• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

লাপাত্তা ওসি মোয়াজ্জেম, মুখ খুলছেন না কেউ

প্রকাশ:  ৩১ মে ২০১৯, ০২:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিতর্কিত ওসি মোয়াজ্জেমকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেফতারের কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি কোথায় আছেন সে বিষয়েও কেউ মুখ খুলছেন না। বরং লাপাত্তা অবস্থায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন মোয়াজ্জেম। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গত মঙ্গলবার ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তবে তাকে গ্রেফতারে কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। এমনকি তার অবস্থান নিয়েও মুখ খুলছেন না কেউই।

সোনাগাজী থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর মেয়াজ্জেমকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, গত সপ্তাহ থেকেই তিনি মামলার কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এর মধ্যেই গ্রেফতার এড়াতে হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন মোয়াজ্জেম। হাইকোর্ট থেকে কোনো আদেশ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতারে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তাঁর কোনো হদিস মিলছে না। পরোয়ানা জারির আগে তিনি রংপুরে যোগদান করেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ১২ মে তিনি রংপুর ডিআইজি কার্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর ওই মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য তিনি ঢাকায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারে চলে যান। কর্মস্থলে তিনি অনুপস্থিত কি না জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যতদূর সম্ভব তিনি ছুটি নিয়ে যাননি।

মোয়াজ্জেমের পৈতৃক বাড়ি যশোর শহরতলির চাঁচড়া ডালমিল এলাকায়। যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা গতকাল রাতে কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের জবাবে জানান, ‘মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখন পর্যন্ত কোতোয়ালি থানায় আসেনি।’

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ খুরশীদ আলম খান ও আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিম্ন আদালতে (বিচারিক আদালত) আত্মসমর্পণ না করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। আর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলেই যে তিনি জামিন পাবেন এমনটি নয়।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর মা ২৭ মার্চ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তাঁর জবানবন্দি ভিডিওতে ধারণ করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নুসরাতকে হত্যার ঘটনার পরই নুসরাতের জবানবন্দির (ওসির কাছে দেওয়া) বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে গত ১৫ এপ্রিল মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৭ মে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর পলাতক অবস্থায় আগাম জামিনের জন্য বুধবার (২৯ মে) হাইকোর্টে আবেদন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন্।

পিপিবিডি-এনই/

ওসি মোয়াজ্জেম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত