• রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭
  • ||

করোনায় হৃদরোগ: যা জানা প্রয়োজন

প্রকাশ:  ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৩২
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

যেকোনো বয়সের মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবুও যাদের হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাদের মধ্যে রোগটি একটু বেশি ভীতির সঞ্চার করেছে। যারা এই রোগে মারা গেছেন, তাঁদের অনেকেই আক্রান্ত ছিলেন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, সিওপিডি, ডায়াবেটিস ইত্যাদির মতো ক্রনিক রোগে। দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ছিলেন হৃদরোগী, যার হার্টের করোনারি ধমনিতে রিং পরানো ছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে হৃৎপিণ্ডে নানা জটিলতা দেখা দেয়। যাদের আগে হৃদরোগ ছিল না, তাদের নতুন করে হৃদরোগ হতে পারে। আবার যাদের আগে থেকে হৃদরোগ ছিলো, তাদের দেখা দিতে পারে নতুন জটিলতা। করোনাভাইরাস হৃৎপিণ্ডের সাথে সম্পর্কিত ধমনি ও শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে, যা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে এবং সময় মতো হাসপাতালে ভর্তি হলে মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস পায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে হার্ট অ্যাটাক প্রথমে ধারণা করা হতো, করোনাভাইরাস মূলত ফুসফুসের বেশি ক্ষতি করে। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভাইরাস হার্টের মাংসপেশিতে ক্ষতি করতে পারে। যে সকল কোভিড-১৯ রোগী ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের প্রতি পাঁচজনে একজনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল এবং ফুসফুসের শ্বাসকষ্ট ছাড়াই তাদের মৃত্যু হয়েছিল। হার্ট করোনারি ধমনির মাধ্যমে পুষ্টি পায়। এই করোনারি ধমনি যদি চর্বি দিয়ে আংশিক ব্লক থাকে, করোনার প্রভাবে তা শতকরা একশভাগ ব্লক হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

এমনকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ সব রোগীর শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথাও হতে পারে। তবে রোগী যদি দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা নাও থাকতে পারে।

করোনার প্রভাবে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হার্ট ফেইলিউর দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো ক্রনিক হার্ট ফেইলিউর, যা আগে থেকেই রোগীর ছিল। এ ধরনের রোগীর হার্টের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়েও কম থাকে। অনেক রোগী বলে থাকেন, হার্ট দুর্বল। এটি হার্টের ইকোকার্ডিওগ্রাফি, বুকের ইসিজি ও এক্সরে করেও জানা যেতে পারে। এ ধরনের রোগীদের হার্ট আকারে বড় হয়ে সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায়। আর অ্যাকিউট হার্ট ফেইলিউর হঠাৎ করেই হতে পারে। হার্টের সংকোচন-প্রসারণ-ক্ষমতা লোপ পেয়ে রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ ও করোনাভাইরাস যারা উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভুগছেন, তাঁদের ঝুঁকি আছে করোনাভাইরাসে। চীনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যুবরণকারী অনেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে অথবা পরিবারে এ ধরনের রোগের ইতিহাস আছে, তাদের সচেতন থাকতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা সুনিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।

করোনা প্রতিরোধে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে যাপিতজীবনে ছন্দপতন হবে না। জীবনকে জয়ী করতে করোনাকে পরাজিত করতে হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

হৃদরোগ,ল্যাব এইড,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close