• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

করোনা চিকিৎসায় দেশে যে দুই ওষুধে বাড়ছে সুস্থতা

প্রকাশ:  ২২ মে ২০২০, ১৮:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে ইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন। এ দুই ওষুধ ব্যবহারে করোনা মুক্তির হার বেড়েছে কয়েক গুণ।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে দেড় হাজার আক্রান্ত রোগীর ওপর এই ওষুধ ব্যবহার করে কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। তারা দাবি করছেন, ইভারমেকটিনের সিঙ্গেল ডোজের সঙ্গে ডক্সিসাইক্লিনের প্রয়োগে মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরজীবী জীবাণু ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নাশক হিষেবে অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল মেডিসিন ইভারমেকটিন ব্যবহার হয়ে আসছে। ডক্সিসাইক্লিন হচ্ছে একটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ, যা মানুষের দেহে সংক্রমক জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোগ গড়ে তোলে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনা চিকিৎসায় এ দুটি ওষুধের ব্যবহারকে স্বাগত জানালেও এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন মনে করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগও বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছে বলে জানা গেছে।

করোনা মহামারিতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণঘাত ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এরই করোনায় আক্রান্ত পুলিশের সংখ্য দুই হাজার ছাড়িয়েছে। প্রথমদিকে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে গত চার-পাঁচদিনে সেই সংখ্যা প্রতিদিন প্রায় এক'শ। হাসাপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, ইভারমেকটিন, ডক্সিসাইক্লিন ব্যবহারের ফলেই বাড়ছে সেরে ওঠা রোগীর সংখ্যা।

রোগী শনাক্তের প্রথম দিনেই দেয়া হচ্ছে দুটি ইভারমেকটিন আর ডক্সিসাইক্লিন দেয়া হচ্ছে সাত দিনে সাতটি। এতেই সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক পুলিশ সুপার মো. এমদাদুল হক বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি কয়েকদিন ধরে রোগী সেরে উঠছে প্রতিদিন প্রায় ১০০ করে। দুটি ইভারমেকটিন, ডক্সিসাইক্লিন ১০০ মিলিগ্রাম এই ওষুধে সুফল মিলছে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হওয়া জরুরী পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিকল্প ওষুধ ব্যবহারে নিষেধ নেই বিশেষজ্ঞদের। তবে ওষুধগুলো সাফল্যের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ফার্মাকোলজিক্যাল সোসাইটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, এ ওষুধ দিয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে এ ধরনের প্রচারণা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। তাই গবেষণা করা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

করোনা নিরাময়ে দুটি ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বলছেন, দুটি ওষুধের কার্যকারিতা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন আমাদের গবেষকরা। এখনই এ বিষয়ে চুড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতালের এক গবেষণা প্রকল্পে রফলাফলে বলা হয়েছিল, সারা বিশ্বে ব্যবহৃত পরাশ্রয়ী জীবাণু বিধ্বংসী ঔষধ, ইভারমেকটিন ৪৮ ঘন্টায় জীবাণু নির্মূলে পারঙ্গম। ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখান, ইভারমেকটিন ৪৮ ঘন্টায় সার্স-কোভ-২ জীবাণুকোষের বিকাশ রোধে সক্ষম।

পরবর্তীতে দেশে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের ডা. তারেক আলমের নেতৃত্বাধীন একটি দল করোনা নিরাময়ে ইভারমেকটিন ও ডোক্সিসাইক্লিন প্রয়োগ করে সাফল্য পাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন।

পূর্বপশ্চিম-এনই

ইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন।,ইভারমেকটিন,করোনা চিকিৎসা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close