Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত

প্রকাশ:  ০১ জুন ২০১৯, ১৩:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

মুসলমানদের সবচেয়ে প্রিয় মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসটি মূলত ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবেই মোমিন-মুসলমানদের কাছে পরিচিত।তাই রমজানের সাহরি ও ইফতারের ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ যাবতীয় খরচ নিখুঁত, পবিত্র ও সৎ অর্থের মাধ্যমে উপার্জিত হতে হবে।

এদিকে, হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ (শনিবার ১ জুন)। লাইলাতুল কদর শবে কদর নামে সমধিক পরিচিত। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এদিন দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।পবিত্র শবে কদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহ’র নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগী করবেন।

ইবাদত, আত্মশুদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে এ মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে। রমজানুল মুবারকের ফজিলত ও বরকত পেতে হলে রোজাদারকে বৈধ পন্থায় উপার্জিত খাবার গ্রহণ করতে হবে।অন্যথায় রোজার সুফল পাওয়া যাবে না। এ কথা সব ইবাদতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের আমি যেসব পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো। পাশাপাশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করে থাকো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৭২)

বৈধভাবে উপার্জনের নির্দেশ প্রত্যেক নবীর জন্য প্রযোজ্য ছিল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলরা! তোমরা পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫১)

অবৈধভাবে উপার্জিত খাবার খেয়ে ইবাদত করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে না। ওই ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই গোশত (দেহ) জান্নাতে যাবে না, যা হারাম (খাবার) থেকে উৎপন্ন। জাহান্নামই এর উপযোগী।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ১৭২৩, তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৬১৪)

মহান আল্লাহ সত্ভাবে জীবিকা নির্বাহ করার বহু পথ খোলা রেখেছেন। যেমন—ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, অফিস-আদালত, বিবিধ কল-কারখানা, যানবাহন, ক্ষেত-খামারে দিনমজুর বা শ্রমিকের কাজ করা ইত্যাদি।

ইসলাম এক মহাসৌন্দর্যমণ্ডিত জীবনবিধান। মানুষের জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় করার উদ্দেশ্যে ইসলামের বহু বিধিবিধান দেওয়া হয়েছে। ইসলামে যদি কোনো জিনিস হারাম করা হয়, তাহলে তার পরিবর্তে কোনো উত্কৃষ্টতর জিনিসকে হালাল করে দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে অতীব উত্তম বিকল্প পেশ করা হয়েছে। সে বিকল্প এমন যে তার দ্বারা একদিকে যেমন সব বিপর্যয় সৃষ্টিকারী জিনিসের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তেমনি হারাম জিনিসের ওপর নির্ভরশীলতা নিঃশেষ হয়ে যায়। যেমন—ইসলাম পাশা খেলার মাধ্যমে ভাগ্য জানা হারাম করে দিয়েছে। তার পরিবর্তে ইস্তিখারার দোয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ইস্তিখারার মাধ্যমে কোনো কাজের ভালো-মন্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

ইসলাম সুদ খাওয়া হারাম করে দিয়েছে। তার পরিবর্তে মুনাফাপূর্ণ ব্যবসা বৈধ করে দিয়েছে।

ইসলাম জুয়া খেলা হারাম করেছে, তার পরিবর্তে ঘোড়া, উট ও তীরের প্রতিযোগিতালব্ধ ধন-সম্পদ গ্রহণ বৈধ করেছে। শর্ত হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত তা শরিয়তের পরিপন্থী না হয়।

ইসলাম পুরুষদের রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তার পরিবর্তে সুতা, পশম, কাতানের বিভিন্ন সৌন্দর্যময় পোশাক বৈধ করেছে। ইসলাম জিনা-ব্যভিচার হারাম করেছে। তার পরিবর্তে বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে বৈধ উপায়ে যৌন সঙ্গম বৈধ করেছে। ইসলাম মাদকদ্রব্য হারাম করেছে। তার পরিবর্তে দেহ ও মনের উপকারী সুস্বাদু পানীয় হালাল করে দিয়েছে। ইসলাম খারাপ ও নিকৃষ্ট ধরনের খাদ্য হারাম করেছে। তার পরিবর্তে উত্তম, উত্কৃষ্ট ও ভালো খাদ্য হালাল করে দিয়েছে।

এভাবে ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা একদিকে মানুষের জন্য কোনো কোনো জিনিস হারাম করেছেন, অন্যদিকে বহু জিনিস হালাল করে জীবনে বিপুল প্রশস্ততা এনে দিয়েছেন। একদিকের দুয়ার বন্ধ করে তিনি অন্যদিকের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আসলে ইসলামের বিধিবিধান স্রষ্টার আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য, মানুষের জীবন সংকীর্ণ করার জন্য নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার (২৭-২৮) আয়াতে এসেছে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করতে চান; কিন্তু যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় তোমরা ভীষণভাবে সত্যপথ বিচ্যুৎ হও। আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করতে চান। কেননা মানুষ তো দুর্বলতম সৃষ্টি।

পিপিবিডি/জিএম

পবিত্র মাহে রমজান,ইসলাম,অবৈধভাবে উপার্জিত খাবার,সাহরি ও ইফতার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত