• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:  ০৮ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে তরুণরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অভিভাবক, পরিবার, সমাজ সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রত্যয়ও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রোববার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর লে মেরিডিয়ান হোটেলে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন লেট’স টক মেন্টাল হেলথের তৃতীয়বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘সভ্যতার শুরুতে মানুষ সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হত। ওষুধ, টিকায় সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া শুরু হয়। হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিকস বাড়তে শুরু করে। এখন মনোরোগ জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণরা হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এজন্য অভিভাবক, পরিবার, সমাজ সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি আত্মহত্যা করে।

জাহিদ মালেক বলেন, সারা বিশ্বে বয়স্করা আত্মহত্যায় এগিয়ে থাকলেও আমাদের দেশে তরুণরাই বেশি আত্মহত্যা করে। অন্যান্য দেশে আত্মহত্যায় ছেলেরা এগিয়ে থাকলেও আমাদের দেশে মেয়েরা বেশি এগিয়ে। এর যেসব কারণ আমরা দেখে থাকি, তারমধ্যে মূল কারণ হিসেবে মাদকের ব্যবহারকেই দেখি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে আত্মহত্যার হার এত না হলেও প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যান্য দেশে আরও বেশি। বিশ্বে ১.৪ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যা করে। জাপানসহ আরও কয়েকটা দেশে এর হার ৫ শতাংশ।

কারণ প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, একটা ছেলে বা মেয়ে স্কুলে চান্স পেল না, ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারলো না, সে হতাশায় আত্মহত্যা করে বসলো। এমনটাই আমরা দেখতে পাই। এছাড়াও আরেকটা বড় কারণ দেখি ড্রাগসের ব্যবহারকে। তরুণ তরুণীরা হতাশা থেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমরা যদি একে অপরকে ভালোবাসি, দেশকে ভালোবাসি, তাহলে অনেক খারাপ কিছু থেকেই নিজেকে রক্ষা করতে পারবো।

দায় স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সাইক্রিয়াটিস্ট বা সাইকোলোজিস্ট নেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানও কম। আমাদের জনসংখ্যা বিচারে, প্রয়োজনের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম।

বিষয়টি সরকার বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য খুব জরুরি বিষয়। কিন্তু আমরা ইগনোর করে আসছি। এটাতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

মানুষ অনেক চাপে থাকে বলে টিভিতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।

করোনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা চাই মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যতে নিয়ে আসতে। একদিন সেটাও সম্ভব হবে।‘

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বেঁচে থাকলে স্যাডনেস, ডিপ্রেশন সব কেটে যাবে। কিন্তু বেঁচে না থাকলেই কিছুই নেই। তাই সবাইকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে টিকা নিয়ে নিতে হবে।'

বিশেষ বক্তা হিসেবে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ চৌধুরী রাহিব সাফওয়ান মানসিক স্বাস্থ্য সেবার নানা দিক তুলে ধরেন তার বক্তব্যে।

মনের যত্ন নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিষণ্ণতা থেকে মানুষ আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মনের অসুখকে অবহেলা করার কিছু নেই। সামাজিক ট্যাবু কাটিয়ে মানসিক অসুস্থতা নিয়ে কথা বলতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে লেট’স টক মেন্টাল হেলথের সহ প্রতিষ্ঠাতা আনুশা চৌধুরী বলেন মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় গত তিন বছর ধরে নিরলস কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান।

সমাজের আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে, মানুষের কথা শুনতে লেট’স টক মেন্টাল হেলথ কাজ করে যাবে বলেও জানান সহপ্রতিষ্ঠাতা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মেহতাব খানম বলেন, তিন বছর পূর্ণ হওয়ায় আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।

দেশে সাইক্রিয়াটিস্টদের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মেহতাব খানম বলেন, ‘এত বড় জনসংখ্যার দেশে সাইক্রিয়াটিস্টের সংখ্যা মাত্র ৩০০ কেন আমি জানি না। কিন্তু এই সংখ্যাটি খুবই অপ্রতুল। সাইকোলোজিস্ট বা সাইকোথেরাপিস্ট এর সংখ্যা সবমিলিয়ে ৫০০ হবে।’

মনোরোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিশেষায়িত নার্সের সংখ্যাও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন মেহতাব খানম।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হলে সামগ্রিক ও ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

অভিনেত্রী শম্পা রেজা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানব দেহের এমন একটি বিষয় যা অদৃশ্য আর অস্পৃশ্য। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রাণিজগতের দিকে তাকাই তখন ভাবি, তাদের মনের অসুখ নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয় না। কারণ তারা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মনের চিকিৎসা নিজেই করতে পারে। মানুষ পারে না। প্রকৃতি থেকে এই শিক্ষা মানুষের নেয়া উচিত।‘

সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে শম্পা রেজা বলেন, ‘অর্থের নেতা হয়ে, মনের নেতা হোন। হাজারো মানুষ মনের যন্ত্রণায় ভুগছে। তাদের নেতৃত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাই বলছি মনের নেতা হোন।’

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআই

স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close