• বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮
  • ||
শিরোনাম

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে ‘লুকানো রত্ন’

প্রকাশ:  ০৯ জুন ২০২১, ২১:২৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ফান্ড ম্যানেজার বা সম্পদ ব্যবস্থাপকদের তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র আনার জন্য সুযোগ রয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ‘লুকানো রত্ন’ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন হংকং সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি)।

আরো বলা হয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ ৩০ কোম্পানি বাজার মূলধন এবং তারল্য পরিমাপের মাধ্যমে ডিএসই ৩০ সূচকে স্থান করে নিয়েছে। যা গত ১২ মাসের মধ্যে ৬৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

চলতি মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এইচএসবিসি বলেছে, বাংলাদেশের স্টক মার্কেট বর্তমানে যে অবস্থানে রয়েছে, ঠিক পাঁচ বছর আগে ভিয়েতনাম একই অবস্থানে ছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় বাজার ছিল সেটি। ব্যাংকটি বলেছে, ভিয়েতনামের সাথে পার্থক্য কমার ফলে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

এইচএসবিসি বিশ্লেষকরা রিপোর্টে বলছে, দেশটি ভিয়েতনামের তুলনায় আয়তনে ছোট এবং মূলধন থিমগুলোর সাথে কম সম্পর্কযুক্ত এবং বিশ্লেষকদের কাছ থেকে অনেক কম মনোযোগও পেয়েছি।

বাংলাদেশের বাজার তুলনামূলকভাবে ছোট । তবে এইচএসবিসি অনুসারে এর জিডিপির ১৪ শতাংশ বাজার মূলধন রয়েছে। অনুপাতটি কোনও দেশের প্রকাশিত তালিকাভুক্ত স্টকের মোট মানকে পরিমাপ করে। এছাড়া তার জিডিপির মাধ্যমে ভাগ করে এবং দেশের স্টকগুলোকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা হয় না বা মূল্যহীন করা হয় তা নিয়ে আলোকপাত করতে পারে। অপরদিকে ৫০ শতাংশের নীচে সংখ্যা একটি বাজারকে মূল্যহীন বলে নির্দেশ করে।

মঙ্গলবার (৮ জুন) সিএনবিসির ‘স্কোয়াওক বক্স এশিয়া’ -কে এইচএসবিসির আসিয়ান এবং বাজার মূলধন বিশ্লেষক দেবেন্দ্র যোশি বলেছেন, ‘বাজারটি অদলবদল হবে, তবে সেখান থেকেই সুযোগ রয়েছে ’। তিনি প্রতিবেদনের অন্যতম সহ-লেখক।

এইচএসবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে তিন শতাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে এবং মাত্র ৭টি শেয়ারের বাজার মূলধন ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিস্তৃত ডিএসইএক্স সূচকটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রাধান্য পেয়েছে তবে ভোক্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানিগুলোর মূল্য বাড়ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি:

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। মহামারির আগে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে দেশটির ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

জোশি ব্যাখ্যা করেছিলেন, বাংলাদেশি অর্থনীতি ভিয়েতনামের চেয়ে বৃহত্তর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা যদি এই ধারা অব্যাহত রাখতে চায় তবে তাদের পুঁজিবাজারে আরও বেশি বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

প্রায় ১৬৩ মিলিয়ন লোকের জনসংখ্যার সাথে দেশটির মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। এর কাছাকাছি চলেছে।

জোশির মতে, গত ৩০ থেকে ৪০ বছরে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ও রেমিট্যান্স খাত তার অর্থনীতির মূল চালক হয়ে উঠেছে। বৃদ্ধির পরবর্তী স্তর অর্থনীতির গার্হস্থ্য ইঞ্জিন, গার্হস্থ্য খরচ থেকে আসতে পারে।

প্রতিবেদনে এইচএসবিসি আরও উল্লেখ করেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং এবং জাপানিজ অটোমেকার হোন্ডার মতো কোম্পানিগুলো উত্পাদন সুবিধা দেয়ায় বাংলাদেশ পরিকাঠামো স্থাপন করে পোশাক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার লক্ষণ দেখিয়েছে। ইতিমধ্যে, দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো এবং কিছু স্ব-উত্পাদিত গ্রাহক ব্র্যান্ড বিদেশের বাজারে রফতানি শুরু করেছে।

জোশি বলেছিলেন, বাংলাদেশি টাকা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এটি ডলার প্রতি প্রায় ৮৪ টাকা ৭৯ পয়সায় হাত বদল করেছে। এছাড়া গত ১২ মাসে তুলনামূলকভাবে রেঞ্জবাউন্ডে রয়ে গেছে।

জোশি আরো বলেছিলেন, স্থিতিশীলতার একটি কারণ হল বাজারে এত বেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী নেই। বাহ্যিক অবস্থান থেকেও, দেশের অর্থিক অবস্থা শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে। জিডিপিতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেশ কম। সুতরাং মুদ্রা বেশ স্থিতিশীল ছিল।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শেয়ারবাজার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close