Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

মমতাজউদ্দীন ছিলেন বিগ অ্যাসেট: কাদের

প্রকাশ:  ০৩ জুন ২০১৯, ১৩:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

খ্যাতিমান নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমেদ একটা বিগ অ্যাসেট ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৩ জুন) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মমতাজউদদীন আহমেদের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তার মৃত্যুতে আমাদের হিউজ লস হয়ে গেল। তার মৃত্যুর ক্ষতি সহজে পূরণ হবে না। বিরল প্রতিভার অধিকারী ভাষাসংগ্রামী এই নাট্যকার ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন সাধাসিদে।

তিনি বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদালপী। নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত। মঞ্চনাটক রচনায় যে পথ তিনি দেখিয়েছেন দেশের নাট্যাঙ্গন তাকে অনুসরণ করবে, অনুকরণ করবে- এটাই আমরা আশা করি।

এসময় ‘শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতে’ কীর্তিমান ব্যক্তিদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে তাদের কর্মকাণ্ড আর্কাইভ করে রাখার দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আর্কাইভ অধিদপ্তর আছে। বিষয়টি যাতে কার্যকর থাকে- এ ব্যপারে আমি অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, প্রো ভিসি মুহাম্মদ সামাদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ, রামেন্দু মজুমদার, রহমতুল্লাহ, খায়রুল আলম সবুজ ও সালাউদ্দিন লাভলু এসময় সেখানে ছিলেন।

জানাজা শেষে প্রয়াত মমতাজউদদীন আহমদের মরদেহে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

দীর্ঘদিন রোগভোগের পর রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোববার (২ জুন) বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে মারা যান মমতাজউদ্দীন আহমেদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী কামরুননেসা মমতাজ, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ বহু ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।

মমতাজউদ্দীন আহমেদে ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কলিমুদ্দিন আহমদ ও মা সখিনা বেগম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

ছাত্রাবস্থায় তিনি বাম রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালে গোলাম আরিফ টিপুর সঙ্গে তিনি রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজশাহী কলেজে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণেও ভূমিকা পালন করেন। রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে চারবার কারাবরণও করেন।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ ৩২ বছরের বেশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

মমতাজউদ্দীন আহমেদের লেখা জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘বিবাহ’, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘বর্ণচোরা’, ‘এই সেই কণ্ঠস্বর’, ‘কী চাহ শঙ্খচিল’, ‘সাতঘাটের কানাকড়ি’, ‘রাজা অনুস্বারের পালা’, ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’, ‘সুখী মানুষ’, ‘রাজার পালা’, ‘সেয়ানে সেয়ানে’, ‘কেস’, ‘ভোটরঙ্গ’, ‘উলটো পুরান’, ‘ভেবে দেখা’ উল্লেখযোগ্য। রচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘প্রসঙ্গ বাংলাদেশ’, ‘প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু’, ‘আমার ভিতরে আমি’, ‘জগতের যত মহাকাব্য’, ‘সাহসী অথচ সাহস্য’, ‘নেকাবী এবং অন্যগণ’, ‘সজল তোমার ঠিকানা’, ‘এক যে জোড়া’, ‘এক যে মধুমতি’, ‘অন্ধকার নয় আলোর দিকে’। মমতাজউদদীন আহমদের লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বারের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

একজন জাঁদরেল অভিনেতা হিসেবেও তিনি অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। চির ঠাঁই করে নিয়েছেন মানুষের মনে। মমতাজউদ্দীন আহমেদ শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তার কর্মজীবনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

মমতাজউদ্দীন ১৯৭৭-৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

শিল্প ও সাহিত্যাঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ সম্মাননা, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।


পিপিবিডি/এসএম

মমতাজউদ্দীন আহমেদ,ওবায়দুল কাদের
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত