• বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

বিশিষ্ট কবি-লোকবিজ্ঞানী ড. আশরাফ সিদ্দিকী আর নেই

প্রকাশ:  ১৯ মার্চ ২০২০, ১২:০২ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ১২:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক, লোক গবেষক ড. আশরাফ সিদ্দিকী মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার দিবাগত (১৮ মার্চ) রাত তিনটায় অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

দীর্ঘ এক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলে জন্ম নেওয়া ড. আশরাফ সিদ্দিকী ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, লোক ঐতিহ্য গবেষক, এবং শিশু সাহিত্যিক। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে যারা সমৃদ্ধ করেছেন তিনি তাদের একজন।

শিক্ষাজীবন শেষে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। তিনি তৎকালীন জগন্নাথ সরকারী কলেজে ও চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনসহ রাজশাহী সরকারি কলেজে, ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ত্রিশালে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পুরোভাগে রয়েছে ড. আশরাফ সিদ্দিকীর স্মরণীয় অবদান।

১৯৭৬ থেকে ছয় বছর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮৩ সালে জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকেই তিনি অবসরে যান।

দেশবিভাগের পর অভাবের তাড়নায় এক স্কুল শিক্ষক তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনা তাকে নাড়া দেয় এবং তার সাহিত্য রচনার প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি লেখেন তালেব মাষ্টার নামে একটি কবিতা, যা ১৯৫০ সালে তালেব মাষ্টার ও অন্যান্য কবিতা কাব্যসংকলনে স্থান পায়। এরপর প্রকাশিত হয় তার কাব্যগ্রন্থ সাত ভাই চম্পা, বিষকন্যা, ও উত্তরের তারা। ১৯৬৫ সালে রাবেয়া আপা নামক গল্প দিয়ে গল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু গলির ধারের ছেলেটি তাকে গল্পকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এ গল্প অবলম্বনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত পরিচালিত ডুমুরের ফুল চলচ্চিত্রটি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘তালেব মাষ্টার ও অন্যান্য কবিতা (১৯৫০)’, ‘সাত ভাই চম্পা (১৯৫৩)’, ‘বিষকন্যা (১৯৫৫)’, ‘উত্তরের তারা’, ‘বৃক্ষ দাও, ছায়া দাও (১৯৮৪)’, ‘দাঁড়াও পথিক বর (১৯৯০)’, ‘সহস্র মুখের ভিড়ে (১৯৯৭)’।

গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘রাবেয়া আপা (১৯৬৫)’, ‘গলির ধারের ছেলেটি (১৯৮১)’, ‘শেষ নালিশ (১৯৯২)’, ‘লোকসাহিত্য’, ‘লোক সাহিত্য প্রথম খণ্ড (১৯৬৩)’, ‘রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতন (১৯৭৪)’, ‘কিংবদন্তির বাংলা (১৯৭৫)’, ‘শুভ নববর্ষ (১৯৭৭)’, ‘লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮)’, ‘আবহমান বাংলা (১৯৮৭)’, ‘বাংলার মুখ (১৯৯৯)’, ‘প্যারিস সুন্দরী (১৯৭৫)’, ‘বাংলাদেশের রূপকথা (১৯৯১)’, ‘লোক সাহিত্য দ্বিতীয় খণ্ড’।

এছাড়াও তার লেখা বেশকিছু শিশুসাহিত্য ও উপন্যাস রয়েছে।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন খ্যাতনামা এ লোকবিজ্ঞানী।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

কবি,ড. আশরাফ সিদ্দিকী,লোকবিজ্ঞানী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close