• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

‘দেড় লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সুস্থ থাকা সম্ভব’

প্রকাশ:  ২০ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বুধবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। কেননা মানুষ যদি তার নিজস্ব সম্পত্তি বিক্রি বা দান করার অধিকার রাখে, তাহলে যে কোনো সুস্থ মানুষ দুটো কিডনি থেকে একটি দান বা বিক্রি করার অধিকার রাখে। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক কিডনি রোগী কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পেরে ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। আর যাদের আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে তারা বিদেশে গিয়ে প্রতিস্থাপন করিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস একটি অপচিকিৎসা। একজন কিডনি রোগীকে ডায়ালাইসিস করাতে মাসে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মাত্র দেড় থেকে দুই লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অনায়াসে সুস্থ থাকা সম্ভব।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ১০ হাজার মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আইনি জটিলতার কারণে এদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার রোগী ভারতে এবং পাঁচ শতাধিক রোগী শ্রীলংকায় গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করে। কিছু ধনী ব্যক্তি সিঙ্গাপুর গিয়েও প্রতিস্থাপন করে থাকে। এর ফলে বছরে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়। অথচ আইনি জটিলতা না থাকলে জনপ্রতি মাত্র দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ পাচার হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

প্রবীণ এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, পৃথিবীর দুটি দেশের আইন এ ধরনের সংকীর্ণতা রয়েছে। একটি পাকিস্তান এবং অন্যটি মিশর। আমরা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এদের অনুসরণ করেছি। অথচ ইউরোপ, আমেরিকার মতো সৌদি আরব ও ইরানে জনমুখী আইন রয়েছে। ইরানে যে কোনো মানুষ কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদান কতে পারে। এক্ষেত্রে দাতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিপুল পরিমাণ আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।

পাশাপাশি প্রতিস্থাপন পরবর্তী চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়। দেশে ১০ জন ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন রয়েছে। তবে এক বছরের মধ্যে এটি ১০০ জনে উন্নীত করা সম্ভব।

আগামী বছর থেকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হবে। যেখানে গরিবদের জন্য খরচ হবে দেড় লাখ টাকা এবং ধনীদের জন্য আড়াই লাখ টাকা বলে জানান তিনি।


পূর্বপশ্চিম বিডি/ওআর

ডায়ালাইসিস,কিডনি,গণস্বাস্থ্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত