• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

জার্নাল- সেপ্টেম্বর

প্রকাশ:  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪৮ | আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৯
আমেনা তাওসিরাত

সেপ্টেম্বর আসলে আমার না খুব হাসপাতাল লিখতে ইচ্ছে করে। দীর্ঘকালীন ছুটিতে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেপ্টেম্বর আসলে আমার না ব্লু রাল্ফ লোরেন ও তার পরিবার লিখতে ইচ্ছে করে। বিছানাতে সেদিন ওলেন বেড়াল আর ফ্যান্সি ভালুকের মায়া রেখে গিয়েছিলাম। হাই ডিপেন্ডেসি স্যুইট আর সব ফরমাল উৎকণ্ঠা লিখতে ইচ্ছে করে। দমবন্ধ অভিমানে আমিতো রিসিপ্রোক্যালি হাসতে ভুলে গিয়েছিলাম। যশোর রোডের সাথে ডায়েরি বদলে পাওয়া স্বদেশ লিখতে ইচ্ছে করে, খাঁচা ভরা দিন উড়াবো বলে আমিওতো সুদূরে পতাকা খুঁজছিলাম!

ঠাকুরানীর হাসপাতালে আমি কেন গিয়েছিলাম, কাহিনীতে গহীন করে সেও লিখতে ইচ্ছে করে। রাণীজন্মের শোধ দিতে নয়, আমিতো ধানকমলের বীজ ভাঙতে গিয়েছিলাম। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের বুড়ো বাড়িটায় সেদিন আমার অমলধবল মন পড়েছিল, তাও লিখতে অতীব ইচ্ছে করে।

পাতাকুড়ুনির কপিশরঙ থলিটার কোণ ধরে হাঁটতে হাঁটতে, আবাহন আর সম্মোহনে, কত ঋতু বাড়ি চলে গেছে। শুধু আমার হয়নি ফেরা! অতিকায় বেলা আর ব্যথাতুর দৈবক্রিয়ায় আমার সেই সব অসুখ লিখতে ইচ্ছে করে। অভিমান আর আড়বাঁশি ছাড়া সেদিনতো আমি একাই ছিলাম। চকবন্দি করুণ সন্ধি; প্রসক্ত রাজ, রাজ হংসী ; দুষ্ট ঘোড়া, কূটচাল আমার কি আর মেঘের মতই বইতে ইচ্ছে করে? কিন্তু পোখরাজ পাবো বলে জাগতিক ছল আমি নাই দেখছিলাম।

দেশ, বাড়ি, অতক্রম পথ শুধু কথা বলেছিল। অ-ভাষী মনে কত ডাক আর ঝাঁপতাল ছিলো। যোগাযোগে বাড়ি নয় বাসা বসেছিল। মা মানে মিঠে নয় ঝামর কিছু নীলও। ছাঁচিকুমড়ো বেটে সর্ষে তেল, ধনে, গুল্মে মাখা মায়া পদ বা কুচো চিংড়ির বড়া, এইসব দুপুরবতী গন্ধ নয় অন্য কোথাও আমার বুকের হুহু কাঁদছিল, তাও যে লিখতে ইচ্ছে করে! বাড়ি তোলা ঘি, নারকেলি তেল, আনারস জ্যাম; এই তিনটে গন্ধে আমার কত না সহজ জন্ম কেটে গিয়েছিল!

বাড়িভর্তি প্রার্থনা না থাকলে হাসপাতাল হয়ে ফিরে আসা সমীচীন নয় তবুও আমি কেন ফিরে এসছিলাম, সেপ্টেম্বর আসলে বিজি প্রেস হয়ে আমার সেইসব প্রশ্ন লিখতে ইচ্ছে করে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত