Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে যমুনায় পানি বৃদ্ধি, কাজিপুরে তীব্র ভাঙন

প্রকাশ:  ১২ জুলাই ২০১৯, ১৮:১০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। প্রতিদিনই যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি যাচ্ছে। এতে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এলাকার ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও গাছপালা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দু-একদিনের মধ্যে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে গেছে।

পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। বাঐখোলা বাঁধসহ বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপথ। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নদীপাড়ের প্রায় দশ গ্রামের মানুষের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করছে, ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে।

যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়েছে কাজীপুর উপজেলার বাহুকা, সিংড়াবাড়ি, বাঐখোলা ও পাটগ্রাম এলাকা। প্রতিদিন ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাঐখোলা বাঁধসহ এসব এলাকার জনপথ। যমুনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মধ্যে রয়েছে গান্দাইল, রতনকান্দি ও শুভগাছা ইউনিয়নের বাহুকা, বাঐখোলা, পূর্ব খুশকিয়া, পাটাগ্রাম, কুড়ালিয়া, সিংড়াবাড়ি, চিলগাছাসহ নদীতীরবর্তী আট গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

অব্যাহত ভাঙনে এসব এলাকার ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাঐখোলা বাঁধের অর্ধকিলোমিটারসহ অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন নদীপাড়ের মানুষ।

এদিকে এনায়েতপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায়ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। যমুনা নদীর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত কয়েকদিনে বাঐখোলা বাঁধের প্রায় অর্ধকিলোমিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

ভাঙন কবলিত ওমর আলী নামে আরেকজন বলেন, গত কয়েক দিনে বাঐখোলা, শুভগাছা গুচ্ছগ্রাম, পাটগ্রাম, পূর্ব খুকশিয়া গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসলি জমি ও বেশ কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, ভারতের আসামে প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর উজানে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে দু-একদিনের মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। বাঐখোলা বাঁধ রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। দুই কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এরই মধ্যে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু হবে। আগামী বছরগুলোতে আর ভাঙন থাকবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ভাঙনের কারণ হতে পারে। ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার নদীপথ আছে। তার মধ্যে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ৩৫ কিলোমিটার নদীভাঙন রোধ করে ফেলেছি।

এ মুহূর্তে আমাদের দুটি প্রকল্প চলমান আছে। এ ছাড়া কাজীপুরের বাঐখোলা, খুদবান্দি এবং এনায়েতপুরের ব্রক্ষনগাতী, হাটপাচিল এলাকায় ভাঙন রয়েছে। এখানে ভাঙন রোধে প্রকল্প তৈরি করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। এগুলো অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।’

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

সিরাজগঞ্জ,তীব্র ভাঙন,যমুনায় পানি বৃদ্ধি
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত