Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

বিদেশি চিকিৎসক এনে শাহাবুদ্দিন মেডিকেলের অভিনব ব্যবসা!

প্রকাশ:  ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

বিদেশি চিকিৎসকদের দেশে রোগী দেখা বা প্রাকটিসের জন্য প্রয়োজন হয় বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ওয়ার্ক পারমিট। নির্দিষ্ট নিবন্ধন ফির বিনিময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বিএমডিসি এই অনুমোদন দিয়ে থাকে। অথচ কোনো ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের তোয়াক্কা না করেই শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেমিনারের নামে বিদেশি চিকিৎসক এনে অবাধে তাদের রোগী দেখার কাজে লাগিয়ে দিচ্ছেন। অভিযোগ ওঠেছে, বিদেশি চিকিৎসকদের ভিজিট হিসেবে রোগীদের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

রাজধানীর গুলশানের ১১৩ নম্বর রোডে বিএনপি-জামায়াত আমলে ২০০২ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিভিন্ন সময় এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অনৈতিক বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। এমনকি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত) এর শর্ত পূরণ না করায় ২০১৭-২০১৮ সালে এখানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিজস্ব নামে জমি বৃদ্ধি, হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা এবং বেড অকুপেন্সি বৃদ্ধি, কনফারেন্স রুম বড়, হল স্টেপ ডাউন প্যাটার্ন করা ও শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী আমানত সমন্বয় সাপেক্ষে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তেমনভাবে চিকিৎসা সেবায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখতে না পারলেও রমরমা অবৈধ ভর্তি বাণিজ্য করে গেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কঠোর নজরদারির কারণে এ ব্যবসা থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে অভিনব চিকিৎসা প্রতারণা শুরু করেছে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ওঠেছে, মেডিকেল কলেজের সেমিনারের সেমিনারের নাম করে প্রায় প্রতি মাসেই বিদেশি কয়েকজন চিকিৎসককে নিজের হাসপাতালে এনে তাদের দিয়ে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা করাচ্ছেন। মূলত ৩ থেকে ৭ দিন ব্যাপী সেমিনারের নামে বিদেশি চিকিৎসকদের এনে সেমিনার না করিয়ে রোগীদের কাছ থেকে গলাকাটা ফিস নিচ্ছেন, সেই সঙ্গে অনেকগুলো টেস্ট ধরিয়ে দিচ্ছেন।

মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসির কাছ থেকে বিদেশি চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যে অনুমতি লাগে, সেটার ধার ধারেনি শাহবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেমিনারের নাম করে আনা বিদেশি চিকিৎসকদের দিয়ে অনেকটা গোপনেই তারা রোগী দেখিয়ে ভিজিট প্রতি ৫ হাজার টাকা করে ফিস আদায় করছেন বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন।

সর্বশেষ ভারত থেকে কয়েকজন চিকিৎসক সেমিনারের নামে হাসাপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু দিনের বেলায় নামে মাত্র সেমিনার করিয়ে বিদেশি চিকিৎসকদের দিয়ে সারাদিনই বান্ধত্ব্য মোচনসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসার নামে রমরমা ব্যবসা করার অভিযোগ ওঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নিজেদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বান্ধত্ব্য রোগে (নিঃসন্তান) ভুক্তভোগীদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে যে, বিদেশ থেকে এই রোগের ভালো চিকিৎসক আনা হয়েছে। ফোন করে রোগীদের বলা হচ্ছে, টাকা ৫ হাজার লাগলেও এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগমুক্তির সম্ভাবনা অনেক বেশি। বাংলাদেশি ডাক্তারদের দিয়ে এ রোগের ভালো কোনো চিকিৎসা সম্ভব নয়; তাই রোগিদের জন্য ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনেছেন। একজন ভুক্তভোগী রোগী এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও যেভাবে কথা বলেছেন এমনকি যেসব পরীক্ষা দিয়েছিলেন তারচেয়ে আলাদা কোনো চিকিৎসা শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাননি।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে বলা হয়, হাসপাতালের যে কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন গভর্নিং বডির সদস্য ফয়সাল আল ইসলাম। তিনি এ মুহূর্তে দেশের বাইরে আছেন। পরে নিজেকে হাসপাতালের পরিচালক দাবি করে মনসুর আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নীতিমালা মেনেই এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের যথাযথ অনুমতি নিয়েই বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়। তারা আসেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের লেকচার দিতেই। পাশাপাশি ইন্টার্নি চিকিৎসকদের রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কে কখনো কখনো তারা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নীতিমালা পরিপন্থি কোনো কাজ এখানে হয় না।

সেমিনার বা কনফারেন্সের নামে আনা বিদেশি চিকিৎসকদের দিয়ে রোগী দেখানোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বিষয়টি মোটেও কাম্য নয়। সেমিনার করতে আসলে তারা শুধু সেমিনারই করতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসা দেয়ার জন্য আলাদা অনুমতি নিতে হয়। শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি- এনই

শাহবুদ্দিন মেডিকেল,চিকিৎসক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত