• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

চাকরি হারানোর ভয়, হেঁটেই ঢাকার পথে গার্মেন্টস শ্রমিকরা 

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০২:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। সারাদেশে কার্যত স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ।

দেশজুড়ে গণপরিহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে রোববার খুলছে গার্মেন্ট। তাই করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মীরা। মহাসড়কে দেখা যাচ্ছে মানুষের স্রোত।

শনিবার কিছু গার্মেন্টস কারখানা খোলার কথা থাকায় ময়মনসিংহ থেকে হেঁটে ১১২ কিলোমিটার দূরের ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন হাজারো শ্রমিক।

শুক্রবার সকাল থেকে ময়মনসিংহ ব্রিজের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাজারো গার্মেন্টস শ্রমিককে ঢাকার দিকে হেঁটে যেতে দেখাে গেছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে ট্রেন-বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নিজের দুটি পা ছাড়া আর কোনো উপায় খুঁজে পাননি তারা। পায়ের ওপর ভরসা করেই পাড়ি দিতে নেমেছেন দীর্ঘপথ। টানা হাঁটা নয়, মাঝেমধ্যে ছোটখাটো যানবাহনেও চড়েছেন। পরিবর্তন করেছেন ১১টি গাড়ি। হেঁটেছেন ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি সময়।

গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানান, করোনাভাইরাসের ভয়ের চাইতে গার্মেন্টসের চাকরি হারানোর ভয় বেশি। ঠিক সময়ে অফিসে না গেলে চাকরি হারাব।চাকরি হারালে না খেয়ে মরতে হবে। পেটের তাগিদেই ঢাকা রওনা হয়েছি। সব ভয় উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছি।

শুক্রবার ময়মনসিংহ ব্রিজের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় শ্রমিকদের কয়েকজনের সাথে। গাজীপুরের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসে কাজ করেন আমিনুল। তিনি বলেন, ৪ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস খোলা হবে। যদি আগামীকাল গার্মেন্টেসে পৌঁছাতে না পারি তাহলে চাকরি থাকবে না।বাধ্য হয়েই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি।

আরেক নারী গার্মেন্টস কর্মী আয়েশা আকতার জানান, তিনি সপরিবারে ঢাকায় থেকে চাকরি করেন।করোনাভাইরাসের ভয়ের চাইতে গার্মেন্টসের চাকরি হারানোর ভয় বেশি। তাই সবার সাথে হেঁটে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন তিনিও।

গাজীপুরের পিএন গার্মেন্টস কর্মী খলিল বলেন, ফজরের নামাজের পর নেত্রকোণার ইসলামপুর থেকে রওনা দিয়েছি। রাস্তায় গাড়ি তো নাই, রিকশাও চলছে হালকা হালকা।তাই কিছুক্ষণ রিকশায় চড়ে আর কিছুক্ষণ হেঁটেই চলছি। কাল-পরশু বেতনও হবে, তাও পাওয়া যাবে না, তাই পায়ে হেঁটেই ঢাকা যেতেই হবে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৫ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সব নিট গার্মেন্টস’ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিকেএমইএ। তারা বলেছিলেন, সরকারের ‘দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে পরে কারখানা বন্ধের বিষয়ে আরও বিশদ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অন্তত ২৫ লাখ শ্রমিকের রোজগারের প্রতিষ্ঠান দুই হাজার ২৮৩টি কারখানার সংগঠন বিকেএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রপ্তানীমুখী শিল্পকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষার জন্য বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এই শিল্পখাতের জন্য প্রদান করেছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের কারণে কোনো শ্রমিকের যেন কোনো রূপ ক্ষতি না হয়, সেজন্য কোনোভাবেই আতঙ্কিত না হয়ে, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে বিকেএমইএ-র সদস্যভুক্ত সব নিট পোশাক কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তবে এরমধ্যে সরকার ঘোষিত ১০ দিন থেকে কর্মসূচি বাড়িয়ে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করেছে। তাই বন্ধ রয়েছে সব ধরনের দূর পাল্লার সব যানবাহন।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, সরকারি নির্দেশনায় কিছু গার্মেন্টস বন্ধ, কিছু গার্মেন্টস চলছে। আবার কিছু গার্মেন্টস আগামীকাল থেকে খোলা। প্রয়োজনের তাগিদেই গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকা যাচ্ছে।আমরাও আমাদের সাধ্যমত সহযোগিতা করে আসছি


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

গার্মেন্টস,শ্রমিক,ময়মনসিংহ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close