• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯
  • ||

সুদ বাড়াতে হলে এক মাস আগে গ্রাহককে নোটিশ দিতে হবে

প্রকাশ:  ১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সময়ে বেশি কয়েকটি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণের শর্ত অনুযায়ী ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরও গ্রাহককে অনাপত্তি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকের অজান্তে অতিরিক্ত সুদ ও চার্জ নির্ধারণের কারণে ঋণটি সম্পূর্ণ পরিশোধ বা সমন্বয় হয়নি বলে জানায় ঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে করে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহক। এমন পরিস্থিতি এড়াতে এখন থেকে বিনা নোটিসে অতিরিক্ত সুদ বা চার্জ নির্ধারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বা লিজের সুদ বা মুনাফার হার বাড়াতে হলে যৌক্তিক কারণ জানিয়ে গ্রাহককে এক মাস আগে নোটিস দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক কর্তৃক প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া কোনো মেয়াদপূর্তি-পূর্ব পরিশোধ ফি আদায় করা যাবে না মর্মেও নির্দেশনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী সুদ ও মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নোটিসপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করছে না। তাছাড়া প্রায়শই দেখা যাচ্ছে যে, ঋণচুক্তির তফসিল মোতাবেক সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধের পর গ্রাহক জানতে পারছেন তার ঋণটি সম্পূর্ণ পরিশোধ বা সমন্বয় হয়নি। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সুদ বা মুনাফার হার পরিবর্তনের কারণে গ্রাহককে অতিরিক্ত কিস্তি বা ঋণের দায় পরিশোধ করতে হবে। এতে গ্রাহক বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এরূপ অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দারস্থ হচ্ছেন, যা অনভিপ্রেত। এছাড়াও বিদ্যমান মেয়াদপূর্তি-পূর্ব পরিশোধ ফি’র হার যৌক্তিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সুদ বা মুনাফার হার বৃদ্ধির ফলে যদি কোনো গ্রাহক সুদ বা মুনাফা বাড়ানোর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে কোনো ঋণ বা বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাতে চান তাহলে বকেয়া স্থিতির ওপর সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে মেয়াদপূর্তি-পূর্ব পরিশোধ ফি আদায় করা যাবে। তবে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএস) উদ্যোগ খাতে প্রদত্ত ঋণ মেয়াদপূর্তি পূর্ব সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এরূপ ফি আদায় করা যাবে না।

গ্রাহকের সঙ্গে ঋণচুক্তির আওতায় সুদ বা মুনাফার হার পরিবর্তনের যৌক্তিকতা উল্লেখপূর্বক ন্যূনতম এক মাস আগে ঋণের নথিতে সংরক্ষিত সর্বশেষ হালনাগাদ যোগাযোগের ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে গ্রাহককে নোটিস প্রদান করতে হবে এবং গ্রাহকের নোটিসপ্রাপ্তির প্রমাণক সংশ্লিষ্ট ঋণ নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। ঋণচুক্তির আওতায় সুদহার কমানো ও বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংকুচিত বা অতিরিক্ত অর্থ পরবর্তী কিস্তির সঙ্গে সমহারে সমন্বয় করতে হবে এবং গ্রাহককে নতুন পরিশোধসূচি দিতে হবে।

সুদ বা মুনাফার হার হ্রাস বা বাড়ানোর কারণে যদি কোনো গ্রাহক সুদ বা মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে কোনো ঋণের অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধের মাধ্যমে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাতে চান সেক্ষেত্রে কোনো মেয়াদপূর্তি-পূর্ব পরিশোধ ফি আদায় করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close