Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

যেভাবে আহমদ ছফা মারা গিয়েছিলেন

প্রকাশ:  ২৮ জুলাই ২০১৯, ১০:৪৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট icon

বাংলাদেশর কিংবদন্তি লেখক, কথাসাহিত্যিক ও দার্শনিক আহমদ ছফার ১৮তম প্রয়াণ দিবস রোববার (২৮ জুলাই) । তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলার চান্দনাইশ থানার গাছ বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

আহমদ ছফা বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের মানচিত্র অঙ্কন করেছেন। করেছেন বুদ্ধিজীবীদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশের কী দুর্দশা হতে পারে তার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে রচিত ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ প্রবন্ধগ্রন্থে উন্মোচন করেছেন সুবিধাবাদিতার নগ্ন রূপ। তার রচিত প্রতিটি উপন্যাসই ভাষিক সৌকর্য, বিষয়বস্তু ও রচনাশৈলীর অভিনবত্বে অনন্য। মানসিক, সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুষঙ্গসহ ছফার চরিত্র সৃষ্টির তথা কাহিনীকথনের সৃষ্টিকরণ ছিলো অসামান্য।

নূরুল আনোয়ার নামে তার এক ভক্ত আহমদ ছফার ১৮তম প্রয়াণ দিব‌সের শ্রদ্ধাঞ্জ‌লি এবং কিছু মন‌বেদনা তুলে ধরে ফেসুবকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।। স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

সময় কখনও থে‌মে থা‌কে না। দেখ‌তে দেখ‌তে আহমদ ছফার মৃত্যুর আঠার বছর হ‌য়ে গেল। এই আঠার বছর তো ব‌টেই, তার আগেও আমি সুখ কি জি‌নিস কখনও পু‌রোমাত্রায় অনুভব কর‌তে পা‌রি‌নি। আমার জীবনটা দুঃখময়। এ দুঃ‌খের জীব‌নের একটা বড় অং‌শের জন্য দা‌য়ী আহমদ ছফা।

আহমদ ছফা আমা‌কে অ‌নেক দি‌য়ে‌ছেন, আবার অ‌নেক‌কিছু আমার কাছ থে‌কে কে‌ড়েও নি‌য়ে গে‌ছেন। সেই ছোটকাল থে‌কে তি‌নি আমার চিন্তা‌ চেতনায় এমন কিছু জি‌নিস ঢু‌কি‌য়ে দি‌য়ে‌ছি‌লেন অদ্যাব‌ধি তার থে‌কে নিস্তার মিল‌ছে না, বা‌কি জীব‌নেও রেহাই পা‌ব সে ভরসাও রা‌খি না। বু‌কের ভেতর একটা গোপন কষ্ট সবসময় কান্না ক‌রে। আমি পু‌রো মাত্রায় একজন ব্যর্থ মানুষ। আমি পা‌রি‌নি নি‌জের জন্য কিছু কর‌তে, পা‌রি‌নি প‌রের জন্য। এটার বড় কারণ আহমদ ছফার চেনা পথ থে‌কে আমি বিচ্যুত হ‌তে পা‌রি‌নি। কিন্তু এ পথটা যে এত কন্টকময় আমার জানা ছিল না। প্র‌তি প‌দে প‌দে নানা বাধা এবং নানা মানু‌ষের নিষ্ঠুরতা ছাড়া আমি কিছু পাই‌নি। অবশ্য এজন্য আমার দুঃখ‌বোধও নেই। এটা আহমদ ছফার জীবন থে‌কে আমার নেয়া শিক্ষা। আহমদ ছফা প্র‌তিবাদ কর‌তেন, আমিও ক‌রি। মা‌ঝে মা‌ঝে তার ম‌তো আমিও চুপ‌সে যাই। নানাজ‌নে তাকে যখন অপবাদ দিত তখন অ‌নে‌কে বলত, আপ‌নি প্র‌তিবাদ কর‌ছেন না কেন? তখন তি‌নি বল‌তেন, সব‌কিছুর প্র‌তিবাদ হয় না। আমার চুপ থাকা, আমার মূ‌র্তিমান উপ‌স্থি‌তি কি তার প্র‌তিবাদ নয়? আমিও তা বিশ্বাস ক‌রি।

