• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

জামিন পেয়ে আদালতেই আইনজীবী স্ত্রীকে পেটালেন পুলিশ

প্রকাশ:  ২৯ মে ২০১৯, ২২:৫৯ | আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ২৩:১০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

জামিনে বেরিয়ে এসে আদালত প্রাঙ্গণেই আইনজীবী স্ত্রীকে পেটালেন পুলিশ পরিদর্শক স্বামী ও তার পরিবার। বুধবার দুপুররে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় পুলিশ পরিদর্শক স্বামী, শাশুড়ি এবং দেবরের মারধরে গুরুতর আহত হন আইনজীবী জাসমীন আহমেদ। জাসমীনের পেট ও বুকে উপর্যপুরি লাথি মারা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আব্দুর রউফ জানান, মুসলিম ও পারিবারিক আইনে অতিরিক্ত পিপি জাসমীন আহমেদ তার স্বামী পুলিশ পরিদর্শক আবু নকীব, তার মা জুবরিয়া বেগম ও ছোট ভাই আবু নাছের নিপুনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন। এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তারা তিনজন ৮ সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। এ জামিন নামা নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে বুধবার দুপুরে দাখিল করতে এসেছিলেন তারা।

প্রত্যক্ষদশীরা জানান, জামিন নামা দাখিল শেষে বের হওয়ার পথে আদালতের দরজার সামনে দেখা হয় মামলার বাদী জাসমীনের সঙ্গে। এসময় তারা তর্কে জড়িয়ে জাসমীনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আবু নকীব, তার ছোট ভাই নিপুন। ওইসময় অন্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে জাসমীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর তাদের ওপর ফুসে উঠে আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষ। এসময় পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু নকীব, তার ভাই ও মাকে কোর্ট গারদে নিয়ে আটক রাখেন পুলিশ।

আবু নকীবের বরাত দিয়ে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকা ট্রাফিকের দায়ীত্বরত পুলিশ পরিদর্শক আবু নকীব অনেক আগেই তার স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমীন আহমেদকে তালাক দিয়েছে। এরপর আবু নকীব ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে জাসমীন আহমেদ একাধিক মামলা করেছে। বুধবারও একটি মামলায় জামিন নামা দাখিল করতে আসলে জাসমীন তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু নকীব ও তার মা এবং ছোট ভাইকে হাজতে রাখা হয়েছিলো, পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জাসমীন আহমেদ জানান, আবু নকীব প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে প্রতারণা করে আমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর থেকে একাধিকবার আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে যৌতুক হিসেবে। সুখের সংসারের কথা চিন্তা করে তার নানা নির্যাতন সহ্য করেছি। আমি একজন আইনজীবী হয়েও নির্যাতিতা। তারপরও স্বামী-সংসারের জন্য অনেক লড়াই করতে হচ্ছে। এখন নির্যাতনের শিকার হলাম আদালতের দরজায়। আমি এর বিচার চাইবো।

পিপিবিডি-এনই/

নারায়ণগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত