• মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮
  • ||

ইউনিসেফের অ্যাওয়ার্ড জিতলো রাফসান নিঝুম 

প্রকাশ:  ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে টেক্সট ক্যাটাগরী (অনূর্ধ্ব-১৮)’তে প্রথম হয়েছেন সাংবাদিক রাফসান নিঝুম। নিঝুমের লেখা ‘বর্ণবাদমুক্ত পৃথিবীতে পরিচয় হোক মানুষ হিসেবে’ শিরোনামের জন্য তিনি জিতেছেন এই সম্মানজনক পুরষ্কার।

শিশুদের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার উৎকর্ষতাকে স্বীকৃতি দিয়ে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে ইউনিসেফ। করোনাভাইরাসের কারণে এবারের আসরটি আয়োজন করা হয়েছে অনলাইনে।

বর্ণবাদের ভয়াবহতা এবং কিছু অভিজ্ঞতা দিয়ে সাজানো নিঝুমের লেখা প্রকাশ পেয়েছিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকের মতামত পাতায়।

অনলাইনে আয়োজিত ১৬তম মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণে এবং শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির সম্মুখীন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস শিশু সাংবাদিকদের প্রতিবেদনকেও স্বীকৃতি দেয়। যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিশুদের জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে এমন সব বিষয়ে শিশুদের সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়াটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রতিবেদন লেখার পেছনে ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে রাফসান নিঝুম বলেন, “কাজ করতে যেয়ে দেখেছি কালো বর্ণের মানুষদের বিভিন্নভাবে ছোট করা হয়। গায়ের রঙ নিয়েও অপমান করা হয়। এবং এটা শুরু হয় জন্মের আগে থেকেই। ফর্সা সন্তান জন্ম, ফর্সা নারী বিয়েসহ অনেক ঘটনাই রয়েছে। আমি চেয়েছি, এই লেখার মাধ্যমে বর্ণবাদের ভয়াবহতা মানুষকে জানাতে!”

এবারের আসরে ২২ জন সাংবাদিককে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিত করেছে ইউনিসেফ! ইউনিসেফ জানিয়েছে, বিজয়ীদের ঠিকানায় ক্রেস্ট, সনদ ও অর্থ-পুরষ্কার পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

পুরষ্কার প্রাপ্তিতে অনুভুতি জানতে চাইলে নিঝুম বলেন, “যে কোন স্বীকৃতিই নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। আমার ছোট ক্যারিয়ারে এটি অনেক বড় একটা অর্জন। এমন সম্মাননা ভবিষ্যতে নতুন যে কোন কাজে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে।”

মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের এবারের আসরে টেক্সটভিত্তিক প্রতিবেদনের জন্য বিচারক ছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন, বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহনূর ওয়াহিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন।

ভিডিও প্রতিবেদনের জন্য বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ব্রডকাস্ট সাংবাদিক ফারজানা মিথিলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশে রয়টার্সের প্রধান সংবাদদাতা রুমা পাল।

ফটোগ্রাফির জন্য বিচারক ছিলেন রয়টার্সের ভিডিও সাংবাদিক এবিএম রফিকুর রহমান, অধিকারকর্মী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী আবু নাসের সিদ্দিক।

প্রসঙ্গত, রাফসান নিঝুম পড়ালেখা করছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হ্যালো বিভাগ দিয়ে শুরু হয় তার সাংবাদিকতার সূচনা।

দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন এবং দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে স্পাইস টেলিভিশনে ট্রেইনি জার্নালিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রোডাকশন হাউজ সল্ট কমিনিউকেশনসের হয়ে এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে মিডিয়ায় কাজ করছেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

রাফসান নিঝুম,ইউনিসেফ,অ্যাওয়ার্ড
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close