• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

প্রিয়া সাহার গ্রেফতার দাবিতে ফেসবুক উত্তাল, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশ:  ১৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৬ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ০৯:২১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
ট্রাম্পের কাছে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা (কালো কোট পরা)

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ও গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‍‌'বাংলাদেশে নাকি ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি। ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।' গত বুধবার ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে প্রিয়া সাহা এসব মিথ্যাচার করেন।

এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুক যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বইছে প্রতিবাদের ঝড়। সবাই তাকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। অনেকেই ফেসবুকে লিখছেন, প্রিয়া সাহা এই দেশের নাগরিক হয়ে কিভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে সুদূর আমেরিকায় গিয়ে ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করতে পারেন। এর পেছনে কার হাত আছে? কেউ বলছেন, প্রিয়া সাহার এই রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের শাস্তি তাকে পেতেই হবে। তিনি এই দেশের জন্য শহিদ হওয়া ৩৩ লাখ মানুষের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে তার ছবিও রয়েছে। অনেকেই এসব ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

খুশি কবিরের সঙ্গে প্রিয়া সাহা

প্রিয়া সাহার এই কুকর্মের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, দেশ ও সরকার বিরোধী এক গভীর ষঢ়যন্ত্র! কে এই প্রিয়াসাহা? যার স্বামী দুদকের সহকারী পরিচালক মলয় সাহা! তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবার সুযোগ থাকলেও তা না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে গিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী অভিযোগ করেছেন কেন? হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্যপরিষদের নেত্রী তিনি। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। মেনন, মোজাম্মেল, খুশি কবিরদের সাথে তার ছবি।তার ট্রাম্পের কাছে করা রাষ্টের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়।সরকার এখন কি বলবে????

সাংবাদিক নেতা আলমগীর লিখছেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করবো ভাবছি।

মুনতাসির মামুন নামে আরেক সাংবাদিক নেতা লিখেছেন, এই ভিডিও যদি সত্যি হয়, তাহলে রাষ্ট্রের উচিত তাকে খুঁজে বের করে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা।

কালের কণ্ঠের সাংবাদি মাহমুদ হাসান আরিফ লিখেছেন, এমন দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বানোয়াট বক্তব্য প্রিয়া সাহা কিভাবে দিলেন? তার এই মিথ্যা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত-মিয়ানমারে চলতে থাকা মুসলিমদের ওপর ক্রমাগত হত্যা-নির্যাতন যেমন আরো বাড়তে পারে, তেমনি এ দেশেও তথাকথিত কিছু মুসলিমের উগ্রতার শিকার হতে পারে হিন্দুরা। তিনি আসলে সবাইকেই ঝুঁকিতে ফেলতে চাইছেন।অবিলম্বে এই নারীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাশিদা হক কনিকা তার ফেসবুক পেজে এই ঘটনার প্রতিবাদে লিখছেন, সেখানে এই মহিলা কিভাবে পৌঁছালো,কারা নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াচ্ছে তা কিন্তু স্পষ্ট। ট্রাম্পের সেখানে যে ক'টি দেশের তালিকা ছিল,সেখানে বাংলাদেশের নাম ছিল না। তাহলে কেনো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হলো,কারা এই প্ররোচনায় এই মহিলাকে দিয়ে প্ররোচিত করেছে। সেসব ষড়যন্ত্রকারীর আসল চেহারা জনসম্মুখে বের করা আনা সময়ের দাবি। এটা নিশ্চিত যে, এটা বিরাট ধরনের কোন ষড়যন্ত্রের অংশ।এই মহিলার পেছনে কোন সে শক্তি, তাদের দ্রুত শনাক্ত করা হোক। যেখানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে ট্রাম্পের সহযোগিতা চায়নি।সেখানে এই মহিলা মিথ্যে বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্র মূলক নালিশ দিয়েছে। সবাই প্রস্তুত হন এদের মুখোশ উন্মোচন করতেই হবে। বাংলাদেশে এখন এই সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা মহান তবিয়তে আছে। রাজার হালে থেকেও তাদের দেবতা ট্রাম্পের কাছে নালিশ করতে গেছে এই মহিলা! আসলে মহিলাটি হলো রানা দাস গুপ্তের রক্ষিতা। নয় এতো বড় মিথ্যে বানোয়াট কথা ট্রাম্পের কাছে করতে পারতো না।

পূর্বপশ্চিম/ এআর

প্রিয়া সাহার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত