• শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

ভিন্ন বর্ণের ছেলেকে বিয়ে করায় মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারলো বাবা

প্রকাশ:  ০৭ মে ২০১৯, ১৬:০৬ | আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১৬:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রুক্মিণী রণসিংহে বয়স হয়েছিল মাত্র ১৯ বছর। মাত্র মাস ছয়েক আগেই মঙ্গেশকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল সে। কিন্তু মঙ্গেশের জাত ছিল আলাদা, তাই রুক্মিণীর পরিবার ওই বিয়ে মেনে নেয়নি। এতটাই ক্ষেপে গিয়েছিল রুক্মিণীর পরিবার, যে তার বাবা, কাকা আর মামা মিলে রুক্মিণী আর তার স্বামীকে বাড়িতে ডেকে এনে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। বিবিসি বাংলা।

ভারতের মহারাষ্ট্রে আহমেদনগর জেলার এই ভয়াবহ ঘটনায় আরও একবার 'অনার কিলিং'-এর বিষয়টি সামনে এসেছে। রুক্মিণীর পরিবার তাদের বিয়েতে মত না দিলেও মঙ্গেশের বাড়ি থেকে মেনে নেওয়া হয়েছিল এই বিয়ে।

"বিয়েতে রুক্মিণীর বাড়ি থেকে শুধু তার মা এসেছিলেন," বিবিসিকে বলছিলেন রুক্মিণীর দেবর মহেশ রণসিংহে। বিয়ের পরেও রুক্মিণীর পরিবার এই সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। মহেশ জানাচ্ছিলেন, "রুক্মিণী বা মঙ্গেশের সঙ্গে রাস্তায় ওদের বাড়ির কারও দেখা হলেই হুমকি দেওয়া হত। ফেব্রুয়ারি মাসে এই হুমকির ব্যাপারটা জানিয়ে রুক্মিণী আর মঙ্গেশ থানায় অভিযোগও জানিয়েছিল।"

এই অশান্তির মধ্যেই রুক্মিণীর বাবা-মা ৩০ এপ্রিল তাকে বাড়িতে ডাকেন। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রুক্মিণীর ওপরে চড়াও হয় তার বাপের বাড়ির লোকেরা। মারা হতে থাকে তাকে।

সেই রাতেই রুক্মিণী স্বামীকে ফোন করে জানায় যে তার পরিবারের লোকেরা তাকে মেরেছে। স্বামীকে অনুরোধ করে সেখান থেকে তাকে নিয়ে যেতে। পরের দিন সকালেই মঙ্গেশ রুক্মিণীদের বাড়িতে যায়। তার আগেই উত্তরপ্রদেশ থেকে রুক্মিণীর কাকা আর মামা সেখানে পৌঁছিয়ে যায়।

বাড়িতে তুমুল অশান্তি শুরু হয়, আর তার মধ্যেই মঙ্গেশ আর রুক্মিণী- দুজনকেই মারধর করে রুক্মিণীর কাকা আর মামা।

তারপরে দুজনকে একসঙ্গে একটা দড়ি দিয়ে বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পরে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মঙ্গেশ রণসিংহে বলছিলেন, "ঘর থেকে তীব্র চিৎকার শুনে পড়শিরা ওই বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলে রুক্মিণী আর মঙ্গেশকে উদ্ধার করেন। তারাই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পুনে শহরে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান।"

হাসপাতালে ভর্তি করার সময়ে রুক্মিণীর শরীরের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মঙ্গেশের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ জ্বলে গিয়েছিল।

তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৫ মে রুক্মিণী মারা যায়।

সসুন হাসপাতালের চিকিৎসক অজয় তাবড়ে বলেন, "মঙ্গেশ এখনও সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে।" রুক্মিণীদের বাড়ির কাছেই থাকেন সঞ্জয় বেদী। তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, "ঘর থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছিল। চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম ভেতর থেকে। শেষমেশ আমরা দরজা ভেঙে ফেলে ওদের উদ্ধার করি।"

রুক্মিণীর পরিবারের সম্পর্কে খুব একটা ভালো করে জানেন না প্রতিবেশীরা। শুধু এটুকুই জানা গেছে যে ওই পরিবারটি প্রায় আট মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে এখানে এসেছিল। পুলিশ রুক্মিণীর কাকা সুরেন্দ্র ভারতী আর মামা ঘনশ্যামকে গ্রেপ্তার করেছে।

আহমেদনগরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট মনীষ কলভানিয়া বলছিলেন, "রুক্মিণীর বাবা রামা রামফল ভারতী পালিয়ে গেছে। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনাস্থল থেকে এক বোতল পেট্রোল উদ্ধার করা গেছে।"

তবে মঙ্গেশের ভাই মহেশ বলছিলেন, "পুলিশ যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে এই পরিণতি হত না দাদা আর বৌদির। দুটো থানায় আলাদা করে অভিযোগ জানানো হয়েছিল যে ওদের পরিবার হুমকি দিচ্ছে।" এখন মহেশের একমাত্র আশা তার দাদা আর বৌদিকে নির্যাতনকারীদের শাস্তি হবে।

পিপিবিডি/এআর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত