• রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

বগুড়া বিএনপিতে দ্বন্দ্বের আগুন

প্রকাশ:  ১৬ মে ২০১৯, ১৯:০৮
বগুড়া প্রতিনিধি

ঝুলছে তালা, ভাঙছে তালা, হচ্ছে বহিস্কার, জ্বলছে আগুন। এই হচ্ছে বগুড়া জেলা বিএনপির বর্তমান অবস্থা। নতুন আহবায়ক কমিটি কেন্দ্র করে এখন বিএনপি’র দু’গ্রুপ দুই মেরুতে। ঘাটি খ্যাত বগুড়া জেলা বিএনপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। এদিকে দখল পাল্টা দখল কেন্দ্র করে যুবদল ও ছাত্রদলের ৮ নেতা বহিষ্কার হয়েছে সংগঠন থেকে।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বগুড়া জেলা কমিটি শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ২৫ এপ্রিল জেলা বিএনপির নেতৃস্থানীয় নেতাদের ডেকে পাঠানো হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে। সেখানে বিএনপির সহ-সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ সম্পাদক শাহীন শওকত এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ওবাইদুর রহমান চন্দন এবং বগুড়ার নেতাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে তারেক রহমান কথা বলেন। বৈঠক চলাকালে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র এবং প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমু আগের কমিটি বহাল রাখার কথা বলেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর পরই ওই দুই নেতাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখবরে বগুড়ায় বিএনপি অফিসে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে ভিপি সাইফুল ইসলাম এর অনুসারিরা। পরদিনে কেন্দ্রীয় নির্দেশে ভিপি সাইফুলসহ নেতৃবৃন্দ সেই তালা খুলে কার্যক্রম চালায়।

এদিকে পেপারে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ২৯ এপ্রিল সাধারণ সভা ডাকা হয় বিএনপি কার্যালয়ে। এই সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সা: সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান সহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে। একই দিন সন্ধ্যায় সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান লালুর বাড়ীতে বৈঠক করে । পাল্টা আহবায়ক কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠায়। দুটি কমিটি গঠনেই জেলা বিএনপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ নেয়। এরই প্রেক্ষিতে কেন্দ্র থেকে বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার পর ১৫ মে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করে। কমিটিতে ভিপি সাইফুল ইসলাম এর অনুসারীদের নাম বেশি না থাকায় বিক্ষোভ দেখায় তার অনুসারীরা। স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল ও অপর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী ও বঞ্চিতরা নতুন ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা সন্ধ্যায় শহরের নওয়াববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ের সামনে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে অবস্থান ও দলীয় কার্যালয়ের দখল নেয়। একর্পযায়ে তারা দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সেখানে পুলিশ পর্যন্ত মোতায়েন হয়। পরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়া আহবায়ক কমিটি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ জেলা বিএনপি’র অফিসে গিয়ে পদবঞ্চিত- বিদ্রোহী গ্রুপের দেয়া তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে দখল নেয়। সেখানে তারা গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান নেয়। নতুন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের পাল্টা দখল নেয়া হয়। নতুন কমিটি নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর হেনা রাতে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে তালা ভেঙ্গে ভিতরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। নতুন কমিটি রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। পরে তারা সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর বাড়িতে যান। বিদ্রোহী গ্রুপ এ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়ির সামনে থাকা বেশ কিছু মটর সাইকেল ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বিএনপি সূত্র জানায়, দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগানো, আগুন ও সাবেক সংসদ সদস্যর বাসায় হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কমিটি পৌর কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন পশারি হিরু, তৌহিদুল ইসলাম বিটু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ রানাসহ ৬ জনকে বহিষ্কার এবং জেলা ছাত্রদলের সিনিয়ার সহসভাপতি আবু জাফর জেমস, ও সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম আউয়াল এর পদ স্থগিত ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে।

জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আহবায়ক কমিটি হয়েছে। এখানে কারো যদি অভিযোগ অনুযোগ থাকে তবে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং আমাদের বলতে পারে তা না করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। প্রত্যেক দলে কমিটি নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে পরে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সাবেক সভাপতি ও আহবায়ক কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এদিকে উপজেলা নির্বাচনের পক্ষে ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বুধবার রাতে জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম ও যুগ্ম সম্পাদকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় কেন্দ্র থেকে।

বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ জানান, বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। সাবেক এমপি লালুর বাসার সামনে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল রাস্তার উপরে ফেলে দিয়ে যায় বিক্ষুব্ধরা।

পিপিবিডি/এস.খান

বিএনপি,দ্বন্দ্ব
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত