• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

৬০০ টাকার ধান এখন ১০৫০ টাকা

প্রকাশ:  ২৩ মার্চ ২০২০, ২২:০৯ | আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২২:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। এর প্রভাব পড়েছে ধানের দামেও। এক লাফে এর দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না ধান। আরও বাড়বে এমন আশায় ধান বিক্রি করছেন না কৃষকেরা।

আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানান এখন কৃষকের ঘরে যে পরিমান ধান আছে তা বেশি নয়। মূলত আড়তদার, মজুদদার ও মিলমালিকদের কাছে রয়েছে। আরও দাম বাড়বে এমন আশায় ধান বিক্রি করছেন না।

জানা গেছে, গত দুই মাস আগেও যে ধান ৬০০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে সে ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকায়। এরপরও পর্যাপ্ত ধান মিলছে না।

কৃষকের কাছ থেকে ঘুরে ধান কিনে চাল তৈরি করে বিক্রি করেন নঁওগার সাইফুল, রশিদ ও মিজান।

তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, গত এক সপ্তাহের মধ্যে ধানের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছ। এক থেকে দেড় মাস আগে যে গুটি স্বর্ণা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় কিনতাম, সে ধান এখন ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। স্বর্ণা- ৫ ও ৪৯ ছিল ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে। এখন সেটা ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকা। কাটারি ভোগের (ধুনট শেরপুর উৎপাদিত) দাম ছিল ৯০০ টাকা, সেটা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়।

তারা আরও বলেন, গুটি স্বর্ণা চাল আগে বিক্রি করতাম প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। এখন সেই চাল বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। স্বর্ণা- ৫ ও ৪৯ ধানের চাল বিক্রি করতাম ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায়। কাটারিভোগের চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে।

এদিকে ধানের দাম বাড়ায় বেড়েছে সবধরণের চালের দাম। শেরপুর মিলকল মালিক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার চালের দাম কেজিপ্রতি কমেছে দুই টাকা। সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে, ধানের দামও কমতে শুরু করেছে, আরও কমবে।

এদিকে কৃষকরা জানান, পরপর দুই বছর ধানের দাম না পাওয়ায় তারা ধানের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। ধানের জমিত আবাদ করছেন অন্য ফসল। তাই ধানের উৎপাদন এমনিতেই কমে গেছে।

তারা আরও বলেন, প্রতি বছর ধান কাটার সময় কামলা খুঁজে পাওয়া যায় না। পেলেও একজনের পেছনে দেড় মণ ধান ব্যয় করতে হয়। কিন্তু অন্য ফসল চাষে বেশি লাভ। তাই ধানের আবাদ এক প্রকার কমিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা।

এদিকে চালের দাম বাড়ায় প্রায় সবজায়গায় অভিডান চালাচ্ছে সরকার। এতে অনেকে চাল বিক্রিও বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন বেশি দামে ধান কিনে কম দামে চাল বিক্রি করলে তারা টিকে থাকতে পারবেন না। প্রশাসন বেশি চাপ দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।

যুক্তি দিয়ে তারা বলেন, ৬০০ টাকার ধানের মণ এখন ১০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৯০০ টাকার ধান হয়েছে ১৩০০ টাকা। এ দামে ধান কিনে আগের দামে চাল বিক্রি করা সম্ভব নয়।

এদিকে করোনা আতঙ্কে যান চলাচলও কমে গেছে। এতে চাহিদার ‍তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাড়ছে ধান ও চালের দাম।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর চালের আড়তগুলোতে দাম বাড়িয়ে বিশৃঙ্খলাকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে নয়টি আড়তদারকে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

ধান,চাল,মিল,চালের দাম,ধানের দাম,মিলমালিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close