Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
  • ||

শিশুতোষ গল্পের বই এর মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ:  ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

ইউএসডি এর অর্থায়নে এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী এর সহায়তায় কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় চলমান রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর শিশুশিক্ষা বিষয়ক প্রকল্প ‘ম্যাকগভার্ন-ডোল ইন্টারন্যাশনাল ফুড ফর এডুকেশন অ্যান্ড চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ১০টি শিশুতোষ গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে একটি আনন্দঘন পরিবেশে হয়ে গেল সেই বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। প্রকাশিত বইগুলোর হল ‘বাদল ও মৎস্যকন্যা’, ‘কলি আর ধলির গল্প’, ‘বন বিহঙ্গের কথা’, ‘ভূতের বাড়ি ফেরা’, ‘চাঁদের বুড়ি ও জলপরি’, ‘ডিং ও টিটিং’, ‘টোট-টেং’, ‘তাতাই ও যক্ষবাবু’, ‘ওটা কোথায়’ এবং ‘আলোর খোঁজে সমুদ্রতারা।’

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি, প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে শিশুতোষ গল্পের বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন করেন এবং লেখক ও আঁকিয়েদের শিশুবান্ধব সৃজনশীল লেখার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি রুম টু রিড খুবই সফলভাবে প্রাথমিক স্তরে শিশুদের পড়ার দক্ষতা ও পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার কাজ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে রুম টু রিড বাংলাদেশসহ বিশ্বে এক অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। বাংলাদেশে পাঠ্য বইয়ের বাইরে শিশুদের উপযোগী গল্পের বইয়ের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে রুম টু রিড শিশুদের উপযোগী মানসম্মত বই তৈরী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য সে সুযোগ তৈরী করে চলেছে এবং আমি মনে করি সমাজিক অবক্ষয়রোধে শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও উন্নত রুচি-সংস্কৃতি তৈরী করতে রুম টু রিড এর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। শিশুদের মধ্যে পাঠের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একই সাথে আমি রুম টু রিডকে আহবান করছি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাথে একযোগে কাজ করার জন্য।

রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও অনুষ্ঠানের সভাপতি রাখী সরকার স্বাগত বক্তব্যে মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষালাভের জন্য শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ’ ও শিশুবান্ধব পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষাপকরণের স্বল্পতা, পাঠাগারে শিক্ষার্থীর উপযোগী বই পড়ার সুযোগের অভাব এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব শিক্ষার্থীর সাক্ষরতা দক্ষতা বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম বাধা। এ লক্ষ্যে রুম টু রিড কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়ন ও শিশুর পঠন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইউএসডিএ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী- এর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি প্রাথামিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও তার আওতাভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এই মহতী উদ্যোগে ভুমিকা রাখার জন্য।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ রুহুল আমিন খান, যুগ্ম সচিব ও প্রোজেক্ট ডিরেক্টর, দারিদ্র পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জনাব মোঃ শওকত আলী, যুগ্ম সচিব ও পরিচালক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং জনাব রেজাউল করিম, হেড অফ প্রগ্রাম, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী । এছাড়াও উপস্তথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগি এবং সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা রুম টু রিড শিশুর মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়নে সরকার ও দাতা সংস্থঅগুলোর সাথে একযোগে কাজ করছে। সাক্ষরতা কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ১ হাজারের বেশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লক্ষ শিশুর সাথে সরাসরি কাজ করেছে এবং ৫,৭০০ শ্রেণীকক্ষ পাঠাগার স্পথান করেছে।

বর্তমানে ঢাকা, নাটোর ও কক্সবাজার জেলায় মোট ৫৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরাসরি যুক্ত থেকে শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার স্থাপন, শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ প্রকাশনা ও সরবরাহের মাধ্যমে শিশুদের পঠন দক্ষতা ও পড়ার অভ্যাস তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার নির্বাচিত ১৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি মাদ্রাসায় বাংলা ভাষা শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং ৮৭৭টি শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার স্থাপন করেছে।

পিবিডি/রবিউল

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত