Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

ইহরাম বেঁধে সেলফিবাজি...

প্রকাশ:  ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০২:০২ | আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০২:০৯
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান
প্রিন্ট icon

পিএনএস ( : হজ করতে অনেকেই কাবা শরিফ যান। উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি। এহরাম বাঁধার পর খাওয়া আর মলমূত্র ত্যাগ ছাড়া একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের বাইরে অন্য কোনো কিছু করতে নেই। কেননা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার জন্যই তো সেখানে যাওয়া। কিন্তু অনেকে হজে গিয়ে এহরাম বেঁধে অন্য কিছু করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন।এতে হীতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কাফনের কাপড় কখন পরা হয়। এক. হজের সময়; দুই. ইন্তেকালের পর। মারা যাওয়ার পর কাফনের কাপড় পরে যখন কিছু করার থাকে না, ঠিক তেমনটাই হজযাত্রীর মাথায় থাকা বা রাখা চাই। এরহাম বেঁধে এর বাইরে কিছু করা মানে শয়তানকে খুশি করা। হজযাত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আল্লাহকে রাজিখুশি করতে গিয়ে কোনো কারণে শয়তান যেন খুশি হতে না পারে। বরং শয়তানকে শতভাগ দূরে রাখার জন্যই তো আল্লাহর সান্নিধ্যে পাওয়ার জন্য হজে গমন।

হজযাত্রীদের অনেককে দেখা যায় এরহাম বেঁধে সেলফি তুলে ফেসবুকে দিতে! কাজটা এরহাম বাঁধা অবস্থায় করা হজযাত্রীর জন্য খবুই গর্হিত কাজ। যে বা যারা এটা করছেন, তারা নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন। মনে রাখতে হবে, হজ কোনো ফাজলামি বিষয় নয়। এটা একান্তই আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে সম্পর্ক তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অতীত পাপ থেকে মুক্তির মোক্ষম সুযোগ। এর মধ্যে শয়তান যেন ঢুকে না পড়ে, এ জন্য অধিক সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।

কেই হজ করতে যায় আল্লাহ খুশি করার জন্য। আর কেউ হজের সময় যায় পকেট মারার জন্য। কেউ যায় ভিক্ষা করার জন্য। আর যারা পরের দুটির জন্য যায়, তাদের কাছে এসব কোনো বিষয়ই না। তাদের এহরাম বাঁধা, না-বাঁধা সমান। এদের প্রতি আল্লাহর লান্নত। এরা সেলফি কেন, আরো কত কী করতে পারে। এরা নাকি নানাভাবে-কৌশলে মাদকও নিয়ে যায়। মাদকসহ গিয়ে এদের অনেকে অতীতে ধরা পড়ে দেশের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

কিন্তু যারা খালেস নিয়তে হজ করতে যায়। জীবনের সব পাপ মোচন করতে চায়- তারা তো জেনে-বুঝে কখনো এহরাম বাঁধা অবস্থায় সেলফি তুলতে আর ফেসবুকে দিতে পারে না। তাহলে তাদের হজ যে সেলফি আর ফেসবুকবাজিতে গুলিয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, এক মণ দুধে এক ফোঁটা গো-চনাই যথেষ্ট। হজকে নিয়ে সেলফি আর ফেসবুকবাজি না করলেই কি নয়। কয়টা দিন একমন-একদিলে আল্লাহর কাজটা একটু করে দেখুন না।

আমাদের দেশে অনেক হজ এজেন্সি আছে, যারা হজ যাত্রী বা আল্লাহর মেহমানদের সঙ্গে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে। আর যারা এটা করছে, তারা কিন্তু লেবাসধারী। তারা হজযাত্রীদের কাছ থেকে কোরবানির টাকাও নিয়ে নেয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হজযাত্রীদের তাদের কাছে, অর্থাৎ এজেন্সির মালিকদের হাতে কোরবানির টাকা না দিয়ে নিজেরাই কোরবানি করা উত্তম। অন্যথায় এক্ষেত্র্রে গোলমালের আশঙ্কা থেকে যায়। কারণ এসব টাকা অনেক হজ এজেন্সির মালিক গায়েব করে দেন।

হজ যাত্রীদের সঙ্গে এবারও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবছরই যা ঘটে থাকে। দালাল আর এজেন্সির প্রতারণায় পঞ্চগড় জেলার ৩৭ মুসল্লির হজে যাওয়া হচ্ছে না। অথচ হজে পাঠানোর কথা বলে একটি চক্র তাদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব মুসল্লি। টাকা উদ্ধারসহ প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৪ আগস্ট স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোয়াল্লেম ওয়াছেদ আলী ও কুমিল্লার লাকসাম এলাকার আব্দুল জলিল তাদের এটিএম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড ও সানফ্লাওয়ার এয়ার লিংকার্সসহ বিভিন্ন হজ এজেন্সির নামে দুই-তিন লাখ টাকা করে নেয়। হজে যেতে না পেরে তারা টাকা ফেরত নেয়ার জন্য তার (ওয়াছেদ) বাসায় একাধিকবার যান। কিন্তু তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে তারা পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

আল্লাহর পথের যাত্রীদের নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি চক্র এসব করে পার পেয়ে যাচ্ছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় ওরা আল্লাহর মেহমান হতে প্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করার দুঃসাহস পাচ্ছে। অভিযোগকারীদের বর্ণনায় এসব এজেন্সির মালিক ও দালালরা চিহ্নিত। দায়িত্বশীলদের এখন করণীয় এদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।একটি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল হলে তারা অন্য নামে আরেকটি করবে। তাই তাদের আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা দরকার।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

(ফেসবুকে থেকে পাওয়া)

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

এ কে এম শাহজাহান
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত