• রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

‘এলেঙ্গা-রংপুর চারলেন না হওয়া পর্যন্ত উত্তরে দুর্ভোগ’

প্রকাশ:  ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৫৩ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৯:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

এলেঙ্গা থেকে রংপুর মহাসড়ক চার লেন না হওয়া পর্যন্ত উত্তরে দুর্ভোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঈদের ছুটি শেষে বুধবার (১৪ আগস্ট) প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা রুটে দুদিন খুবই দুর্ভোগের কারণ হয়েছিল। সড়কেও হয়েছিল এবং টার্মিনালেও অপেক্ষমাণ যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলেন। এটা টাঙ্গাইল রুটে। সমস্যাটি আগে ঢাকা-চট্টগ্রামে ছিল। এদিক থেকে এইট লেনে গিয়ে টু লেন ব্রিজে চলাচল, ওদিক থেকে ফোর লেনে এসে টু লেন ব্রিজে লম্বা টেইলব্যাক (যানজট) সৃষ্টি হচ্ছে। এখানেও সমস্যাটাও ঠিক তাই। এখানে চার লেনে যাত্রাটা যেখানে শেষ হয়, টু লেন শুরু হয় সেখানে।

টাঙ্গাইল রুটে ভোগান্তির কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে এমনিতেই গার্মেন্ট কর্মীরাসহ শেষ দিকে চাপটা এমন যে, তখন প্রেসার মোকাবিলা করা খুব কঠিন। চার লেন থেকে যখন দুই লেনে যায় প্রেসারটা তখন লম্বা টেইলব্যাক সৃষ্টি হয় এবং টেইলব্যাকটা আরও লম্বা হয় যখন ধৈর্যহারা হয়ে চালকরা গাড়ি উল্টো পথে নিয়ে যায়। এ কারণটাই ছিল। যে কারণে দুদিন যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক ছিল না, ভোগান্তি হয়েছে। অনেক মানুষ কষ্ট করেছে। গাড়ি দেরিতে আসার কারণে টার্মিনালেও বহু মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শুধু টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ- এখানে যে সমস্যাটা, এ সংকট অনেক চেষ্টা করেও এড়াতে পারিনি। এখন এলেঙ্গা থেকে রংপুর চার লেনের কাজ শুরু হবে। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ থাকবে। আমি আশা করি, আমাদের ওদিকে আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপাতত চার লেন হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও ঈদ আছে, আরও প্রেসার আছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আপাতত কিছু ব্যবস্থা করার চিন্তা-ভাবনা আমরা করছি।

সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় নলকা ব্রিজে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বেশি টেইলব্যাকের সৃষ্টি হয়। এখানে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার চিন্তা-ভাবনা করছি। ব্রিজটি যেহেতু অপ্রশস্ত তাই সেটাকে প্রশস্ত করতে হবে। আরও একটা ব্রিজ আছে যেটাকে বেইলি ব্রিজ করে আপাতত সমাধান খুঁজতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চার লেনের মধ্যে আছে। আপাতত যে সময়টা সমস্যার কারণ হবে সে সময়টা অতিক্রম করার জন্য আমাদের একটা পথ বের করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামে নিয়মিত নির্ধারিত সময়েই গাড়ি পৌঁছেছে এবং সাড়ে তিন-চার ঘণ্টায় চট্টগ্রাম যাত্রা- এটা ইতিহাসে প্রথম ছিল।

ওবায়দুল কাদের ঢাকা-সিলেটও ভালো ছিল। ভুলতা ফ্লাইওভার খুলে দেয়া হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহেও আমরা যতটা খারাপ হবে ভেবেছিলাম সেটা হয়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহে স্বস্তিদায়ক ছিল।

উত্তরের মানুষ এ সুবিধাটা কবে পাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে পাবে। এখন ঢাকা-এলেঙ্গা চার লেন হলো। যখন এলেঙ্গা-রংপুর চারর লেন কাজটা শেষ হবে তখন উত্তরবঙ্গের মানুষ আরও স্বস্তি পাবে এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো স্বস্তিদায়ক হবে। কাজেই যত দিন না চারর লেনের কাজটা শেষ হচ্ছে এলেঙ্গা থেকে রংপুর, ততদিন পর্যন্ত এ দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং ভোগান্তির অবসান হবে না- এটাই স্বাভাবিক।

মন্ত্রী বলেন, আমরা কি ঢাকা-চট্টগ্রামে অপেক্ষা করিনি? এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম আর কখনও দুর্ভোগ হবে- এটা চিন্তাও করছি না। আপাতত সহনীয় করে রাখার জন্য নলকাসহ দুটি ব্রিজের সংস্কারের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছি। তাতে বোধহয় কিছু ফল পাব, পেতে শুরু করব।

এবার ঈদে দক্ষিণাঞ্চলে ফেরি সংকট ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা, যমুনার তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। যে কারণে উভয় পাড়ে লম্বা টেইলব্যাকের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক মানুষের কষ্ট হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

এলেঙ্গা-রংপুর,চারলেন,সেতুমন্ত্রী,ওবায়দুল কাদের
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত