• বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

করোনামুক্তির পর শারীরিক সমস্যা ও বাড়তি পরিচর্যা

প্রকাশ:  ১৬ জুলাই ২০২০, ২০:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস মুক্ত হওয়া মানেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা নয়। কারণ প্রাণঘাতি এ ভাইরাস কেবল ফুসফুসকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি মস্তিষ্ক, স্নায়ু, রক্ত সংবহনতন্ত্র, কিডনি, চোখ ও যকৃতেরও ক্ষতি করে থাকে। তাই সুস্থ হওয়ার পরও অনেক করোনা রোগীর মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি, কোমরে ও মেরুদণ্ডে ব্যথা, অবশ, ঝিঁঝিঁ লাগা, দুর্বলতা রয়ে যায়।

এছাড়াও শ্বাসনালি ও ফুসফুসে প্রদাহজনিত ক্ষতির কারণে শ্বাসতন্ত্রের সক্ষমতা কমে যেতে পারে, কণ্ঠস্বরেও সমস্যা হতে পারে। ভাইরাসটির আক্রমণে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা দেখা দেয়, ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। এ ছাড়া ভয়, অনিদ্রা, উদ্বেগসহ নানা প্রকার মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

করোনা থেকে মুক্ত হলেও পুরোপুরি কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে, আগের মতো ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করার মতো ফিটনেস পেতে, কথা বলা, খাবার গেলা ও মানসিক শক্তি ফিরে পেতে এই পুনর্বাসন চিকিৎসার বিকল্প নেই।

গবেষকেরা বলছেন, করোনা যাওয়ার পরও শতকরা ৩০ ভাগ রোগীর কোভিড-১৯-পরবর্তী পুনর্বাসনসেবা প্রয়োজন। পুরোপুরি কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে, আগের মতো ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করার মতো ফিটনেস পেতে, কথা বলা, খাবার গেলা ও মানসিক শক্তি ফিরে পেতে বাড়তি পরিচর্যার বিকল্প নেই। এটি করতে হবে ধাপে ধাপে।

করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর যাদের গলাব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি ইত্যাদি উপসর্গ ছিল, তাঁরা সুস্থ হওয়ার পর দু-তিন সপ্তাহ ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলবেন। যাঁদের উপসর্গ ছিল না কিংবা মৃদু উপসর্গ ছিল, তাঁরা হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। তবে যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে হবে। প্রথম সপ্তাহে একেবারেই হালকা ব্যায়াম করবেন।

যেসব রোগীকে হাসপাতালে অক্সিজেন নিতে হয়েছিল, তাদের সুস্থ হওয়ার পর ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে খুবই সতর্কতার সঙ্গে প্রথমে লো ইনটেনসিটি এক্সারসাইজ শুরু করতে হবে। এ সময় তাঁদের নাড়িস্পন্দন, রক্তচাপ ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণে রেখে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়াতে হবে।

করোনা পজেটিভ হওয়ার পর যাদের হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা হয়েছিল, তারা খেলাধুলা, শরীরচর্চা কেন্দ্রে ব্যায়াম বা উচ্চ মাত্রার শারীরিক কসরত করার আগে তিন-ছয় মাস পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।

বাংলাদেশে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) সাভার প্রধান কার্যালয় ও মিরপুর শাখায় কোভিড-১৯-পরবর্তী পুনর্বাসন চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে।

পূর্বপশ্চিম-এনই

করোনামুক্ত,করোনা থেকে সুস্থ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close