• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

মফস্বলে হার্ট অ্যাটাক ও চিকিৎসা

প্রকাশ:  ০২ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৫ | আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৯
ডা. মাহবুবর রহমান সিসিইউ ইনচার্জ, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল

মফস্বল এলাকায় হার্ট অ্যাটাক হলে সেখানে অবস্থানকারী চিকিৎসকরা কী করবেন? কেননা সেখানে নেই করোনারি কেয়ার ইউনিট, আইসিইউ বা অন্য কোনো লজিস্টিক সাপোর্ট। তাই বলে চেয়ে চেয়ে মৃত্যু দর্শন কাম্য হতে পারে না।

করণীয়

► চিকিৎসকদের উচিত, হাতের কাছে জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা যা আছে তা দিয়েই প্রথমে মোকাবেলার চেষ্টা করা। প্রাইমারি পিসিআই করা না গেলে সবচেয়ে সহজলভ্য কম দামি স্ট্রেপটোকাইনেজ দিতে হবে, অবশ্য ইসিজিতে STEMI থাকতে হবে।

► যদি রোগী কোনো জেলা বা বিভাগীয় শহরের সচ্ছল পরিবারের কেউ হয়, তবে অধিকতর কার্যকর Tenectiplase দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করার প্রয়োজনে থ্রম্বোলিসিস করার দুই থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে পিসিআই করা যায় এমন হাসপাতালে পাঠাতে হবে। এখন খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বরিশাল, গোপালগঞ্জ ও গাজীপুরে সিসিইউসহ ক্যাথল্যাব গড়ে উঠেছে। এসব কেন্দ্রে এনজিওগ্রামসহ হার্টে অস্থায়ী পেসমেকার বসানো হচ্ছে। বেশির ভাগ কেন্দ্রে এনজিওপ্লাস্টি (রিং)সহ স্থায়ী পেসমেকারও স্থাপন করা হচ্ছে।

► যদি STEMI হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী চিকিৎসা নিতে আসে এবং বুকে ব্যথা, নিম্ন রক্তচাপ বা এরিথমিয়া চলতে থাকে, তাহলেও জরুরি এনজিওগ্রাম এবং এনজিওপ্লাস্টি করাতে হবে। ► রোগী যদি অসচ্ছল হয় বা উচ্চতর হাসপাতালে যাওয়ার মতো অবস্থা না থাকে, তাহলে প্রাথমিক হাসপাতালে বসেই চিকিৎসা দিতে হবে। স্ট্রেপটোকাইনেজ দেওয়ার পর পাঁচ থেকে আট দিন enoxaparin দিতে হবে, যাতে আবার রক্তনালি বন্ধ হয়ে না যায়। কিন্তু যে রোগীর এনজিওপ্লাস্টি হয়ে গেল, তাকে বিশেষ কিছু কারণ ছাড়া এই ওষুধ দেওয়া যাবে না। বরং কখনো কখনো তা ক্ষতিকর হতে পারে।

► অনেক চিকিৎসক মনে করেন, মনিটর বা ডিসি মেশিন ছাড়া স্ট্রেপটোকাইনেজ দেওয়া যাবে না। এটি সঠিক ধারণা নয়, বরং স্ট্রেপটোকাইনেজ একটি জীবন রক্ষাকারী কার্যকর ওষুধ। Reperfusion arrhythmias কোনো সিরিয়াস এরিথমিয়া নয়। এর জন্য রোগীর মৃত্যুও হয় না, বরং রোগী মারা যায় বন্ধ রক্তনালির কারণে। তাই যেভাবে হোক স্ট্রেপটোকাইনেজ দিতে হবে।

যেহেতু হৃদরোগ একটি জীবনসংহারি ঘাতক রোগ এবং অতি দ্রুত মৃত্যু ডেকে আনে, সুতরাং এর আধুনিক চিকিৎসা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। বেশির ভাগ মানুষ যেহেতু মফস্বলে থাকে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত, তাই সরকারকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে দেশে স্থাপিত প্রায় সত্তরোর্ধ্ব মেডিক্যাল কলেজে স্বতন্ত্র হৃদরোগ বিভাগ খুলে সিসিইউ/আইসিইউসহ ক্যাথল্যাব গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া ৬৪ জেলায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বনির্ভর ইউনিট সিসিইউ/আইসিইউ খোলাও অত্যন্ত জরুরি।


পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

হার্ট অ্যাটাক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close