আহমদ ছফার তি‌রোধা‌নের পর এ আঠার বছর ধ‌রে আমি যত শত্রু তৈ‌রি ক‌রে‌ছি তার চেয়ে বন্ধুর পাল্লাটা এ‌কেবা‌রে অল্প। অ‌নে‌কে আমার সাম‌নে সুন্দর সুন্দর কথা ব‌লে পেছন থে‌কে এমন আঘাত ক‌রে তখন আমি পা‌রি না হাস‌তে, পা‌রি না কাঁদ‌তে। আমি য‌দি এ আঠার বছর আহমদ ছফার পেছ‌নে সময় ব্যয় না ক‌রে আপন ম‌নে নি‌জের মৌ‌লিক লেখা লি‌খে যেতাম আমার সা‌হি‌ত্যের পাল্লাটা অনেক ভা‌রি হ‌তো। সক‌লে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন আমি নাম কামাবার জন্য কিংবা অ‌র্থের লো‌ভে আহমদ ছফার পেছ‌নে সময় ব্যয় ক‌রি‌নি। আমা‌কে স‌ত্যিকা‌রের একজন লেখক বানাবার জন্য আহমদ ছফা ক‌রেন‌নি এমন কোন কাজ বা‌কি রা‌খেন‌নি। আমি তার হ‌য়ে কিছু কাজ করার চেষ্টা ক‌রে‌ছি দা‌য়িত্ব‌বো‌ধের জায়গা থে‌কে, কিন্তু এটা দায় শোধ করা বল‌লে ভুল হ‌বে। আমি যে কলম ধরাটা শি‌খে‌ছিলাম সেটা তারই কল্যা‌ণে। এ ঋণ কি কখনও শোধ করা যায়!

প্র‌তি বছর এ সময়টা এ‌লে কোনও না কোনও কার‌ণে আমা‌কে ঢাকার বাই‌রে থাক‌তে হয়। ঢাকায় থাক‌লে আহমদ ছফার কব‌রে গি‌য়ে আনম‌নে অ‌নেক কথা ব‌লি। তার কা‌ছে পরামর্শ চাই। জবাব পাই না। জবাব পাওয়ার কথাও নয়। বেঁ‌চে থাকা অবস্থায় যেসব কথা ব‌লে‌ছি‌লেন তার থে‌কে জবাব খোঁজার চেষ্টা ক‌রি। খুব আবেগী হ‌য়ে গে‌লে তার সমা‌ধি‌তে দু’ফোঁটা চো‌খের পা‌নি ঝরাই। ভেত‌রে ভেত‌রে কোথা থে‌কে একটা সাহস আসে, সব‌কিছু ঝে‌ড়ে ফে‌লে দি‌য়ে সাম‌নে এ‌গি‌য়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই। তার সমা‌ধি‌তে গে‌লে আমার কেন জা‌নি ম‌নে হয় এটা সাহস এবং সততার প্রতীক।

আজ আটাশ জুলাই। আহমদ ছফা যে‌দিন গত হন সে‌দিন শ‌নিবার ছিল, আজ র‌বিবার। এ দিন‌টির কথা নানা কার‌ণে সবসময় ম‌নে প‌ড়ে। আজ বে‌শি ক‌রে ম‌নে পড়‌ছে। যে‌দিন তি‌নি মারা যান সে‌দিন আমি অ‌ফি‌সে ছিলাম। মুষলধা‌রে বৃ‌ষ্টি ছিল। আগের দিন সিরাজগ‌ঞ্জের চলন‌বিল থে‌কে ঢাকায় ফি‌রি। ঘ‌রে ঢু‌কে তার পা ছুঁ‌য়ে সালাম ক‌রে‌ছিলাম। কোথাও গে‌লে ঘর থে‌কে বের হওয়ার সময় তার পা ছুঁ‌য়ে সালাম করতাম, ফি‌রে আবার পা দু‌’টো‌কে সম্বল ক‌রে নিতাম। এবারও তার ব্য‌তিক্রম ঘটল না। সে‌দিন দু’জ‌নের ম‌ধ্যে অ‌নেক কথা হ‌য়ে‌ছিল। শরীর ভা‌লো ছিল না। চোখ দু‌’টো ঘোলা হ‌য়ে গে‌ছে। চেহারা ফ্যাকা‌শে। একটা সিগা‌রেট জ্বা‌লি‌য়ে দু’টান দি‌য়ে অ্যাশ‌ট্রেতে গু‌ড়ি‌য়ে দি‌লেন। এই প্রথম দেখলাম সিগা‌রেট শেষ না ক‌রে নষ্ট কর‌তে।

