• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

জনবল সংকটই স্বাস্থ্য খাতের প্রধান সমস্যা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:  ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের জন্য ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক ডেলিভারি সুবিধার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জনবল সংকটই স্বাস্থ্য খাতে আমাদের এক নম্বর সমস্যা। সেই সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও এই খাতে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। আমরা বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছি। শিশু মৃত্যুর হার, মাতৃ মৃত্যুর হার আমরা অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। দেশের সব জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কেন্দ্র’ কর্তৃক আয়োজিত বিশ্ব প্রিম্যাচুরিটি দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে প্রতিবছর ছয় লাখের বেশি শিশুর নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম (প্রিটার্ম/প্রিম্যাচিউর বার্থ) হয়। মায়ের সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে প্রিম্যাচিউর বার্থ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্ক্যানো ইউনিট বাড়িয়ে শিশুদের ক্যাঙ্গারু কেয়ার দেওয়া গেলে প্রিম্যাচিউর শিশু মৃত্যুর হার কমবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ফলে মায়েরা প্রয়োজনীয় যত্নটুকু পায় না। সুষম খাদ্য পায় না। আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, এখনো ১৯টি জেলায় স্ক্যানো ইউনিটের সুবিধা নেই। এসব জায়গায় আমরা দ্রুত এই সেবা চালু করব।

তিনি আরও বলেন, এখনো গ্রামে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশুর জন্ম বাড়িতে হয়। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো গেলে মাতৃ মৃত্যুর হারও কমানো যাবে। আমরা চাই, একজন মাও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রিম্যাচিউর বার্থ ১২ জনে নামিয়ে আনতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের সবাই সঠিকভাবে কাজ করলে আগামী দুই বছরে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। আমরা দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা প্রসুতি সেবা চালু করার চেষ্টা করছি।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক আলম আরা বেগম, পরিকল্পনা শাখার যুগ্ম-প্রধান ডা. আ. এ. মো. মহিউদ্দীন ওসমানী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. বার্দন জাং রানা, ইউনিসেফ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি তমু হজুমি, ইউএসএইড-এর প্রতিনিধি জারসাস সিধা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসি বিভাগের লাইন ডাইরেক্টর শামসুল হক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, বিশ্বে প্রতিবছর ১৫ মিলিয়ন মানুষ অকালে জন্ম নেয়। এর ফলে প্রচুর সংখ্যক শিশু অপরিণত বয়সেই মারা যায়। আমাদের দেশেও ৩১ ভাগ শিশু অপরিমিত বয়সে জন্মের কারণেই মারা যাচ্ছে। এই মৃত্যু রোধ করতে মায়েদের ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ সেবা দিতে হবে। দেশের সব হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা গর্ভবতী মায়েদের জন্য সেবা বিভাগ রাখতে হবে। এর পাশাপাশি নার্স ও মিডওয়াইফারিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং শিশু মৃত্যুহার হ্রাস করতে হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী,জাহিদ মালেক,সরকারি হাসপাতাল,গর্ভবতী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত