• শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
  • ||

অনাবৃষ্টিতে কমেছে চায়ের উৎপাদন

প্রকাশ:  ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

চায়ের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এ বছর ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সরকার। তবে অনাবৃষ্টিতে দেশে চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সে লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করা সম্ভব হবে না বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ চা বোর্ড।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে চা উৎপাদন ৪১ লাখ কেজি কম হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

এ কারণে চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলে সরবরাহ কম থাকায় আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্রেও চলতি বছর চায়ের বাড়তি দাম দিতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৬৮টি চা বাগানে মোট ৭৫২ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে চা উৎপাদন হয়েছিল ৭৯৩ লাখ কেজি।

চা উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত করবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

চা বোর্ডের উৎপাদন ও পরিকল্পনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, সরকার চায়ের উৎপাদন বাড়াতে এবং রপ্তানি বাড়াতে চায়। ফলে ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর পরেও দেশের চা উৎপাদন অব্যাহত ছিল। তবে চলতি মৌসুমের অপর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে বছরের শেষ দিকে চা উৎপাদন কমে গেছে। ফলে বাগানগুলোতে এ বছর ১ কোটি কেজি চা উৎপাদন সম্ভব হবে না।

ম্যাগনোলিয়া গ্রুপের চা বিভাগীয় প্রধান মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চা উৎপাদনের জন্য অনুকূল আবহাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চা বোর্ডের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় চা বাগানগুলো উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিলেও সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন আগের তুলনায় কমে গেছে।

তবে চা উৎপাদন বাড়াতে চা বাগানগুলো গত দুই মাসে কঠোর পরিশ্রম করছে বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিকতম নিলাম প্রতিবেদনে উত্পাদন হ্রাসের চিত্র উঠে এসেছে।

২৮ নভেম্বর মৌসুমের ৩০তম আন্তর্জাতিক নিলামে প্রায় ৩৫৭ লাখ কেজি চা নিলামে তোলা হয়।

আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য ৩১তম নিলামে ৩৫৯ লাখ কেজি চা বিক্রি হবে। যা আগের বছরের নিলামের চেয়ে প্রায় ১ লাখ কেজি কম।

চা বাগানগুলো ২৮ ও ২৯ তম নিলামেও আগের বছরের তুলনায় কম চা সরবরাহ করেছিল।

এর আগে, ২০২০ সালে দেশের চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫৯ লাখ কেজি। সে বছর চা উৎপাদন হয়েছিল ৮৬৩ লাখ কেজি।

২০২১ সালে, লক্ষ্য ছিল ৭৭৮ লাখ কেজি। সে বছর দেশের চা বাগানগুলো ৯৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদন করেছিল।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অপর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে ও বছরের মাঝামাঝি শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কয়েক সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ থাকায় খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, “এবারে লক্ষ্যমাত্রা কমাতে হবে। কারণ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।”

চা
  • নিউজ ট্যাগ:
  • চা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close