কত প‌রিকল্পনার কথা জা‌নি‌য়ে‌ছি‌লেন সে‌দিন! ওঙ্কার সি‌নেমা হ‌বে, অ‌নেকগু‌লো লেখা লিখ‌তে হ‌বে, গানগু‌লো শিল্পী‌দের ক‌ণ্ঠে তু‌লে দি‌তে হ‌বে। জা‌তি‌কে কোনোভা‌বে নিরাশ করা যা‌বে না। সব‌চেয়ে বড় কাজ জীবনীটা শেষ করা। এটা শেষ কর‌তে না পার‌লে জা‌তি অ‌নেক কিছু থে‌কে ব‌ঞ্চিত হ‌বে। আয়ু‌তে কু‌লো‌বে কিনা স‌ন্দিহান ছি‌লেন। শরী‌রের অবস্থা বেগ‌তিক দে‌খে আমি বললাম, কথাগু‌লো ‌রেকর্ডা‌রে টেপ ক‌রে ফেলুন, আমি ট্রান্স‌ক্রিপশন ক‌রে নেব।

তি‌নি কোনও জবাব দি‌লেন না। সেই কাজ আর হয়‌নি। তারই অপূর্ণ ই‌চ্ছে‌টি পূরণ করার জন্য পরবর্তী‌তে আমি ‘ছফামৃত’ বই‌টি লেখার চেষ্টা ক‌রি। অ‌নেকটা দু‌ধের স্বাদ ঘু‌লে মেটা‌নোর ম‌তো। ম‌নে ম‌নে গ্রা‌মে একটা বা‌ড়ি করার প্রস্তু‌তিও নি‌য়ে‌ছি‌লেন। ম‌নে ক‌রি‌য়ে দি‌লেন আমাকে বি‌য়ে করতে হ‌বে। প‌রের দিন অ‌া‌মি অ‌ফি‌সে ছিলাম। দু‌’টোর দি‌কে ই‌দ্রিসের ফোন পেলাম। সে জানাল, স্যা‌রের শরীর ভা‌লো নেই। তি‌নি কেমন জা‌নি কর‌ছেন। আপনা‌কে তাড়াতা‌ড়ি আস‌তে ব‌লে‌ছেন।

মুষলধা‌রে বৃ‌ষ্টি। রাস্তাঘা‌টে রিকশা ছিল না। দেড় কি‌লো‌মিটার পথ বৃ‌ষ্টির ম‌ধ্যে আমা‌কে দৌঁড়া‌তে হ‌য়ে‌ছিল। ভেজা শরী‌রে বিশ মি‌নি‌টের ম‌ধ্যে বাংলামট‌রের বাসায় এ‌সে পৌঁছালাম। তখন তি‌নি বিছানায় ছটফট কর‌ছি‌লেন। হাত-পা অবশ হ‌য়ে যা‌চ্ছিল তার। ‌তি‌নি প্রচণ্ড গর‌মে অ‌স্থির। পাখার বাতাস‌েও স্ব‌স্তি পা‌চ্ছি‌লেন না। ভেজা কাপ‌ড়ে শরীর মু‌ছে দি‌তে বল‌লেন। তার মুখ থে‌কে নাম্বার শু‌নে শু‌নে আমি ঢাকা ক‌মিউ‌নি‌টি হাসপাতা‌লে ক‌য়েকবার ফোন কর‌লাম। তাঁর আকু‌তি একজন ডাক্তার যেন পাঠায়। অ‌নেকক্ষণ পর হাসাপতাল ডাক্তার না পা‌ঠি‌য়ে অ্যাম্বু‌লে‌ন্সে লোক পাঠা‌লেন। ডাক্তার পাঠান‌নি ব‌লে তি‌নি রে‌গে গে‌লেন।

