Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর কবিতায় প্রথম সাহসী কবি নির্মলেন্দু গুণ

প্রকাশ:  ১৬ আগস্ট ২০১৯, ১৭:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon
কবি নির্মলেন্দু গুণ। ফাইল ছবি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী শিল্প-সাহিত্যের নানা শাখায় প্রতিবাদ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের। পচাত্তরের পর দেশের নানা প্রান্তের সাহসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক, ছড়াকার, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা কঠিন দুঃসময়েও তাঁদের রচনায় প্রকাশ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা। জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরেছিলেন তাঁদের সৃষ্টিকর্মে।

প্রথম কবিতা: বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অন্ধকার সময়ে ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমির একুশের কবিতা পাঠের আসরে প্রথম সাহস দেখান কবি নির্মলেন্দু গুণ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম আবৃত্তি করেন স্বরচিত কবিতা ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’।

কবিতায় তিনি লিখেছিলেন, ‘সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,/রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেই সব গোলাপের একটি গোলাপ গতকাল/আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।/আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।’ কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাটি বাংলা একাডেমিতে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। অন্ধকারে এক বিন্দু আলোকরশ্মি দেখা গিয়েছিল। উত্ফুল্ল দর্শক-শ্রোতা হয়ে সেই কবিতা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

জানা যায়, কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ কবিতা রচনার আগেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপরই কবিতা রচনা করেছিলেন কয়েকজন কবি। মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও প্রাবন্ধিক মফিদুল হকের ‘নওশাদ নূরী ও তার একটি কবিতা’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশে তাঁকে নিয়ে প্রথম কবিতা লেখা হয়েছিল আরবিতে, দ্বিতীয় কবিতা রচিত হয়েছিল উর্দুতে আর তৃতীয় কবিতাটি রচিত হয়েছিল বাংলায়।

প্রথম কবিতার রচয়িতা শেখ আবদুল হালিম, দ্বিতীয় কবিতার রচয়িতা নওশাদ নূরী এবং তৃতীয় কবিতার রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ এভাবে প্রথিত হয়ে যান জাতির ইতিহাসের সঙ্গে। গবেষক ও প্রাবন্ধিক মফিদুল হকের নিবন্ধ থেকে জানা যায়।

আরও জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তখন তরুণ কবি, লেখক, সাহিত্যিক, শিল্পী, ছড়াকার, সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ। ওই হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম কবিতা প্রকাশ করেছিলেন কবি কামাল চৌধুরী।

১৯৭৭ সালে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ‘জয়ধ্বনি’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর কবিতাটির নাম ছিল ‘জাতীয়তাময় জন্মমৃত্যু’।

কবি কামাল চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ছিল আমার। তার কিছুদিন পর প্রথম পঠিত কবিতা ছিল নির্মলেন্দু গুণের ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’।

কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, বঙ্গবন্ধু যে সাহিত্যের উপজীব্য হতে পারেন, আমিই সেটার সূচনা করেছিলাম। ১৯৬৭ সালের ১২ নভেম্বর, সংবাদে (পত্রিকায়) প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা প্রথম কোনো কবিতা। বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে রচিত ওটাই ছিল প্রথম কবিতা। তার আগে বাংলাদেশের কোনো কবি বঙ্গবন্ধুকে সচেতন বিবেচনায় নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি। আমার পরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা রচনা করেন কবি জসীমউ্দদীন এবং সম্ভবত কবি সুফিয়া কামালও।

প্রথম সংকলন: বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যার পর তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন জানিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, অনেকেই গোপনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু প্রকাশ করার সাহস পাননি। আমিই প্রথম সাহস দেখিয়েছিলাম। ১৯৭৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম। কবিতাটা পাঠ শেষে মনে হয়েছিল, আমার বুকের মধ্যে চেপে বসা একটি পাথর অপসারিত হয়ে গেল।

ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই ঘটে অবিস্মরণীয় এক ঘটনা। কয়েকজন সাহসী মানুষ উদিত হলেন বইমেলার মাঠে, কবিতা পাঠের আসরের শামিয়ানার আশপাশে। তাঁদের হাতে বঙ্গবন্ধুকে বিষয় করে রচিত একগুচ্ছ ছড়া আর কবিতার অনন্যসাধারণ সংকলন ‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়’।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রকাশিত প্রথম সংকলন ছিল এটি।

ঐতিহাসিক এই সংকলনটির প্রকাশক হিসেবে মুদ্রিত ছিল ‘সূর্যতরুণ গোষ্ঠী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। যদিও এ নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন কোনো সংগঠন ছিল না। ছিল না কোনো প্রকাশকও। এ সংকলনটির সব কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ১০২ নম্বর কক্ষ থেকে। কক্ষটি ছিল তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল আজীজের। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সংগঠক। সংকলনটি প্রকাশের পরিকল্পনা, লেখা সংগ্রহ, ছাপাখানা নির্ধারণ, মুদ্রণব্যয় জোগাড়, প্রচ্ছদ নির্মাণসহ নানা কাজে সহযোগিতা করেছিলেন ভীষ্মদেব চৌধুরী, সিরাজুল ফরিদ, আলতাফ আলী হাসু, নূর-উদ-দীন শেখ এবং আর্টিস্ট মানিক দে।

সংকলনের অন্যতম নেপথ্য কর্মী ভীষ্মদেব চৌধুরী ‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়’ শিরোনামের স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠিত কবিই সেদিন বঙ্গবন্ধু স্মরণে কবিতা লিখতে অপারগতা বা উন্নাসিকতা প্রদর্শন করেন। যাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই পরবর্তীকালে রাজনৈতিক হাওয়া বদলের আনুকূল্যে বঙ্গবন্ধু স্মরণে কবিতা লিখে দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ সংকলনগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকেও। বইটির শিরোনাম ছিল ‘শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ’। বইটির সম্পাদক ছিলেন কবি মিনার মনসুর ও দিলওয়ার চৌধুরী।

সম্পাদক মিনার মনসুর বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর অস্ত্র হাতে খুনিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার মতো অবস্থা তখন ছিল না। তখন অনেকে সাহস করেননি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখতে, আমরা অনেক দিন ধরে বলেকয়ে লিখিয়েছিলাম, সংকলনে গ্রন্থভুক্ত করেছিলাম দেশ-বিদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষের রচনা।

তিনি আরও জানান, ‘এ লাশ আমরা কোথায় রাখবো’ প্রথম সংকলন। কিন্তু তা গ্রন্থাকারে বের হয়নি। বের হয়েছিল লিটলম্যাগাজিন আকারে। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তাঁকে নিয়ে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম সংকলন এটিই।


পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

কবি নির্মলেন্দু গুণ,বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড,১৫ আগস্ট ১৯৭৫
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত