• মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮
  • ||

আগামী বইমেলায় বৃত্ত ভাঙবেন গল্পকার রুদাবা আদনীন

প্রকাশ:  ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৪১ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক

লেখালেখি রুদাবা আদনীন শুরু করেছিলেন নিতান্ত শখে। ছোট ছোট গল্প লিখে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেন, শতজনের বাহাবা তাকে লেখক জীবন বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে। বিভিন্ন সময় ফেসবুকে পোস্ট করা গল্পগুলো নিয়ে ২০১৮ সালে একুশে বইমেলায় বের হয় তার প্রথম গল্পগ্রণ্থ ‘অষ্ট অম্বর’। একজন নবীন লেখকের কাছে নিজের প্রথম বইয়ের যতোটা আবেদন থাকে, পাঠকের কাছ থেকে ততোটা সাড়া মিলে না। রুদাবাকে সেই হতাশায় পড়তে হয়নি। কারণ আগেই ফেসবুকে পোস্ট করা তার গল্প পড়ে গড়ে ওঠেছিল তার বিশাল ফ্যান। রুদাবা আদনীনের প্রথম বই তারা লুফে নেন। ওই সময় অবশ্য তিনি আদনীন কুয়াশা নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

কথাশিল্পী রুদাবা আদনীনের সাফল্য বা পাঠকপ্রিয়তা টের পাওয়া যায় তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যায়। প্রথম বই প্রকাশের তিন বছর পূর্ণ হওয়া আগেই পাঠকের কাছে পৌঁছে গেছে তার লেখা ৯টি বই। এর মধ্যে ৬টি মৌলিক, আর ৩ টি সম্পাদিত। মৌলিক বইগুলো হলো- অষ্ট অম্বর, এখানে যুক্তিরা মৃত, মেঘ বলেছে যাব যাব, যুক্তিরা উড়ে গেছে, ক্লান্ত কপোত ও ভ্রম-বিভ্রম। এছাড়াও তার সম্পাদনায় রাণী মৌমাছির দল, হৃদ মাঝারে রাখিব ও আমাদের গল্প নামে ৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে।এরই মধ্যে গল্প লেখায় মিলেছে স্বীকৃতি, পেয়েছে সাহিত্য দিগন্ত পুরস্কার। ২০২২ সালের একুশে বইমেলা সামনে রেখে বর্তমানে আদনীন লেখালেখিতে ডুবে আছেন পুরোপুরি। এবার কয়টা বই বের হবে, তা নিজেরও ঠিকঠাক জানেন না।

সম্পর্কিত খবর

    রুদাবা আদনীন থ্রিলার, সাসপেন্স, প্যারানরমাল ও সোশাল বিষয়বস্তু নিয়েই বেশি গল্প লিখেছেন। এবার তিনি সেই বৃত্ত ভেঙে রোমান্টিকতার দিকে ঝুঁকেছেন।আগামী বইমেলায় পাঠকদের প্রেমের গল্প উপহার দেবেন বলে জানালেন। আজকের এই লেখক পরিচিত গড়ে ওঠার পিছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা জানতে চাইলে রুদাবা আদনীন বলেন, ‘একদমই না। আমি লিখতাম নিজের জন্য। সেটা কেমনে কেমনে যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের জন্য এই পর্যন্ত এসে দাঁড়ানো। এইজন্য আমি আমৃত্যু ফেসবুকের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।

    আজকের রুদাবা আদনীনকে ফেসবুক লেখক বানিয়েছে, একথা তিনি মানতে নারাজ। এ প্রসঙ্গে গল্পকার বলেন, আসলে ব্যাপারটা সেরকম না। আমার লেখালেখি শুরু অনেক আগেই। পরে প্লাটফর্ম হিসেবে ফেসবুককে বেছে নেই। আমার মতো আরও অনেক লেখকই এই প্লাটফর্মটা ব্যবহার করছেন এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। ধরে নিতে পারেন আমিও তাঁদের মধ্যেই অতি গৌণ একজন।

    নিজেকে গৌণ দাবি করলেও ফেসবুক গ্রুপ মুক্তমঞ্চের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের একত্রিত রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন রুদাবা আদনীন। যা এরই,মধ্যে ‘মুক্তমঞ্চ-দ্যা প্ল্যাটফর্ম’ নামে সংগঠনে রূপ নিয়েছে। এর সদস্যরা নিজেদের লেখাপাঠে নিয়মিত বসছে সাহিত্য আড্ডার, উৎসব-পার্বন পালন করছে নানা আনুষ্ঠানিকতায়। মুক্তমঞ্চ কেবল সাহিত্য- সংস্কৃতি নিয়েই নয় মানবিক কাজেও নিবেদিত। এসব কাজে আদনীনকে পাওয়া যায় সক্রিয় ভূমিকায় সবসময়।

    গল্পকার রুদাবা আদনীনের জন্ম ঢাকায়। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক আবহে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় জড়িত। ১৯৯৭ সালে ক্লাস সেভেনে পড়ার সসয় বিটিভির নতুন কুঁডি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। বই পড়ার অভ্যাসটাও শৈশবের, সেখান থেকেই সাহিত্য চর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। শুরুতে কবিতা লিখলেও এখন গদ্যই তার সাহিত্যচর্চার অবলম্বন। প্রিয় লেখকদের মধ্যে রয়েছে হুমায়ূন আহমেদ, নিহারঞ্জন গুপ্ত ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যয়। ভালো লাগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জয়গোস্বামীর কবিতা।

    পূর্বপশ্চিম-ওআই

    রুদাবা আদনীন,আদনীন কুয়াশা,কুয়াশা আদনীন
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close