• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

দেশে যেভাবে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা

প্রকাশ:  ২৩ মে ২০২০, ১৬:২৩ | আপডেট : ২৩ মে ২০২০, ১৬:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে করোনা সংক্রমণের গতি বেড়েই চলেছে। আক্রান্তের সংখ্যায় তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৮৭৩ জন। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের নতুন রেকর্ড এটি। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল সংখ্যা ৩২ হাজার ৭৮ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ২০ জন মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও নয় হাজার ৯৭৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ৮৩৪টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৫টি।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের ১৬ জন পুরুষ ও চারজন নারী। চারজন ঢাকা বিভাগের, আটজন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন করে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের এবং একজন করে সিলেট ও খুলনা বিভাগের। হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, বাসায় চারজন এবং হাসপাতালে আনার পথে মারা গেছেন একজন। বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী দুজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব আটজন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন এবং সত্তরোর্ধ্ব একজন রয়েছেন।

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের পর শুরুতে করোনা সংক্রমণ ধীর গতিতে বাড়লেও গত একসপ্তাহ ধরে আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের নিচে নামছেই না।

আইইডিসিআর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ২১ জানুয়ারি থেকে কোভিড-১৯ এর স্ক্রিনিং এবং নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। এর ৪৮ দিনের মাথায় গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। ওইদিন তিনজনের দেহে করোনা পজিটিভ পাওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষার শুরু থেকে ওইদিন পর্যন্ত মোট ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রথম শনাক্তের একমাসের মাথায় গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮ জনে। এ সময় মোট মারা যান ২০ জন এবং সুস্থ হন ৩৩ জন। পরবর্তী মাস শেষে (৮ মে) সংক্রমণের সংখ্যা ৬০ গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৩৪ জনে। এ সময় পর্যন্ত মারা যান মোট ২০৬ জন।

করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৮ মার্চ তিনজন শনাক্তের পর মোট আক্রান্ত দুই অঙ্কের সংখ্যায় পৌঁছাতে সময় লাগে ১০ দিন। অর্থাৎ ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ শনাক্ত হন ১০ জন। এই ১০ দিনের ছয় দিনে দেশে কোনো করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি। দশকের অঙ্ক থেকে করোনা শনাক্তে শতকে পৌঁছাতে সময় লাগে আরো ২০ দিন। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা পজিটিভ ছিল ১২৩ জন।

এদিকে শনাক্তের সংখ্যা শতক থেকে হাজারে যেতে সময় লেগেছে মাত্র আট দিন। গত ১৪ এপ্রিল (দেশে আক্রান্তের ৩৮তম দিন) শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১২ জনে। আর করোনা আক্রান্ত হাজার থেকে ১০ হাজারে পৌঁছতে সময় লাগে আরো ২০ দিন। আক্রান্তের ৫৮তম দিনে (৪ মে) মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজার ১৪৩ জনে। এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয় পরবর্তী ১২ দিনে। অর্থাৎ ১৫ মে বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২০ হাজারের কোটায় পৌঁছে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার ৬৫ জনে। পরবর্তী এক সপ্তাহে অর্থাৎ ১৬ মে থেকে ২৩ মে করোনা রোগী শনাক্ত ১২ হাজার ১৩ জন। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩২ হাজার ৭৮ জন।

করোনায় মৃতের সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশে প্রথম আক্রান্তের ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মারা যান একজন। প্রথম মৃত্যুর ১৯ দিনের মাথায় (আক্রান্তের ৩০তম দিন) ৬ এপ্রিল মৃত্যুর সংখ্যা দুই অঙ্কে (১২ জন) পৌঁছে। মৃতের সংখ্যা দুই অঙ্ক থেকে তিন অঙ্কে যেতে সময় লাগে আরো ১৪ দিন।

২০ এপ্রিল (আক্রান্তের ৪৪তম দিন) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০১ জনে। প্রথম মৃত্যু থেকে এই সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছাতে যেখানে ৩৪ দিন লেগেছে, সেখানে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে সময় লাগে ১৮ দিন। গত ৮ মে (দেশে আক্রান্তের ৬২তম দিন) পর্যন্ত মোট মারা যান ২০৬ জন। ১৫ মে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৮ জন। পরবর্তী এক সপ্তাহে অর্থাৎ ১৬ মে থেকে ২৩ মে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১৯৪ জন। করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৪৫২ জন।

নিচে চলতি মে মাসের শুরু থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা তুলে ধরা হলো। এ থেকেই সংক্রমণের সংখ্যা যেভাবে সেই চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১ মে : আক্রান্ত ৫৭১ জন, মারা যান ২ জন।

২ মে : আক্রান্ত ৫৫২ জন, মারা যান ৫ জন।

৩ মে : আক্রান্ত ৬৬৫ জন, মারা যান ২ জন।

৪ মে : আক্রান্ত ৬৮৮ জন, মারা যান ৫ জন।

৫ মে : আক্রান্ত ৭৮৬ জন, মারা যান ১ জন।

৬ মে : আক্রান্ত ৭৯০ জন, মৃত্যু ৩ জন।

৭ মে : আক্রান্ত ৭০৬ জন, মৃত্যু নেই।

৮ মে : আক্রান্ত ৭০৯ জন, মারা যান ৭ জন।

৯ মে : আক্রান্ত ৬৩৬ জন। মারা যান ৮ জন।

১০ মে : আক্রান্ত ৮৮৭ জন, মৃত্যু ১৪ জনের।

১১ মে : আক্রান্ত হন ১০৩৪, মৃত্যু ১১ জনের।

১২ মে : আক্রান্ত হন ৯৬৯, মৃত্যু ১১ জনের।

১৩ মে : আক্রান্ত ১১৬২ জন, মারা যান ১৯ জন।

১৪ মে : আক্রান্ত ১০৪১ জন, মারা যান ১৪ জন।

১৫ মে : আক্রান্ত ১২০২ জন, মৃত্যু হয় ১৫ জনের।

১৬ মে : আক্রান্ত ৯৩০ জন, মৃত্যু হয় ১৬ জনের।

১৭ মে : আক্রান্ত ১২৭৩ জন, মারা যান ১৪ জন।

১৮ মে : আক্রান্ত ১ হাজার ৬০২ জন, মৃত্যু ২১ জনের।

১৯ মে : আক্রান্ত ১২৫১ জন, মৃত্যু হয় ২১ জনের।

২০ মে : আক্রান্ত ১৬১৭ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।

২১ মে : আক্রান্ত হয়েছে ১৭৭৩ জন, মৃত্যু ২২ জনের।

২২ মে : আক্রান্ত ১ হাজার ৬৯৪ জন, মৃত্যু ২৪ জনের।

২৩ মে : আক্রান্ত ১ হাজার ৮৭৩ জন। মৃত্যু ২০ জনের।

পূর্বপশ্চিম-এনই

দেশে করোনা,করোনায় আক্রান্ত,করোনায় মৃত,দেশে করোনায় মৃত,দেশে করোনায় আক্রান্ত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close