• বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

এবার বেসামাল চালের বাজার

প্রকাশ:  ২৭ মে ২০২২, ১২:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে এখন বোরোর ভরা মৌসুম। সারা বছরের চাহিদার সিংহভাগই চালই আসে বোরো থেকে। অথচ বোরোর এই সময়েই অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম বেড়েছে সর্বনিম্ন ৪ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা।

এই সময়ে চালের বাজারে এমন অস্থিরতা নিয়ে হতবাক মিল মালিকেরাও। এ জন্য অবৈধ মজুতদারিকে দুষছেন তাঁরা। বাংলাদেশ অটোমেজর ও হাসকিন মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, বোরোর ভরা মৌসুমে চালের দাম কখনো বাড়েনি। এবার তা-ও দেখতে হচ্ছে। চালের মজুত কালোটাকার মালিকদের কাছে চলে যাচ্ছে। তাঁরা অবৈধ মজুত গড়ে তুলছেন। এ কারণে বাজারে চালের দাম বাড়তি।

এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৬২-৬৬ টাকায় বিক্রি করেছিলেন রাজধানীর নিউমার্কেটের মেসার্স হানিফ রাইস এজেন্সির মালিক আবু হানিফ। গতকাল বৃহস্পতিবার একই চাল ৬৬-৭০ টাকায় বিক্রির কথা জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ৭০ টাকার নাজিরশাইল ৮০ টাকায়, ৫০ টাকার বিআর-২৮ চাল গতকাল ৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন এই ব্যবসায়ী।

পাইকারি বাজারেও বেড়েছে চালের দাম। পুরান ঢাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁদের বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল মানভেদে বিক্রি হয়েছিল ৬২-৬৩ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৬৭-৬৮ টাকায়। আর ৭০ টাকার নাজিরশাইল ৮০ টাকায়, ৪৪-৪৫ টাকার বিআর-২৮ চাল ৫০-৫১ টাকায় এবং ৪১-৪২ টাকার স্বর্ণা চাল ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শুধু পাইকারি ও খুচরা বাজার নয়, মোকামেও চালের দাম বেড়েছে এক সপ্তাহে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৫০ কেজির মিনিকেট চালের বস্তার দাম ছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। গতকাল তা ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। যা আগে ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা।

মোকাম মালিকেরা জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, উৎপাদনে ঘাটতির কারণে বাজারে সরবরাহ চেইন ভেঙে গেছে। এ কারণে দাম বাড়ছে। আগাম বন্যা ও ঝড়ের কারণেও এ বছর উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। দেশের মোট চাহিদার ১৫-১৬ শতাংশ ধান উৎপাদন হয় হাওরাঞ্চলে। সেখানে ২০ শতাংশ ধান নষ্ট হয়েছে। তবে সে ধানে চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। ঝড়ে অনেক জেলার ধান পড়ে যাওয়ায় বিঘাপ্রতি ৬-৭ মণ উৎপাদন কম হয়েছে। কিন্তু সরকার বাস্তবতা মানতে রাজি নয়। মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ে তথ্যের ঘাটতিও রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

পূর্ব পশ্চিম/জেআর

চাল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close