• মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||

মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত কাজী আনোয়ার হোসেন

প্রকাশ:  ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:২৪ | আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যের পথিকৃৎ ও মাসুদ রানার স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেনকে রাজধানীর বনানীর কবরস্থানে মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর বনানীর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সেগুনবাগিচা জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা সংক্রমণের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত উপস্থিতি এবং সংক্ষিপ্তভাবে সম্পন্ন করা হয় তার অন্তিম বিদায় পালা। কাজী আনোয়ার হোসেনের শেষ ইচ্ছা ছিল মার কবরেই থাকবেন তিনি।

দেশে পাঠক তৈরিতে অনন্য ভূমিকা পালন করা কাজী আনোয়ার হোসেন বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মারা যান । এর পর তার মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে করে কাকরাইলের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে সকাল ১০টায় তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় তার সেগুনবাগিচার বাসভবনে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের বাসভবনেই অবস্থিত সেবা প্রকাশনী। যার মাধ্যমে ষাটের দশক থেকে বাংলাদেশে পাঠক সৃষ্টির এক অনন্য যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। তার অনন্ত যাত্রার পর্বও শুরু হয় এ স্থান থেকে।

শেষবারের মতো কাজী আনোয়ার হোসেনকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে তার মরদেহ আনার পর পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে এলাকাবাসী, পাঠক-ভক্তরা ভিড় জমান।

কাজী আনোয়ার হোসেনকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তার শ্যালিকা ও বিশিষ্ট শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সেবা প্রকাশনীর লেখক নিয়াজ মোরশেদ। তিনি বলেন, এদেশের পাঠক সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। হুমায়ূন আহমেদের আগেই তিনি এ দেশে বই পড়ার পথটি তৈরি করেছিলেন। এমনকি জেলায় জেলায় নিজের গাড়িতে চড়ে মাইকিং করে বই বিক্রি করেছিলেন।

সেগুনবাগিচার বাসভবনে ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা একজন যোদ্ধা মানুষ ছিলেন। সব সময় সাহস নিয়ে বেঁচেছেন। এ মানুষটি পরিবারকে নিয়ে থাকতে পছন্দ করতেন।

কাজী আনোয়ার হোসেনকে রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি না দেয়ায় আক্ষেপ করে তার চাচাতো ভাই কাজী রওনাক হোসেন বলেন, অনেক অযোগ্য লেখক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। কিন্তু কাজী আনোয়ার হোসেন যিনি এদেশের কিশোর-তরুণদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করে অবক্ষয় থেকে মুক্ত রেখেছিলেন, সেই তিনি লেখক হিসেবে কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। এটা আমাদের কষ্ট দেয়।

প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। গত প্রায় তিন মাস থেকে চিকিৎসার ভেতরেই ছিলেন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন ২০১৫ সালে এবং মেয়ে শাহরিন সোনিয়া ২০১৪ সালে ইন্তেকাল করেন। দুই ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন ও কাজী মায়মূর হোসেনসহ আত্মীয়স্বজন আর দেশ-বিদেশে অসংখ্য গুণমুগ্ধ পাঠককে শোকাচ্ছন্ন করে গেলেন মাসুদ রানা ও কুয়াশার স্রষ্টা, সেবা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেন।

পূর্বপশ্চিম-এনই

কাজী আনোয়ার হোসেন,মাসুদ রানার স্রষ্টা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close