• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮৫, আহত ৩৫৫ 

প্রকাশ:  ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৫:২১ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৫:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৮৫ জন নিহত ও ৩৫৫ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৩৫। নিরাপদ সড়ক চাইয়ের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১০ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট এই নয় দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

যা এ বছরের ঈদ- উল ফিতরের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে নিরাপদ সড়ক চাই'র পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ঈদ-উল ফিতরে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ১২৭, নিহত হন ১৮৪ জন এবং আহত হন ৩৩২জন। বিভিন্ন পত্রিকা, পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক চাই’র সারাদেশের ১২০টি শাখা সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমেও সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। পুরো পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এ বছরের ঈদ- উল ফিতরে সড়কপথে ঈদযাত্রা ছিল যতটা স্বস্তিদায়ক ছিল ঈদ- উল আযহায় এসে সেই ঈদযাত্রা ভোগান্তিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে ঈদযাত্রার মানুষদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। লম্বা সময় জুড়ে সড়কে যানবাহনকে ঠায় বসে থাকার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

তবে নৌপথে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াও ঈদযাত্রা ছিল অনেকটা স্বস্তিদায়ক। নৌপথে বেশকিছু নতুন লঞ্চ বহরে যুক্ত হয়েছে, এবারও ঈদের আগের দিন সদরঘাট টার্মিনালে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। এসব বিষয়ে আগামীতে নজর দিলে নিসচা মনে করে নৌপথ আরও যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে।

পাশাপাশি রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন ও বগি সংযুক্ত হলেও রেলপথে সিডিউল বিপর্যয় টিকিট কালোবাজারির কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে। অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে এবারও প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রেলের যাত্রীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এ বছর ঈদ উল আযহার সময় সারাদেশে সড়ক পথে গাড়ি চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এই ঈদে উত্তরবঙ্গের সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে তিনটি সেতু (কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী) খুলে দেওয়ার ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ পূর্ব বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যানজট হয়নি বললেই চলে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এসকল অঞ্চলে তুলনামুলকভাবে কম হয়েছে। তবে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি, বরং বেড়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার দিক দিয়ে ঈদ-উল ফিতরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি থাকলেও এবার তা কমেছে সামান্য। বেড়েছে বাস দুর্ঘটনার সংখ্যা। একথা বলতেই হয় নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এখনও সড়কে মোটরসাইকেল বিধ্বংসী বাহন হয়ে উঠেছে চালকের খেয়ালীপনাসহ নানা কারণে। সড়কে যখন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সমন্বিত উদ্যোগ চলছে তখন মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম ও এর চালকদের বেপরোয়া হয়ে উঠায় ভাবতে হবে সকল মহলকে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মোটরসাইকেল সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার আগে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ভাবতে হবে, সেই সাথে সংশ্লিষ্ট মহলেরও ভাবতে হবে। কারণ এবার ৪০টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৯জন (চালক ও আরোহী)। গত ঈদ-উল ফিতরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪৫ এবং নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৮। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমলেও আমরা এখনও শংকিত। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এই বাহনের অবস্থান। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে দুর্ঘটনায় আহত নিহতরা বেশির ভাগই তরুণ। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাবই অন্যতম কারণ। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অধিকাংশ ঘটেছে দ্রুতগতি, ট্রাফিক আইন না মানা আর একের অধিক যাত্রী নেওয়ার কারণে।

নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন আমাদের মাধ্যমে সড়কে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য ও সেচ্ছাচারিতা বন্ধে মোটরসাইকেল চালকদের দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন কোর্স চালু ও অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছেন। তিনি মোটরসাইকেল কিনতে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ এই কোর্সের সাটর্টিফিকেট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ঈদের সময় সিডিউল রক্ষা করতে গিয়ে বাসগুলো অতিরিক্ত গতিতে বেপরোয়া ভাবে চালানোর কারণে এবার বাস দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রথমস্থানে চলে আসে। তাছাড়া ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে সবধরণের যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা, নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি নিসচার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের এসব অনিয়ম বন্ধে তৎপরতাও চোখে পড়েছে।

