• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

গ্রামীণফোনের ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব প্রত্যাখান বিটিআরসির

প্রকাশ:  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৩৫ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

অডিট আপত্তির পাওনা ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মধ্যে গ্রামীণ ফোন ১০০ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে ছিলো বিটিআরসিকে। কিন্তু এই প্রস্তাবে সরাসরি ‘না’ বলে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

বিটিআরসি বলছে, সর্বোচ্চ আদালত ইতোমধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে গ্রামীণফোনকে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর বাইরে যেতে পারে না।

গ্রামীণফোনের ডাইরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এদিন ১০০ কোটি টাকার পে-অর্ডার নিয়ে বিটিআরসিতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বিটিআরসি এই টাকা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খাঁন জানান, ‘যেহেতু গ্রামীণফোনের নিরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে মহামান্য আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিটিআরসি উক্ত নির্দেশনার বাইরে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না। কমিশন উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালনে সচেষ্ট আছে’

হোসেন সাদাত বলছেন, অডিট আপত্তির পাওনা দাবির ইস্যু সুরাহা আলোচনার মাধ্যমে করার শর্ত হিসেবে শুরুতে ‘কিছু টাকা’ জমা দেয়ার আহবান প্রায় সময়েই এসেছে। বিটিআরসির এই আহবান গণমাধ্যমেও পেয়েছি। সে হিসেবে এই ১০০ কোটি টাকা জমা দিতে গিয়েছে গ্রামীণ ফোন। যেন আলোচনাটি চালিয়ে নেয়া যায়।

তিনি জানান, এই টাকা দেয়ার প্রেক্ষাপট এবং আদালতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। আদালতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ছিল প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্তের খবরে, আমাদের শেয়ার হোল্ডারদের কথা ভেবে। আর ১০০ কোটি টাকা দিতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট হলো পাওনা দাবির ইস্যুর সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার’ বলছিলেন তিনি।

বিটিআরসি বলে আসছে, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার পাশাপাশি রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের।

কয়েক দফা চেষ্টায় সেই টাকা আদায় করতে না পেরে বিটিআরসি লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে দুই অপারেটরকে নোটিস পাঠায়।

বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় দুই অপারেটর আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক হলেও তাতে সফলতা আসেনি।

গ্রামীণফোনের আবেদনে গত ১৭ অক্টোবর বিটিআরসির নিরীক্ষা আপত্তি দাবির নোটিসের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় হাই কোর্ট। বিটিআরসি লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ ২৪ নভেম্বর গ্রামীণ ফোনকে দুই হাজার কোটি টাকা দিতে নির্দেশ দেয়।

ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন (রিভিউ) করেছে গ্রামীণফোন। সেই পুনর্বিবেচনার আবেদনের উপর শুনানির আগের বিটিআরসিকে ১০০ কোটি টাকা দিতে চেয়ে ব্যর্থ হল দেশের শীর্ষ এই মোবাইল অপারেটর।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

জিপি,গ্রামীণ ফোন,বিটিআরসি,আদালত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close