• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল, স্বস্তিতে ক্রেতারা

প্রকাশ:  ১৫ মে ২০২০, ২২:৪৮ | আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ২২:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা দূর্যোগের মধ্যে রমজানের শুরুতে যেভাবে দফায় দফায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছিল, তাতে এখন ভাটা পড়েছে। অল্প কিছু পণ্য ছাড়া সিংহভাগ পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে করোনা ভারাক্রান্ত মানুষের মধ্যে।

ঈদ সামনে রেখে বাজারে বেড়েছে পোলাউয়ের চাল, চিনি, সেমাই, ভোজ্য তেলসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের চাহিদা। তবে যোগান ঠিক থাকায় এসব পণ্যের দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, ডিম, শুকনো মরিচ আর আদার দাম।

ঈদের বাকি আর বড়জোড় ৯ দিন।অন্যবার এসময়টা বাজারে যেমন বিকিকিনির ধুম পড়ে যায়, করোনা দূর্যোগে তা নেই বললেই চলে। বিক্রেতারাও পার করছেন অলস সময়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালি, শান্তিনগর ও গুলশানের বাজার ঘুরে দেখা গেছে রমজানের শুরুতে বেড়ে যাওয়া চালের দাম এখন কমতির দিকে। সবধরনের চালের দামই কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫টাকা কমেছে। একদিকে চাহিদা কম অন্যদিকে বাজারে নতুন ধানের চাল আসায় এই দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।রকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবে, গত এক সপ্তাহে মাঝারি মানের চালের (পাইজাম ও লতা) দাম কমেছে ৫ শতাংশ। আর মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি চালের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। নাজির শাইল ও মিনিকেট চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত এক সপ্তাহে বড়, মাঝারি ও ছোট দানা সব ধরনের মসুর ডালের দাম কমেছে। বড় দানার মসুর ডালের দাম ১০.৫৩ শতাংশ কমে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি দানার মসুর ডাল ৬.৬৭ শতাংশ কমে ১০০ থেকে ১১০ টাকা হয়েছে। আর ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, এ পণ্যটির দাম কমেছে ৭.৪১ শতাংশ। ডাল বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা, শুক্রবার সেই ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে। টিসিবি’র হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই ডালের দাম কমেছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

রোজার অপরিহার্য পণ্য হিসেবে পরিচিত ছোলার দামকমে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হয়েছে। ছোলার পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে দেশি ও আমদানি উভয় ধরনের পিয়াজের দাম কমেছে। দেশি পিয়াজের দাম কমে হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা হয়েছে। আর আমদানি পিয়াজের দর ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হয়েছে। দাম কমার এ তালিকায় থাকা লুজ সয়াবিন তেলের দাম কমে কেজি ৮৮ থেকে ৯২ টাকা হয়েছে। লুজ পাম ওয়েল দাম কমে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।

এছাড়াও রসুন, জিরা ও মশলার দাম কমেছে। এক সপ্তাহ আগে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি রসুনের দাম কমে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর আমদানি করা রসুনের দাম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। অস্বাভাবিক বাড়া জিরার দামও খুচরা বাজারে কিছুটা কমেছে।প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবধরণের মাছের দাম কমতির দিকে। সবজির বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে।কাকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এটিই এখন বাজারের সবচেয়ে দামি সবজি। এছাড়া, শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, চিচিংগা ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। ১২০ টাকার ব্রয়লার মুরগির ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। এছাড়াও শুকনা মরিচের দাম বেড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া দেশি আদার দামবেড়ে হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় আর পণ্যসামগ্রীর মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় ঈদের আগে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

পূর্বপশ্চিম- এনই

নিত্যপণ্যের দাম,নিত্যপণ্য,বাজারে দাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close