Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

মিটফোর্ডের মেশিন বিকল, ডেঙ্গু রোগীরা প্ল্যাটিলেট না পেয়ে মৃত্যুঝুঁকিতে 

প্রকাশ:  ৩০ জুলাই ২০১৯, ০২:১৩ | আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০৬:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো রক্তে প্ল্যাটিলেট কমে যাওয়া। এজন্য সংকটাপন্ন ডেঙ্গু রোগীদের দেহে প্ল্যাটিলেট সরবরাহ করতে হয়। প্লাটিলেট হলো রক্তের সাদা অংশ, মেশিনের মাধ্যমে রক্ত থেকে প্ল্যাটিলেট বিভাজন করতে হয়। প্রায় সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্ল্যাটিলেট বিভাজনের জন্য মেশিন আছে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসাপাতাল) প্ল্যাটিলেট বিভাজনের জন্য মেশিন সরবরাহ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি বিকল। এতে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে, বেড়ে গেছে মৃত্যুর ঝুঁকি।

চিকিৎসকরা জানান, একজন সুস্থ মানুষের রক্তে দুই লাখের ওপর প্ল্যাটিলেট থাকে। ডেঙ্গু রোগীদের দেহ থেকে প্লাটিলেট ক্রমশ কমতে থাকে। ডেঙ্গু রোগীর রক্তে ৫০ হাজারের নিচে প্ল্যাটিলেট নেমে গেলে তা বাইরে থেকে সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে। প্ল্যাটিলেটের পরিমান ২০ হাজারের নিচে নেমে গেলে রোগীর জীবন-শঙ্কা তৈরি হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী মারা যায় রক্তে প্ল্যাটিলেট স্বল্পতায়।

ডেঙ্গু নিয়ে তৈরি হওয়া দুর্যোগে রাজধানীর অন্যতম বড় সরকারি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র মিটফোর্ড হাসপাতালের প্লাটিলেট বিভাজন মেশিনটি বিকল থাকায় ডেঙ্গু চিকিৎসায় তৈরি হয়েছে সংকট। মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ডেঙ্গু নিরাময়ে সাধারণ চিকিৎসাই ভরসা। রক্ত থেকে প্ল্যাটিলেট কমে গিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা তৈরি হলে রোগীর স্বজনদের অন্য কোনো হাসপাতাল থেকে প্লাটিলেট বিভাজন করিয়ে আনতে বলা হচ্ছে। কখনো আবার রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

মিটফোর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত মেয়ের জামাই ভর্তি করিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন গেন্ডারিয়া জাহাঙ্গীর হোসেন। নিজের ভোগান্তির কথা জানিয়ে তিনি বলেন,আমার মেয়ের জামাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনদিন ধরে এ হাসপাতালে ভর্তি। বেশি অসুস্থ হওয়ার চিকিৎসক রক্তের সাদা অংশ লাগবে বলে জানান। তার কথা মতো রক্ত সংগ্রহ করে প্লাটিলেট বিভাজনের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক গিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়েছে, তারা রক্তের সাদা অংশ বিভাজন করতে পারবেন না। তাদের মেশিন নষ্ট। তারা আমাকে বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা শান্তিনগরের কোয়ান্টামে গিয়ে রক্তের প্ল্যাটিলেট বিভাজন করে সাদা অংশ নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা হলো যানজটের শহর। অন্য হাসাপাতালে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন বাড়তি সময়, টাকার কথা না হয় বাদই দেওয়া হলো। এই বাড়তি সময়টাতে আমার মেয়ের জামাইয়ের কিছু হলে সেই দায়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।

লালবাগ থেকে মিটফোর্ড হাসাপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছোট ভাইকে চিকিৎসা করাতে আসা ফারুক আহমেদ বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের ডেঙ্গু ধরা পড়লে প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে খুব বাজে অবস্থা দেখি। কোনো বেড খালি নেই বারিন্দায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরে দালালের মাধ্যমে কিছু টাকার বিনিময়ে মিটফোর্ডে সিটের ব্যবস্থা করে রোগীকে চিকিৎসা করাচ্ছি। এখন আমাকে বলা হচ্ছে, বাইরে থেকে রক্তের প্ল্যাটিলেট বিভাজন করিয়ে নিয়ে আসতে। এর প্রতিবাদ জানালে বলে দেওয়া হয়েছে, আপনি রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন। মিটফোর্ড হাসপাতালের এই অব্যবস্থাপনা মানতে পারছি না।

জাহাঙ্গীর হোসেন ও ফারুক আহমেদের মতোই বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের আত্মীয়স্বজন। এদের মধ্যে কেউ আবার মারমুখি। ফলে বিষয়টি নিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।

জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিকেল বিভাগ ব্লাড ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা ব্লাড ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা ডা. দানিশ আরেফীন বলেন, রক্ত পরীক্ষা ও প্লাটিলেট বিভাজনের মেশিনটা অনেক দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। তবে একবারে যে নষ্ট হয়ে গেছে, সেটা বললে ভুল হবে। রক্তের প্লেটলেট বিভাজনের মেশিনটা লোড নিতে পারে না। বিদ্যুৎতের লো ভোলটেজ দেখায়। বিষয়টি অনেকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ঠিক করবে বলে আশ্বাসও দিয়েছেন। দুই সপ্তাহে আগে এ বিষয়ে একটি লিখিত দরখাস্তও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্ল্যাটিলেট বিভাজনের মেশিনটা যতক্ষণ না ঠিক করা হচ্ছে ততক্ষণ রোগীদের বিকল্পপথ দেখতে হবে। এমন বিষয়ে রোগী আসলে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শান্তিনগরের কোয়ান্টামে গিয়ে রক্তের অংশের ভাগ করে আনতে বলি। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সফিউশন মেডিকেল বিভাগ ব্লাড ব্যাংকের সহকারী অধ্যাপক ডা. ওয়াসিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, মেশিনটা কতদিন ধরে নষ্ট তা আমি জানি না। আমি মাত্র কিছুদিন আগে এখানে বদলি হয়ে এসেছি। এসেই জানতে পারি, রক্ত পরীক্ষার ও বিভাজনের মেশিনে সমস্যা রয়েছে। ঠিকঠাক লোড টানতে পারে না। দেশে এই মেশিন ঠিক করার মতো টেকনেশিয়ানও নেই। এক্ষেত্রে বিকল্প একটাই, বাইরে থেকে প্ল্যাটিনাম বিভাজন করিয়ে আনা। সংকটাপন্ন রোগীদের আত্মীয়-স্বজনকে আমারা সেই পরামর্শই দিচ্ছি।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই

মিটফোর্ড,ডেঙ্গু রোগিী,রক্তের প্লাটিলেট
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত