• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

সোনালি কাবিনের কবিকে হারানোর এক বছর

প্রকাশ:  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:৪৬ | আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সোনালি কাবিন খ্যাত কবি আল মাহমুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের এইদিনে সাহিত্যাঙ্গনে অমর এই কবি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নেন। কবির প্রয়াণ দিবসে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও তার জন্মভিটায় পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আল মাহমুদ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক কবি আবিদ আজম জানিয়েছেন, কবির জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর কাঁটাবনের কবিতা ক্যাফেতে (২৩৪/সি নিউ এলিফ্যান্ট রোড, কাটাবন সিগন্যাল, ঢাকা) শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টায় ‘আল মাহমুদ স্মরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে কবির পাঠক, ভক্ত ও অনুরাগীরা উপস্থিত থাকবেন। একই দিন চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণানুষ্ঠান। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর নূরুল আমিন।

অন্যদিকে, কবির জন্মভিটা ব্রাক্ষণবাড়িয়া মৌড়াইলে সকালের দিকে স্মরণানুষ্ঠান ছাড়াও কবির কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এছাড়া, আল মাহমুদ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা ছাড়াও কবির প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহৎ পরিসরে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আবিদ আজম।

কবি আল মাহমুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার রচিত মহাকাব্য ‘এ গল্পের শেষ নেই শুরুও ছিল না’ নামের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করেছে সরলরেখা প্রকাশনা সংস্থা (বইমেলা, স্টল নং ৬১৮)।

এ বিষয়ে সরলরেখা প্রকাশনির পরিচালক নাজমুস সায়াদাত জানান, আল মাহমুদ নিজেই একজন মহাকাব্যিক কবি। তবে গেল প্রায় এক শতাব্দী পর নতুন করে মহাকাব্য রচিত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যে গৌরবজনক ঘটনা। শিল্পী ধ্রুব এষ ও লেখক আজরা পারভীন সাঈদসহ বড় একটা টিম আল মাহমুদের মহাকাব্য ‘এ গল্পের শেষ নেই শুরুও ছিল না’ প্রকাশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। আমরা পাঠকদের হাতে এ প্রকাশনা তুলে দিতে পেরে আনন্দিত।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আল মাহমুদের ‘সহোদরা’ ও ‘রাগিণী’ নামে ক্ষুদ্রায়তনের দুটি নতুন উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, মুজিববর্ষের বিশেষ প্রকাশনা হিসেবে তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ইতিহাস দেখো বাঁক ঘুরে গেছে ফের ইতিহাসে’ এবং ছড়ার বই ‘আমার নামে ডাকছে পাখি’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। আল মাহমুদের সাহিত্য জীবনের গোধূলি লগ্নের ছায়াসঙ্গী ও সহলেখক হিসেবে এ পাঁচটি বইয়ের গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেছেন লেখক ও সাংবাদিক আবিদ আজম।

কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তার বাবা মীর আবদুর রব ও মা রওশন আরা মীর। তার দাদা আবদুল ওহাব মোল্লা ব্রিটিশ ভারত শাসনামলে হবিগঞ্জ জেলায় জমিদার ছিলেন।

আল মাহমুদ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাইস্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন। স্কুলজীবনেই শুরু হয় তার লেখালেখি। আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নর–নারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তিনি কবিতায় অবলম্বন করেন। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তাঁর অনন্য কীর্তি।

আল মাহমুদ ঢাকায় আসেন ১৯৫৪ সালে। সে সময় সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিকগুলোয় লিখতে শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফরিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে সাপ্তাহিক কাফেলার সম্পাদক হন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে আল মাহমুদ দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। সম্পাদক থাকাকালে সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাবরণ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক হিসেবে চাকরি দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি বিভাগটির পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে সেখান থেকে তিনি অবসরে যান।

আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘সোনালি কাবিন’, ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’, ‘অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘দিনযাপন, দ্বিতীয় ভাঙন’, ‘নদীর ভেতরের নদী’।

আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, জয় বাংলা পুরস্কার, হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, কাজী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, ভানুসিংহ সম্মাননা পদক ও লালন পুরস্কার পেয়েছেন।

কবি আল মাহমুদের নির্বাচিত ১০ কবিতা


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

কবি আল মাহমুদ,খবর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close