তবে আশংকার কথা হচ্ছে উবার ও পাঠাও'র মত ইন্টারনেটভিত্তিক রাইড শেয়ারিং করা বাহনগুলোর সেচ্ছাচারিতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে এ্যাপের কলিংয়ে সাড়া না দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী বহনের প্রবণতা তাদের মাঝে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে নিসচা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসব সেচ্ছাচারিতা বন্ধের এবং মনিটরিংয়ের আহবান জানাই। নিসচা মনে করে যদি এসব সেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা না হয় তাহলে সিএনজি চালকদের মত এরাও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এতে করে যাত্রীদের বিড়ম্বনাও বেড়ে যাবে।

আশার কথা হচ্ছে এবারও ঈদ যাত্রায় নিসচা’র সারাদেশের অধিকাংশ শাখা নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সাথে সড়ক ও মহাসড়কে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলে সেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করে। নিসচা চেয়ারম্যান এসব সড়ক যোদ্ধাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর পক্ষ থেকে জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরোও সচেতন, সাবধান ও সতর্কতা অবলম্বনেরও আহবান জানানো হয়েছে।

মূল কারণসমূহ

# বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালনা ও ওভারেটেকিং করার প্রবণতা

# ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন

# পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

# অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো

# বিরামহীন ও বিশ্রামহীন ভাবে যানবাহন চালানো

# যানবাহনের সিডিউল বিপর্যয়

# অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা

# মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, নসিমন, করিমন ও স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেলের অবাধে চলাচল

# সড়ক-মহাসড়কে ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন বা সার্ভিস রোড না থাকা

# ঈদ ফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা বা মনিটরিং-এর শিথিলতা

# সড়কের বেহাল দশা

# গাড়ি না পেয়ে মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা

# সড়কে নৈরাজ্য, নিয়ম না মানার প্রবণতা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

# মটরসাইকেল দুর্ঘটনার অধিকাংশ ঘটেছে দ্রুতগতি, ট্রাফিক আইন না মানা আর একের অধিক যাত্রী নেওয়া

পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা

# আমরা মনে করি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মনিটরিং শুধু ঈদের আগে করলেই হবে না, ঈদ-পরবর্তী সময়ে মনিটরিং করতে হবে।

# চালক হেলপারসহ পরিবহন শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনা বন্ধ করা যাবে না। কারণ তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা তৈরি করা হয়। এছাড়া একটি বাহন টানা চলাচলে যান্ত্রিক গোলযোগের সম্ভাবনা থাকে ফলে দুর্ঘটনাসহ যাত্রী ভোগান্তি বেড়ে যায়।

# চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন, যানবাহনের ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন, রাস্তায় ফুটপাত আন্ডারপাস -ওভারপাস নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং অংকন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও গবেষণা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।

# জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা ও চালক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা

# ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা

# ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করা

# মহাসড়কে গতি নিরাপদ করা দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা ও মোটরসাইকেলের যাত্রা নিষিদ্ধ করা

# ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধের আদেশ শতভাগ কার্যকর করা

# সড়ক নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে যেসব সুপারিশ প্রণীত হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা

# চালক শ্রমিকদের যুগোপযোগী বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিরতি- বিশ্রাম এর ব্যবস্থা রাখা ও যানবাহনের যাত্রার আগে ত্রুটি পরীক্ষা করা

# ছোট গাড়ির চলার জন্য আলাদা কোনো লেইন নেই। তাই সড়ক-মহাসড়কে ছোট গাড়ি ও মোটর সাইকেলের মতো বাহনগুলো বাস ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে অবশ্যই সড়ক-মহাসড়কগুলো গাড়ির জন্য আলাদা লেন চালুসহ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী আরও করণীয় বিষয়সমূহ

# বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

# স্কুলের পাঠ্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনারোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।

# ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, যত্র-তত্র গাড়ী পার্কিং, নির্দিষ্ট স্থান ব্যাতিরেকে যেখানে-সেখানে যাত্রি উঠানো-নামানো, ওভার টেকিং, পাল্টাপাল্টি ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই করা, গাড়ীর ছাদে যাত্রি বহন করা, ওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং থাকা সত্বেও সেগুলো ব্যবহার না করার প্রবণতাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

# দরিদ্র ও বেকার যুবকদের বিনা বেতনে অথবা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ চালক হিসাবে গড়ে তোলা এবং সরকারি উদ্যোগে সকল জেলায় একটি করে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দেশের শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের যথাযথ ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দ্বারা এই পেশায় উদ্বুদ্ধ করে দেশে চালকের চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

# বিদ্যমান চালকদের মাঝে দক্ষতা বৃদ্ধি ও সচেতনাতনতামূলক নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চালু ও অব্যাহত রাখা। যদিও নিরাপদ সড়ক চাই নিজস্ব ও বিভিন্ন সময় সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

# সকল মহাসড়ক এবং প্রধান সড়কে একমুখী চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ এবং উচ্চতাসম্পন্ন সড়ক বিভাজন তথা রোড ডিভাইডার-এর ব্যবস্থা করতে হবে। সকল মহাসড়ক এবং প্রধানসড়ককে অবশ্যই ন্যুনতম চারলেনে উন্নীত করতে হবে। মহাসড়কের পাশে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের মত দুপাশে ধীর গতির যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক নির্মাণ করতে হবে।

# পথচারীদের নিবিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপথগুলো দখলমুক্ত করে যেখানে ফুটপাত নেই সেখানে ফুটপাত তৈরীর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় যেনো ফুটপাত দখল না হয় এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

# সড়কের ত্রুটিগুলো অচিরেই দূর করতে হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ত্রুটিগুলো দূর করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে গেছে। একইভাবে অন্যন্য মহসড়কের ত্রুটিগুলো দূর করলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলেও আশা করা যায়।

# বিভিন্ন সিটি কর্রোপোরেশনের আওতাভূক্ত রাস্তা পারাপারের জন্য বেশী বেশী আন্ডারপাস তৈরী করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ফার্মগেইট, নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আন্ডারপাস তৈরী করে নিবিঘ্নে জনগণের রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন ব্যবসাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

# রাজনৈতিক ইশতিহারে বর্তমান সরকার যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন, আন্তরিকতার সাথে দ্রুত বাস্তবায়ন করলে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০% কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

# দেশের ৬৬ টি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সড়ক দুর্ঘটনারোধে করণীয় সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা যাতে করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে যখন সকল শিক্ষক তাদের স্কুলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে পারে। একই ভাবে ইমাম প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউটসহ, মাদ্রাসা শিক্ষক, মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদেরকে সড়ক দুর্ঘটনারোধে করণী সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে যাতে তারা স্ব স্ব এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনারোধে কাজ করতে পারে। এই ধারা পরবর্তী ২ বছর চালু রাখার সুপারিশ করা হচ্ছে এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পিটিআইয়ে নিরাপদ সড়ক চাই ( নিসচা) নিজস্ব অর্থায়নে গত বছর (২০১৮) প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। আমরা মনে করি সরকারি পর্যায়ে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে সুফল বয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মোঃ আবদুল আলীম, শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংগঠনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব বেলায়েত হোসেন খান নান্টু। সভা পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ ও বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক একে আজাদ ও আবদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আলম মিলন, সহ দপ্তর সম্পাদক সাফায়েত সাকিব, কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল হোসেন খান, আলাল উদ্দিন, সেকান্দর আলী রিন্টু, সুশীল চন্দ্র বাছার, নজরুল ইসলাম ফয়সাল, মিষ্টি চৌধুরী, সাধারণ সদস্য আবদুল খালেক, মান্নান ফিরোজ, সাইদুল আলম বকুল, শাহ আলম সাবু, রাইজিন গাজী, হিমু, মোঃ শাকিব হোসেন, আসাদুল ইসলাম আসাদ, মেহরিন খান প্রমুখ।

মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

ঈদযাত্রা,সড়ক দুর্ঘটনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close