তি‌নি কখনও হাসপাতা‌লে যে‌তে রা‌জি হ‌তেন না। হাসপাতা‌লে গে‌লে ডাক্তার তাকে ভ‌র্তি না ক‌রি‌য়ে ছা‌ড়েন না। এ হাসপাতালভী‌তি তার আগে থে‌কে ছিল। আমরা অ‌নেক বুঝালাম, ডাক্তার দে‌খি‌য়ে আবার বাসায় নি‌য়ে আসব। তি‌নি নি‌জের সিদ্ধা‌ন্তে অটল থে‌কে গে‌লেন। নানাকথা ব‌লে ভয়ঙ্কর রকম ক্ষে‌পতে থাক‌লেন। বল‌তে থাক‌লেন, আমার মন যেটা চায় না সেটা আমি ক‌রি না, কর‌তে পা‌রি না। একটু বা‌দে মারা যাব তখন ঠেলা বোঝ‌বে।

নিঃশ্বাস তখন ভারাক্রান্ত। ‌নিঃস্বা‌সের স‌ঙ্গে বুকটা ওঠানামা কর‌ছে। পা‌শে ব‌সে থে‌কে আমি অ‌নেকক্ষণ তার হাত পা মা‌লিশ কর‌ছিলাম। জান‌তে চাইলাম, ভাত খা‌বেন? জবাব দি‌লেন, না, পার‌লে একটুখা‌নি জাম্বুরার রস দাও। বাসায় ব্ল্যান্ডার ছিল না। ই‌দ্রিস জাম্বুরার দানা চে‌পে চে‌পে রস বার কর‌তে থাকল। আমার অ‌স্থিরতা কোনোভা‌বে থাম‌তে চাইল না। কী করব সে‌টিও আমার জানা ছিল না, শুধু ছটফট কর‌ছিলাম। জাম্বুরার রস আনার জন্য ও ঘ‌রে যে‌তেই হাসপাতাল থে‌কে আসা র‌ঞ্জিত বল‌লেন, আনোয়ার ভাই, স্যার কেমন জা‌নি কর‌ছেন। এ রকম কি আর কখনও ক‌রে‌ছেন?

আমি দ্রুত ছু‌টে এলাম। ‌এ‌সে দে‌খি তার চোখ দু‌’টি স্থির, মুখ হা করা। দেখলাম শব্দ ক‌রে একটা হেঁচ‌কি ওঠল। আমি ভয় পে‌য়ে গেলাম। নিঃশ্বাস আট‌কে যা‌চ্ছে ভে‌বে আমি তার মাথাটা উঁচু ক‌রে নিলাম। তারপর হা করা মু‌খে আমি একটুখা‌নি জাম্বুরার রস ঢে‌লে দিলাম। তার পর পরই আরেক‌টি হেঁচ‌কি, তারপর সব শেষ। আমি ম‌নের অজা‌ন্তে একটা চিৎকার দি‌য়ে উঠলাম। কিন্তু আমরা ‌কেউ বিশ্বাস কর‌তে চাই‌নি তি‌নি নেই। আমরা তাড়াতা‌ড়ি তাকে উ‌ঠি‌য়ে নি‌য়ে চারতলা থে‌কে নি‌চে অ্যাম্বুলে‌ন্সে নি‌য়ে এলাম। মানুষ মারা গে‌লে যে এত ভার‌ি হয় এই প্রথম টের পেলাম।

