Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

‘বছরে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা’

প্রকাশ:  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

বছরে দেশ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্য: সমাধান কোন পথে?’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ দাবি করেন।

ড. মইনুল ইসলাম বলেন, এক সময় বাংলাদেশের একমাত্র রপ্তানি পণ্য ছিল পাট। কিন্তু এখন তা পোশাক শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। দুঃখজনক হলো ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ গার্মেন্ট মালিকরাই।

তিনি বলেন, ধনাঢ্য ব্যক্তিদের আয় বাড়ার হার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। বছরে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন গার্মেন্ট মালিকরা। কিন্তু এই খাতের ৩৫ লাখ শ্রমিক আগের মতো দরিদ্রই থেকে গেছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক বলেন, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোমের মালিক এবং টরেন্টোর ‘বেগম পাড়ার’ বাড়ির মালিকদের মধ্যেও দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল আমলা, সামরিক অফিসার, অর্থনীতিবিদদের পরিবারের পাশাপাশি গার্মেন্ট মালিকদের পরিবারই বেশি অনুপাতে চিহ্নিত করা যাচ্ছে।

তিনি জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ীও দেশে প্রকট আকারে বৈষম্য বাড়ছে। যা স্বীকার করেন সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও।

ড. মইনুল বলেন, রিয়েল এস্টেট নির্মাণশিল্প, টেলিভিশন চ্যানেল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ, প্রাইভেট ব্যাংক-বীমা, প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজ, কিন্ডারগার্টেন, সংবাদপত্র, এনজিও, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বিলাসী পরিবহন, হাসপাতাল-ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হওয়ার চেয়ে ক্রমাগতভাবে নিচের দিকে নামছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে ১১ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেখানে পিতা-মাতার আর্থিক সামর্থের উপর সন্তানের স্কুলের এবং শিক্ষার মান নির্ভর করে। যা একটি দেশের জাতিগত উন্নয়নে মোটেও কাম্য নয়।

তিনি জানান, ৮.১৩ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বাহাদুরি করার কিছু নেই। বাহাদুরি না করার কারণ হিসেবে অধ্যাপক মইনুল বলেন, এই প্রবৃদ্ধির হার সত্ত্বেও দেশে বৈষম্য বাড়ছে। বাংলাদেশ এখন একটি ‘উচ্চ আয়-বৈষম্যের দেশে’ পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সুবিধাসমূহ, সামাজিক সূচকসমূহ, সচ্ছতার অঙ্গীকারসমূহ এবং নিরাপত্তা রক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে বলে সরকারিভাবে প্রাক্কলিত হয়েছে। এ বিবেচনায় বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে ব্যাপক হারে। আয় বৈষম্য বাড়তে থাকার এ প্রবণতাকে দেশের আসন্ন মহাবিপদ সংকেত বললে অত্যুক্তি হবে না।

সাড়ে তিন দশক ধরে সর্বশক্তি দিয়ে এ বিষয়ে জাতির মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, এ কথা উল্লেখ করে মইনুল ইসলাম বলেন, দেশে কোটিপতিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে ন্যক্কারজনক পন্থা হলো দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হওয়া। এমন কোনো সরকারি সংস্থার নাম করা যাবে না, যেটা খানিকটা দুর্নীতিমুক্ত। এ ছাড়া বর্তমান জাতীয় সংসদে সাংসদদের ৬২ শতাংশই ব্যবসায়ী। এ সংসদ ব্যবসায়ীদের সংসদ এবং রাজনীতি এখন লোভনীয় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

দুর্নীতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশে স্বজনতোষী পুঁজিবাদ ও পুঁজি লুণ্ঠনের যাত্রা শুরু হয়। দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের মাধ্যমে গত ৪৪ বছরে দেশে লাখ লাখ ব্যবসা নির্ভর পুঁজিপতি, মার্জিন-আত্মসাতকারি রাজনৈতিক নেতাকর্মী, দুর্নীতিবাজ আমলা এবং সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদার রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ধনাঢ্য ও উচ্চবিত্ত গোষ্ঠির অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। তিনি বৈষম্য বৃদ্ধির শক্তিগুলোকে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করার জন্য রাষ্ট্রকে জনগণের স্বার্থের পাহারাদারের ভূমিকা পালনে বাধ্য করতে হবে বলে অনুরোধ জানান।

মইনুল ইসলাম বলেন, আয় ও সম্পদ বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে হলে দূর্নীতি নিরসন করতে হবে। এর জন্য সকলকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান তিনি।

সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কেএএস মুর্শিদ, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ ও সহসভাপতি এজেডএম সালেহ আলোচনায় অংশ নেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত