• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ভ্যাট এক বছর স্থগিত চান গার্মেন্টস মালিকরা

প্রকাশ:  ০২ এপ্রিল ২০২০, ১০:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে গার্মেন্টস শিল্পে ভ্যাট এক বছর স্থগিত রাখার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লেখা এক চিঠিতে বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক এ অনুরোধ করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ ভাইরাসকে বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা তাদের বর্তমান ক্রয়াদেশগুলো স্থগিত করছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ কমিয়ে ফেলেছে। যার কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ১০ শতাংশ রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত টিকিয়ে রাখতে হলে কাস্টমস সংক্রান্ত জরুরি নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। এ অবস্থায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভ্যাট সংক্রান্ত দাবিনামা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। এছাড়া আপদকালীন সময়ে বন্ড অডিটের জন্য দলিলাদি জমার সময়সীমা এক বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানি চালানের বিপরীতে বন্ডিং মেয়াদ অতিরিক্ত এক বছর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়া আপদকালীন সময়ে উদ্ভূত চলমান দাবিনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা, পরবর্তীতে আপদকালীন সময়ে উদ্ভূত দাবিনামা ও জরিমানা মওকুফ করা এবং তৈরি পোশাক শিল্পে ভ্যাট দাবিনামা এক বছর স্থগিত রাখতে হবে।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারা সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে না পারার কারণে ধার্যকৃত জরিমানা আদায় যেন এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়। একইভাবে আগামী এক বছর রফতানি বিলম্বিত হতে পারে, সে কারণে সব ধরনের তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলেছে সংগঠনটি। এছাড়া রফতানি পণ্য ক্রেতারা গ্রহণ না করে দেশে ফেরত পাঠালে শর্তহীনভাবে বন্ডের আওতায় ফেরতের অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে গার্মেন্ট শিল্পের সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। ফলে সময়মতো কাঁচামাল আমদানি করা যাবে না। যে কারণে ক্রয়াদেশ বাতিল হবে। আর আগের আমদানিকৃত পণ্য চালান দ্বারা তৈরিকৃত পোশাক রপ্তানি করতে না পারায় স্টক লট সৃষ্টি হবে। সময়মতো বার্ষিক অডিট সম্পন্ন করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ে বন্ড লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কারণে দাবিনামার উদ্ভব হবে। কাস্টমস আইনের বিধি-বিধান পালনে ব্যর্থ হওয়ার জন্য জরিমানা-শুল্ক ধার্য করা হবে। এসব উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এড়াতে আইনগত সহযোগিতা চেয়েছে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএর চিঠির ব্যাপারে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, বিজিএমইএ’র চাহিদার যৌক্তিকতা জানতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটকে চিঠি দেওয়া হবে। তাদের মতামত নিয়ে এনবিআরের শীষ পর্যায়ে পর্যালোচনা হবে। তারপর অর্থমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, টিকে থাকার জন্য এই মুহূর্তে আমরা সরকারের কাছে সহায়তা চাই। এর মধ্যে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট দাবিনামা এক বছরের জন্য স্থগিত চেয়েছি আমরা।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

বিজিএমইএ,গার্মেন্টস,ভ্যাট,তৈরি পোশাক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close