আমরা তাকে অ্যাম্বু‌লেন্সে তোলার পর চালক দে‌রি না ক‌রে দ্রুত ছুট‌তে আরম্ভ করল। খা‌নেকটা যানজ‌টেও পড়‌তে হ‌য়ে‌ছিল। ঢাকা ক‌মিউ‌নি‌টি হাসপাতা‌লে এলে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়‌তে হ‌য়। একজন অ‌চেনা ডাক্তার মুমূর্ষ রো‌গির দা‌য়িত্ব নি‌তে রা‌জি ছি‌লেন না। তি‌নি বারবার বল‌তে থাক‌লেন, এ রো‌গি‌কে এখা‌নে রাখা যা‌বে না, তাকে ঢাকা মে‌ডি‌কে‌লে নি‌য়ে যান। আমি তার কথা শু‌নে যা‌চ্ছিলাম, কিন্তু আমার করার কিছু ছিল না। আমি অ‌নেক আগেই আমার মু‌খের কথা হা‌রি‌য়ে ফে‌লে‌ছিলাম। আমি কোন কথা বল‌তে পার‌ছিলাম না। ওই সময় খবর পে‌য়ে ডাক্তার কাজী কামরুজ্জামান ছু‌টে এ‌সে তাঁকে ইমা‌র্জে‌ন্সি‌তে নি‌য়ে গে‌লেন। তার স‌ঙ্গে ছু‌টে এলেন আরও ক‌য়েকজন ডাক্তার। ডাক্তাররা ‌মি‌লে অ‌নেক পরীক্ষা নী‌রিক্ষা ক‌রে দেখ‌লেন, কিন্তু তাঁদের নিরাশ হওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকল না। তারা নি‌শ্চিত হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছি‌লেন বাংলাসা‌হি‌ত্যের এক‌টি উজ্জ্বল নক্ষ‌ত্রের পতন হ‌য়ে গে‌ছে।

‌যে মানুষ‌টির শেষ নিঃশ্বাস আমার হা‌তে নিঃ‌শেষ হ‌লো সেই মানুষ‌টি‌কে প‌রের দিন আমি মিরপুর কবরস্থা‌নে নি‌জের হা‌তেই শুই‌য়ে দিলাম। যে মানুষ‌টি আমার বাবা আস‌নে ব‌সে আমা‌কে মানুষ ক‌রে‌ছেন, কখনও কোন‌কিছুর অভাব বুঝ‌তে দেন‌নি, সে মানুষ‌টির শেষ নিঃশ্বাস‌টি আমা‌কে এমনভা‌বে দেখ‌তে হ‌লো। সব‌চে বড় কষ্ট আমা‌কে এখনও তা‌ড়ি‌য়ে বেড়ায় আমি নি‌জের হা‌তে তাকে কব‌রে শুই‌য়ে দি‌য়ে‌ছিলাম। ড. হো‌সেন জিল্লুর রহমান যখন বল‌লেন, আনোয়ার যাও, আর দে‌রি ক‌রো না।

আমি তার আদে‌শে অ‌নেকটা স্ত‌ম্ভিত হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিলাম। একটু সময় নি‌য়ে আমি কব‌রে নে‌মে প‌ড়ি। প‌রি‌বেশ প‌রি‌স্থি‌তির কার‌ণে মানুষ‌কে অ‌নেক সময় নিষ্ঠুর হ‌তে হয়, যে‌টি আমা‌কে হ‌তে হ‌য়ে‌ছিল। ঘুটঘু‌টে রা‌তের আধা‌রে তাঁকে মিরপুর গোরস্থা‌নে রে‌খে এ‌সে‌ছিলাম সে দুঃসহ সময়‌টির কথা আমি কি কখনও ভুল‌তে পারব!

আহমদ ছফা ছি‌লেন আমার শিক্ষক, আমার বাবা, আমার বন্ধু। তি‌নি আমা‌কে ‌শিক্ষক হ‌য়ে শিক্ষা দিয়ে‌ছেন, বাবার ম‌তো আদর দি‌য়ে শাসন ক‌রে‌ছেন, বন্ধু হ‌য়ে ভা‌লোবাসার কথা শু‌নি‌য়ে‌ছেন। আমি আর কী চাই! সা‌হি‌ত্যের রাজকুমার ‌তোমার প্র‌তি আমার শ্রদ্ধাঞ্জ‌লি।

পূর্বপশ্চিম/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত