• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

অমিতের আপত্তিতে কান দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ:  ৩১ মে ২০১৯, ০২:৫৮ | আপডেট : ৩১ মে ২০১৯, ০৩:০৫
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই কারাবন্দীর মধ্যে মারামারিতে অমতি মুহুরি (৩২) নামে এক কারাবন্দী নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে তোলাপাড় চলছে কারা প্রশাসনে। জানা গেছে, কারাগারের ৩২ নম্বর সেলে রিপন নামের অন্য এক বন্দীর সঙ্গে অমিত মুহুরির মারামারি হয়। একপর্যায়ে রিপনের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন অমিত। বুধবার রাত ১০টায় এ ঘটনার পর আহত অমিতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, অমিত মুহুরী আর রিপন নাথের বিরোধ দীর্ঘদিনের । চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সব বন্দীই বিষয়টি অবগত, কারারক্ষীরাও তা জানেন। তবু তাদের এক কক্ষে কেনো রাখা হলো তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

পুলিশ ও কারাগার সূত্র জানায়, ৬ নম্বর কক্ষে অমিত মুহুরী, বেলাল ও দেলোয়ার নামে তিনজন হাজতি বন্দি ছিলো। এদের মধ্যে দেলোয়ার বুধবার জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পায়। জেল কোড অনুযায়ী কোনো কক্ষে দুইজন হাজতি রাখার নিয়ম নেই। তাই বিকেলে ১ নম্বর কক্ষ থেকে রিপন নাথকে ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করে কারাগার কর্তৃপক্ষ।

রিপন নাথকে ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করার সময় ‘আপত্তি’ জানিয়েছিলেন অমিত মুহুরী। অমিত বলেছিলো- ওই কক্ষে রিপন ছাড়া যেন অন্য কাউকে দেওয়া হয়। কিন্তু অমিতের আপত্তির সত্ত্বেও রিপন নাথকে ওই কক্ষে স্থানান্তর করা হয়।

রিপনকে তার কক্ষে দেওয়ার সময় অমিত মুহুরীর আপত্তি জানানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেনচট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন। রিপন নাথ অসুস্থ হয়ে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো বলে জানান তিনি। বুধবার সুস্থ হলে তাকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়’ ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করা হয় বলে দাবি এ সিনিয়র জেল সুপারের।

নিহত অমিত মুহুরি পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ ১৫টি মামলা আছে। ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দী ছিলেন। কারাগারে অমিত মুহুরী খুনের ঘটনায় এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে দায়িত্বরত দুই কারারক্ষিকে শোকজও করেছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন জেলার নাশির আহমেদ। মামলায় এজাহারে নাশির আহমেদ উল্লেখ করেন- হাজতি রিপন নাথ অর্ধ ভাঙা একটি ইট দিয়ে অমিত মুহুরীর মাথায় আঘাত করতে থাকে। গুরুতর আহত অমিত মুহুরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে মারা যায় সে।’

অভিযুক্ত রিপন নাথ সীতাকুণ্ড উপজেলার ফেদা নগর হেমন্ত সরকার বাড়ির নারায়ন নাথের ছেলে। সে পাহাড়তলী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দি আছে।

খুনের শিকার অমিত মুহুরী কোতোয়ালী থানার নন্দনকানন গোলাপ সিং লেইনের অরুন মুহুরীর ছেলে।

চট্টগ্রাম কারাগার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত