• শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

দামের ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যের হাহাকার

প্রকাশ:  ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে খাদ্যের দাম বাড়ায় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে দেশগুলো। স্বল্প, মধ্য ও উচ্চ আয়ের সব দেশকেই খাদ্য মূল্যস্ফীতির ধকল সহ্য করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৫টি দেশের ২০ কোটি ৫১ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছে। চলতি বছর তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। সোমালিয়ার উপকূলবর্তী তিনটি অঞ্চলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মারাত্মক খাদ্যসংকটের কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্বব্যাংকের এক ব্রিফিংয়ে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সে তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনার সময়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন কম হওয়া ও সরবরাহ-ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ-ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কৃষি উপকরণের সংকটের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমেছে। একই সঙ্গে সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় খাদ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এতে সার্বিকভাবে খাদ্য উপকরণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে সুষম সরবরাহ। যার প্রভাবে বিশ্বের প্রায় সব দেশে খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ছে লাগামহীন গতিতে। কোনো কোনো দেশে এই হার গত ৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।

সম্পর্কিত খবর

    প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২১টি দেশ ৩০ ধরনের খাদ্য উপকরণ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েকটি দেশ খাদ্য রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে। খাদ্য রপ্তানিতে নিবন্ধন প্রথা আরোপসহ নানা ধরনের অশুল্ক বাধা আরোপ করেছে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

    ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক দেশ। তারা গম, ভাঙা চাল ও চিনি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে তারা গম রপ্তানি বন্ধ করেছে। আলজেরিয়া চিনি, গম, তেল রপ্তানি বন্ধ করেছে। আর্জেন্টিনা সয়াবিন তেল রপ্তানির ওপর কর আরোপ করেছে। বাংলাদেশ চাল রপ্তানি বন্ধ করেছে। ঘানা ভুট্টা, চাল ও সয়াবিন রপ্তানি বন্ধ করেছে। ইরান আলু, ডিম, পেঁয়াজ, টমেটো রপ্তানি বন্ধ করেছে। কাজাকিস্তান থেকে সানফ্লাওয়ার বীজ ও চিনি রপ্তানি বন্ধ। কুয়েত ভেজিটেবল অয়েল, মুরগির মাংস পাকিস্তান চিনি, রাশিয়া সরিষার বীজ, সয়াবিন, গম, কর্ন সানফ্লাওয়ার বীজ, সানফ্লাওয়ার তেল রপ্তানি বন্ধ করেছে। তিউনেশিয়া ফল ও সবজি, তুরস্ক রান্নার তেল, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও বাটার রপ্তানি বন্ধ করেছে। পাকিস্তানে বন্যার কারণে খাদ্য উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মূল্য ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি মূল্যসূচক কমেছে ২ শতাংশ। জুলাইয়ে খাদ্যশস্যের দাম কিছুটা কমার পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গম এবং ভুট্টার দাম বেড়েছে। তবে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে ভুট্টার দাম ১২ শতাংশ এবং গমের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। চালের দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২১ সালের তুলনায় এখন পর্যন্ত ভুট্টার ১৭ শতাংশ, গমের ২৯ শতাংশ এবং চালের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close