• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

অরুপের কাছে চিঠি- চার

প্রকাশ:  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:১৭
শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

অরুপ তোমার কি মনে আছে জানি না, সেদিন আকাশ খুব নীল ছিল। দুরন্ত বাতাস ওর চুলের ভাঁজ বার বার এলোমেলো করে দিচ্ছিল দেখে, তুমি বড়ো রেগে উঠেছিলে। তোমার সব রাগপড়েছিল আমার ওপর। কেন আমি জানালার ভাঙ্গা কাঁচ মেরামত করতে এতো দেরী করছি। আমি তখন তোমাকে কিছু একটা বলতে চেয়েছিলাম, তারপর কি মনে করে আমার আর তোমাকে কিছুই বলা হয়নি। আমি জানতাম, খুব ভালো করেই জানতাম, তোমাকে কিছু বলে কোনো লাভ নেই।তুমিতো আমার মতো মানুষ নও, তুমি শুধু মানুষের স্বভাব নিয়ে মানুষের কোলাহলে নির্লজ্জের মতো ঘুরে বেড়াও। তোমাকে স্পর্শ করা যায় না, কেবল অনুভবের মাঝে নিজের উপস্থিতি সবাইকে জানিয়ে যাও। যেন সবাই তোমাকে ভয় করে চলে বাজারের হীরক দারোগার মত।

বলো সবাই কি আর তোমাকে ভয় পায়? আমিতো তোমাকে ভয় পাই না, যতই তুমি হীরক দারোগা সেজে আমাকে ভয় দেখাও না কেন। আমিতো জানি, তুমিতো শূণ্যতা। তুমি শূণ্যতায় বসে খেলা করো চরম শূণ্যতাকে নিয়ে। তোমার খামখেয়ালীপনা সবাই কি আর সহ্য করবে বলো। অরুপ ওর যন্ত্রনার কথা আমাকে বলে কি হবে। সে কোথায় থাকে, সে কোথায় ছিল, আমিতো তার কোনো খোঁজ খবর রাখি না। শুধু তুমি আমার ভিতরে চুপিচুপি ঢুকে আমার সবকিছু তছনছ করে দাও। আমার মধ্যে মিশে যাও তুমি, আমার মধ্যে মিশে গিয়ে তার কথা বলে বলে আমাকে অস্থির করে তুলো। আমি আর পারি না তোমার অস্থিরতা সহ্য করতে।

আমি অসহায়ের মতো ধৈর্য্য ধরে নীরব হয়ে থাকি। কত আর নীরব থাকা যায় বলো। আমিতো মানুষ, আমিতো তোমার মতো শূণ্যতায় ভরা নীলিমার শূণ্যতা নই। এখনতো আমার গগনে খেলা করে চেনা অচেনা কবিতার উষ্ণ শব্দ গুলো। আমাকে ভয় দেখাও কেনো? তুমি কি ভাব আমিভয়ের পাত্র। অথচ তুমিতো জানো কবিতা নরোম কঠিন শব্দ নিয়ে খেলা করতে আমার খারাপ লাগে না। আমারতো ভালই লাগে কবিতার নরোম কঠিন শব্দকে আপনজনের মতো জড়িয়ে ধরতে। কবিতার শব্দগুলো আমাকে নিয়ে যায় আমার ঠিকানায়। তুমিতো ভাল করেই জানো, কবিতার কঠিন দূর্ভেদ্য শব্দরাশি আমাকে বুঝে, ওরা আমাকে ভয় দেখাতে গিয়ে নিজেরাই ভয়ে কেঁপে ওঠে। তাদের কাঁপনের শব্দ শুনে আমার কেবল তার কথা মনে হয়। তুমি বলতো, সে কে। তাকে কি কোনোদিন দেখেছি আমি, কিংবা ধরো ভুলে কি কোনোদিন স্পর্শ করেছি তাকে আপন মানুষ ভেবে।

অরুপ ওরা যে এসেছিল তার হয়ে, আমাকে অরণ্যের চিৎকার শুনাতে। ওরা ভেবেছিল ওদের কুৎসিত মুখ দেখে ভয় পেয়ে যাবো। তাদের ভাবনা একেবারে ভুল ছিলনা। প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম কিশোরীর প্রথম প্রনয়ের কম্পনের মতো। ভাবলাম কোথা থেকে ওরা এলো, কোন রাক্ষসপুরীর সুন্দরী রমনীর বেশ ধরে। অথচ দেখো ক্ষনিক পরেই মনে হলো, ওরাতো আসেনি, ওরাতো আসেনা, ওরাতো আমার মধ্যেই বাস করে। ওরা যে কখন চুপিসারে আমার ভিতর জেগে উঠে দৈত্যপুরীর অচেনা ছবি এঁকে। আমি কি তা জানি। তবু দেখো আজ তোমার তাচ্ছিল্যের স্বরূপ দেখে, যেন ভুল ভাঙ্গলো আমার। অরুপ তোমাকে ধন্যবাদ। এখনো আমাকে ছেড়ে যাওনি বলে।

লেখক: আইনজীবী, কবি ও গল্পকার।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close