Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

বড় কোনো সংশোধনী ছাড়াই অর্থবিল-২০১৯ পাস

প্রকাশ:  ৩০ জুন ২০১৯, ০১:২২ | আপডেট : ৩০ জুন ২০১৯, ০১:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

আমদানি পণ্যের শুল্কহার সংশোধন, পুঁজিবাজারে প্রণোদনায় সংশোধন, একাধিক মূসক হার প্রচলন, শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ সীমাবৃদ্ধিসহ বেশ কিছু পরিবর্তন ও সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে অর্থ বিল ২০১৯ পাস হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি গত ১৩ জুন উত্থাপন করা হয়। এর আগে কর কাঠামোতে সামান্য কিছু পরিবর্তনের বিষয় সংসদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ।

বিলে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থবছরের জন্য আর্থিক বিধান সংবলিত কর ও শুল্ক প্রস্তাবের জন্য কতিপয় আইন ও বিধানের সংশোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিলে উল্লিখিত বিধানসমূহ ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করারও বিধান করা হয়েছে। এ বিলের বিভিন্ন কর প্রস্তাবের ওপর বেশ কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

সরকারি দলের আ স ম ফিরোজ, আবদুস শহীদ, ইসরাফিল আলম, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, মশিউর রহমান রাঙ্গা, পীর ফজলুর রহমান, রওশন আরা মান্নান, মজিবুল হক চুন্নু, রুস্তম আলী ফরাজী, লিয়াকত হোসেন খোকা, বিএনপির হারুনুর রশীদ, রুমিন ফারহানা, জাসদের শিরীন আকতার ও গণফোরামের মোকাব্বির খান বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনীর প্রস্তাব আনেন।

এর মধ্যে আ স ম ফিরোজ, আবদুস শহীদ, ইসরাফিল আলম, কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, মজিবুল হক চুন্নু, মশিউর রহমান রাঙ্গা, রওশন আরা মান্নান এবং হারুনুর রশীদ আনা ২৯টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বাকি সংশোধনী ও অন্যান্য প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

অর্থ বিল উপস্থাপন করার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী অসুস্থ। তার ডেঙ্গু হয়েছে। তারপরও তিনি সংসদে এসেছেন। তার সুস্থ্যতা কামনা করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি যে পরিমাণ স্টক ডিভিডেন্ট প্রদান করবেন, একই পরিমাণ নগদ ডিভিডেন্ট দেবেন। এক্ষেত্রে স্টক ডিভিডেন্টের পরিমাণ নগদ ডিভিডেন্টের চেয়ে বেশি দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সকল স্টক ডিভিডেন্টের উপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান করতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই কর ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল।

এছাড়া পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির করবর্তী নিট লাভের ৭০ শতাংশ রিটেইন আর্নিংস, রিজার্ভসহ বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করতে পারবেন। বাকি ৩০ শতাংশ স্টক, ডিভিডেন্ট ও নগদ লভাংশ দিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে প্রতিবছর রিটেইন আর্নিংস ও রিজার্ভসহ স্থানান্তর মোট অর্থের উপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

তিনি বলেন, শেয়ার বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক মূসক হার প্রচলন করা হচ্ছে।

‘তবে ১৫ শতাংশের নিচের হারগুলোতে উপকরণ কর রেয়াত নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ব্যবসায়ীরা হ্রাসকৃত হারের পরিবর্তে উপকরণ করগ্রহণ করে ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদানে সুযোগ সৃষ্টির জন্য দাবি করেছেন। হ্রাসকৃত কর হারের পাশাপাশি কেউ চাইলে যেন ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে রেয়াত পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন- আইনে সে বিধান আনা হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁত শিল্পের উপর ৫ শতাংশ মূসকের পরিবর্তে সুতার কেজি প্রতি ৪ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট হারে মূসক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশীয় শিল্প রক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু শুল্ক হ্রাস-বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে দেশের কাগজ ও গ্যাস উৎপাদনকারী শিল্প যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কালোটাকা সাদা করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় কিছু অপ্রদর্শিত অর্থ আসে। এসব টাকা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে না। সেজন্য কিছুটা সুযোগ-সুবিধা দিতে এ ব্যবস্থা। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। একজন সদস্য সুইস ব্যাংকে টাকার বিষয়ে বলেছেন।

গত নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনে ৬৯২ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। কোনো আসনে ২ জন, কোনো আসনে ৩জন। মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে এটি করা হয়েছে। সেই টাকা কোথায় গেলো? সেটার খোঁজ নিলেই হিসাব পেয়ে যাবেন,’ যোগ করেন তিনি।

চলতি বছরের ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়। বাজেট উপস্থাপনের পর বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা এবং সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এ দুটি বিষয়ে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি।

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রস্তাবই বহাল রাখা হয়েছে পাসকৃত অর্থ বিলে। প্রস্তাবিত বাজেট রোববার (৩০ জুন) সংসদে পাস হওয়ার কথা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

জাতীয় সংসদে অর্থ বিল ২০১৯,প্রধানমন্ত্রী,শেখ হাসিনা,প্রস্তাবিত বাজেটের প্রস্তাব
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত