Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

টেকনাফে স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সংঘর্ষ. ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর

প্রকাশ:  ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৩:১৪
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

স্থানীয় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় টেকনাফের জাদিমুরায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর চালিয়েছে এলাকাবাসী। পরে রোহিঙ্গারা একত্রিত হয়ে এলাকাবাসীকে পাল্টা ধাওয়া দিলে উত্তেজনা ছাড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোহিঙ্গা শিবিরে হামলা অস্থায়ী ঘরবাড়ি ও এনজিও অফিসগুলোতে ভাঙচুর করে।

টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরায় বৃহস্পতিবার রাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে (৩০) গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ফারুকের বড় ভাই ওসমান গণি অভিযোগ করেন, একদল রোহিঙ্গা তাঁর ভাইকে বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশের একটি পাহাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। টায়ার ও প্লাস্টিকের বক্স জ্বালিয়ে তারা টেকনাফ পৌরসভা থেকে লেদা পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক চারঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রোহিঙ্গাদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। বিকেলের দিকে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা কমে গেলে রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয়দের ধাওয়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে।

রোহিঙ্গাদের এই প্রস্তুতির খবর স্থানীয়রা জানতে পারলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এরপর উত্তেজিত জনতারোহিঙ্গা শিবিরে হামলা চালিয়ে অস্থায়ী কয়েকটি ঘরবাড়ি ও এনজিও অফিসগুলোতে ভাঙচুর চালায়। এসময় রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদের ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আশ্বাস দেওয়ার রোহিঙ্গাদের উসকানিমূলক কঠোর হাতে দমন করার নিশ্চয়তায় বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিবৃত্ত করা হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের নেতা কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশিরা এখানে নিরাপদ নই।ওরা যে ধরনের উসকানিমূলক আচরণ করছে, এতে দুদিন পরে আমাদেরই দেশ ছাড়ার চিন্তাভাবনা করতে হবে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর রোহিঙ্গাদের হাতে আরও দুজন স্থানীয় খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা এবং সাংবাদিকদের হয়রানির খবরও রয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। অনেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দুই বার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো প্রত্যাবাসন এখনো হয়নি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারে যেতে রাজি না হওয়ায় এই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়।

ঢাকা বলছে যে এ বিশাল আকারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অব্স্থান দীর্ঘ হলে তারা (রোহিঙ্গা) শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যই মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেবে না বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও হুমকি হয়ে উঠবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই

রোহিঙ্গা,টেকনাফ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত