারানো ভিটেমাটি ফেরত দিতে হবে ও ২৫ আগস্টের নির্যাতনের বিচার করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে আশ্রিত আরও ৪ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা রয়েছে কক্সবাজারে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন উখিয়া-টেকনাফে।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই

রোহিঙ্গা সমাবেশ,কুতুপালং,রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close