• বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮
  • ||
শিরোনাম

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

প্রকাশ:  ০৭ জুন ২০২১, ১৭:৪৭ | আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ১৭:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হলো। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৬২ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে বড় ব্যবধানে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্রে লেনদেন শেষ হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কালো টাকার বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে কিছুই বলেননি অর্থমন্ত্রী। এ কারণে ধরে নেয়া হচ্ছে চলতি অর্থবছর মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়, তা আগামী অর্থবছর থাকবে না। ফলে আগামী ৩০ জুনের পর শুধু ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে না।

অর্থমন্ত্রী নতুন বছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেয়ার পর রোববার সাড়ে ১০ বছর বা ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। দরপতন হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের। এতে কমে প্রধান মূল্য সূচক।

এই রেকর্ড লেনদেনের পর সোমবার লেনদেনের শুরুতে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। এতে প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ পয়েন্টে বেড়ে যায়। সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

বরং শেষ দিকের লেনদেনে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় নাম লেখাতে থাকে। ফলে বড় পতন দেখা দেয় শেয়ারবাজারে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯৭৫ পয়েন্টে নেমে গেছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ২৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে ২৪২টির। ২৭টির দাম অপরিবর্ততি রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮৩ কোটি ২৮ টাকা টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ২ হাজার ৬৬৯ কোটি ৩৮ টাকা টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৫৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সোমবার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় দিনের লেনদেন শুরুতেও বেশিরভাগ শেয়ার দর হারায়। তার পরও প্রথম তিন ঘণ্টার লেনদেনে সূচকের পতন অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। সূচক নিম্নমুখী হওয়ার প্রধান কারণ ছিল ব্যাংক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন। কিন্তু দুপুর ১টার পর বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনই পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারের দরপতনে সূচকের বড় পতন শুরু হয়। রোববার সাড়ে ৯৬ টাকা দর থেকে শেয়ারটির দর আরো বেড়ে সোমবার লেনদেনের মাঝে ১০১ টাকায় ওঠে। এ পর্যায়ে সূচক রোববারের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৬১ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল।

এর পর ক্রমে শেয়ারটির দর কমতে থাকলে সূচকেরও পতন শুরু হয়। দুপুর ১টার পর দরপতনের ব্যাপকতা বাড়ে। ১টা ৩৯ মিনিটে সূচকটি রোববারের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৯৫৪ পয়েন্টে নামে। এ পর্যায়ে বেক্সিমকোর দর দিনের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ১২ টাকা হারিয়ে ৮৯ টাকার নিচে নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত বেক্সিমকো লিমিটেড ও কিছু ব্যাংকের শেয়ারের দরপতনের হার কমে এলে সূচকের পতনও কমেছে। বেক্সিমকোর শেয়ার সর্বশেষ ৯১ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

সোমবার সূচকের পতনের কারণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনে ডিএসই প্রায় ১৪ পয়েন্ট হারিয়েছে। শেয়ারটি রোববারের তুলনায় সাড়ে ৫ টাকা দর হারিয়ে ৯১ টাকায় নেমেছে।

সূচকের পতনে এর পরের কারণ ছিল এক্সিম ব্যাংক (সূচক কমিয়েছে ৫.৬৯ পয়েন্ট), বেক্সিমকো ফার্মা (৪.৪২ পয়েন্ট), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (৪.০৮ পয়েন্ট), ব্র্যাক ব্যাংক (২.৩৫ পয়েন্ট), বিকন ফার্মা (২.৩৫ পয়েন্ট), সাউথইস্ট ব্যাংক (২.২৫ পয়েন্ট), আইসিবি (২.১৯ পয়েন্ট), লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট (২.০৩ পয়েন্ট)।

খাতওয়ারি হিসেবে ব্যাংকের কারণে সূচক পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ব্যাংক খাতের কারণে সোমবার ডিএসই সূচক হারিয়েছে ৩০ পয়েন্ট। বিবিধ খাতের কারণে ১৪ পয়েন্ট। বীমা খাতের কারণে ৪ পয়েন্ট। প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং সিমেন্ট খাতের কারণে ৩ থেকে পৌনে ৪ পয়েন্ট করে সূচক কমেছে। শেষ পর্যন্ত ১০৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শেষ হয়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৩৬ শেয়ার ও ফান্ড। অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দর।

দুপুর আড়াইটা পর্যন্তদিনের স্বাভাবিক সাড়ে চার ঘণ্টার লেনদেন সময়কালে কেনাবেচা হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার। ক্লোজিং সেশনের আরো ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন মিলে দিনের মোট লেনদেন ছাড়িয়েছে ২ হাজার ৮৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অবশ্য এ লেনদেন রোববারের তুলনায় ৫৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা কম।

সোমবার খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংক, বীমা, প্রকৌশল, সিমেন্ট, সিরামিক, বস্ত্র, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। যেমন ব্যাংক খাতের ২ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৬টি দর হারিয়েছে। এ খাতের সার্বিক দরপতনের হার ১.৯৪%। বীমার ১১ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২৯টির। এ খাতের সার্বিক দরপতনের হার ০.৮৮%।

প্রকৌশল খাতের ১১ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ৩৬টির। বস্ত্র খাতের ১১টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৮টির। শুধু তথ্য ও প্রযুক্তি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দর হারানো শেয়ার সংখ্যার তুলনায় দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ার সংখ্যা বেশি ছিল। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১১ শেয়ারের মধ্যে ৮টির দর বেড়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ৯ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৫টির। বাকি ৮টির দর অপরিবর্তিত।

একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকোর সর্বাধিক লেনদেন হয়েছে ২৪৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৮২ কোটি টাকা। একক খাত হিসেবে বীমায় সর্বাধিক ৪২৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যদিও রোববারের তুলনায় কম। রোববারের তুলনায় সোমবার ব্যাংক খাতের সামান্য লেনদেন বেড়েছে।

আরেক শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক কমেছে ১৮৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৮৭টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আর

শেয়ারবাজারে দরপতন,শেয়ারবাজার,দরপতন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close