• রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭
  • ||

সৈয়দ শামসুল হকের জন্মদিন আজ

প্রকাশ:  ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮৬তম জন্মদিন আজ। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, চলচ্চিত্র, গান, অনুবাদসহ সাহিত্যে-সংস্কৃতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সফল। জনপ্রিয় এই লেখক ও কবির ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ।

১৯৩৫ সালের আজকের দিনে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আট ভাইবোনের মধ্যে শামসুল হক ছিলেন সবার বড়। তিনি স্কুলজীবন শেষ করেন কুড়িগ্রামে। এরপর ১৯৫১ সালে মুম্বাইয়ে গিয়ে কিছুদিন একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করেন।

পরবর্তী সময়ে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে পড়ালেখা শেষে পুরোদমে লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে, ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ পত্রিকায়। সেখানে ‘উদয়াস্ত’ নামে তার একটি গল্প ছাপা হয়। এরপর সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে তার প্রতিভার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। সৈয়দ হকের লেখনীতে উদীয়মান মধ্যবিত্ত মানুষের কথা ও তাদের জীবনের গল্পের ছাপ ফুটে ওঠে। প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছিলেন, ‘সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় সমসাময়িক বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে। আগের লেখকেরা সবাই গ্রামকেন্দ্রিক উপন্যাস বা গল্প লিখেছেন। সৈয়দ শামসুল হক নতুন উদীয়মান মধ্যবিত্তের কথা ভালো করে বললেন এবং মধ্যবিত্ত জীবনের বিকারকেও তিনি ধরলেন।’

সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যভাণ্ডার সমৃদ্ধে ভরা। সৈয়দ হকের কবিতায় রয়েছে গভীর অনুপ্রেরণা। তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে। বৈশাখে রচিত পঙিক্তমালা, পরানের গহিন ভেতর, নাভিমূলে ভস্মাধার, আমার শহর ঢাকা, বেজান শহরের জন্য কেরাম, বৃষ্টি ও জলের কবিতা তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এক মহিলার ছবি (১৯৬১), অনুপম দিন (১৯৬২), সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪) তার জনপ্রিয় উপন্যাস। তাস (১৯৫৪), শীত বিকেল (১৯৫৯), রক্তগোলাপ (১৯৬৪), আনন্দের মৃত্যু (১৯৬৭), প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান (১৯৮২), জলেশ্বরীর গল্পগুলো (১৯৯০) তার উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প।

সৈয়দ শামসুল হক নাট্যকার হিসেবেও সফলতা পেয়েছেন। বিবিসি বাংলায় নাটকে কাজ করার মাধ্যমে তিনি নাট্যকার হিসেবে পরিচিতি পান। সৈয়দ হকের কারণেই পাওয়ার আওয়াজ পাওয়া যায় ও নূরলদীনের সারাজীবনের মতো নাটকগুলো সঙ্গে পরিচয়। তার ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্য নাটক। তার পরের নাটক নূরলদীনের সারাজীবন ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত। সৈয়দ হক তার রচনায় সমসাময়িক বাংলাদেশ ও মধ্যবিত্ত সমাজের আবেগ-অনুভূতি ও ভালো-মন্দ দিকগুলো তুলে ধরেন। তার অন্যান্য নাটক নারীগণ, যুদ্ধ এবং যোদ্ধা, ঈর্ষা, এখানে এখনে সমকালীন বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।

সাহিত্যে অবদানের জন্য একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হন সৈয়দ শামসুল হক। ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৯ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে একুশে পদকসহ আরো অনেক পুরস্কার পান। ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সব্যসাচী এ লেখক মৃত্যুবরণ করেন সৃষ্টিশীল কর্মের জন্য বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন সৈয়দ শামসুল হক।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

সৈয়দ শামসুল হক,জন্মদিন,সাহিত্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close