Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদে কাজের প্রস্তাব সম্পাদকদের

প্রকাশ:  ২৯ জুলাই ২০১৯, ১৬:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু এখন আতঙ্কের নাম। আর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে,ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতি প্রস্তাব করেছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকেরা।

সোমবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে ‘ডেঙ্গু মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্ন নগরী বিনির্মাণ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এতে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত সাংবাদিক রাহাত খান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম সম্পাদক জুয়েল মাজহার, দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, গাজী টেলিভিশন ও সারাবাংলাডটনেট’র এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, দৈনিক বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মশক নিধন কমিটির সভাপতি এম এ মান্নান এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডা. জিন্নাত আলী।

নিজেদের বক্তব্যে দীর্ঘমেয়াদে ও সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করার প্রস্তাব দেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। একইসঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও নগরবাসীর অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল থাকার আহ্বান জানান তারা।

সাংবাদিক রাহাত খান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সব নাগরিকের দায়িত্ব আছে। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনকেও তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া সম্পাদকদের একাংশবাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, মন্তব্য ও মতামত প্রকাশের সময় ঔদ্ধত্য না দেখিয়ে রোগীদের প্রতি, নগরবাসীর প্রতি সহানুভূতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়া উচিত। লোক দেখানো কাজের দরকার নেই। ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ মেয়রকে দিতে হবে না। তারা প্রয়োজনে অফিসে থেকে সবকিছু তদারকি করবেন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানান ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। তিনি বলেন, প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তিনটি ভাগে ভাগ করে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। যারা প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, পরবর্তী ধাপে যাদের চিকিৎসা চলছে এবং তৃতীয় ধাপে যারা গুরুতরভাবে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।

গাজী টেলিভিশন ও সারাবাংলাডটনেট’র এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, দুই মাস বা তারও কিছু আগে থেকে গণমাধ্যম তার বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনাদের সতর্ক করেছিল যে ডেঙ্গু আসছে এবং তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এখন আপনারা ডেঙ্গু মোকাবিলায় যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন শুরু থেকে যদি এসব পদক্ষেপ নিতেন তাহলে পরিস্থিতি এমন মহামারি আকার ধারণ করত না। ‘দায় এড়ানো ও অস্বীকার করার প্রবণতা আমাদের এখানেই বেশি দেখা যায়। নাগরিকদের সেবা প্রদানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যত্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ হতে দেখি না আমরা। ঢাকা শহরে বিশাল কনস্ট্রাকশন কর্মযজ্ঞ চলছে। এগুলোতে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। বিভিন্ন থানার সামনে অনেক পরিত্যক্ত যানবাহন পড়ে থাকে। সেগুলোতে মশার প্রজনন হয়। এদিকে নজর দিতে হবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও পূর্ব সাবধানতা হিসেবে স্কুল বন্ধ রাখার প্রস্তাব করেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম সম্পাদক জুয়েল মাজহার। তিনি বলেন, স্কুলে ক্লাস করতে আসা কোমলমতি শিশুরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা যেতে পারে। এসব স্কুল ও সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অস্থায়ী চিকিৎসাক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারে। একইসঙ্গে হতদরিদ্র মানুষদের ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় যেন ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এর জন্য সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশনকে রক্ষণাত্মক না হয়ে ক্ষমা চাওয়ার অবস্থান নিতে হবে। আপনাদের কোথাও ত্রুটি থাকলে দুর্বলতা থাকলে স্বীকার করে নিতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ বিষয়ে গবেষণা সেল থাকা দরকার। স্থায়ী তথ্য সেল থাকা দরকার। নগরবাসীকে বোঝাতে হবে যে সিটি করপোরেশন তাদের পাশে আছে।

মতবিনিময় সভার আয়োজক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এটা সত্য যে আমরা জনগণকে খুশি করতে পারিনি। তবু বলবো সবাইকে নিয়ে কাজ করবো। সিটি করপোরেশনের কাজে গতি আনতে হবে। সমন্বয় অবশ্যই করতে হবে। ৩৬৫ দিনে কাজের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা ও তথ্য সেল তৈরি করতে হবে। আমাদের কথা বলার সময় বিনয়ী হতে হবে। মশককর্মীদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা ভেইকল মাউন্টেন মেশিন আনার পরিকল্পনা করছি। ডেঙ্গু রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালগুলো যেন ব্যবসা না করে সে আহ্বান জানাচ্ছি। মানবিক কারণে আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন, আমি সিটি করপোরেশন থেকে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পাঠিয়েছি। বাসাবাড়ি ও উচ্চ ভবনগুলোতে যেন পানি না জমে তা দেখার জন্য তাদের নির্দেশ দিয়েছি।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মেয়র আতিক।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

সিটি করপোরেশন,ডেঙ্গু পরিস্থিতি,মেয়র আতিকুল,সম্পাদক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত