• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

একনজরে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট

প্রকাশ:  ১৩ জুন ২০১৯, ২৩:০৪ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৯, ২৩:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের এই শ্লোগানে অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করছেন।

বাজেট পেশের এক পর্যায়ে অসুস্থ্য অর্থমন্ত্রী বক্তৃতা দিতে অসুবিধা বোধ করায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পক্ষে বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা, এছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। কর বহির্ভুত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বিকেল ৩ টা ০৮ মিনিটে বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি বলেন, জাতি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে, জাতীয় জীবনে একটি ঐতিহাসিক দুর্লভ মুহূর্ত। সুখী, সমৃদ্ধ কল্যাণমুখী ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে দিন বদলের সনদ রূপকল্প ২০২১ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন ‘ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতির কাছে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামোগত খাতে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা মোট বরাদ্দের ২৭.৪১ শতাংশ। এর মধ্যে মানব সম্পদ খাতে- শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৬৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা, বৃহত্তর যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৩৬০ কোটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা রয়েছে। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৩.৬৩ শতাংশ।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) এবং বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ ৩৩ হাজার ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মো বরাদ্দের ৬৩৫ শতাংশ।সুদ পরিশোধ বাবদ ৫৭ হাজার ৭০ কোট টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১০.৯১ শতাংশ। নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দোরে প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ০.২৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতার বিভিন্ন খাতের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য:

— এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪৫ থেকে ২৪ জনে নেমে এসেছে

—মাতৃমৃত্যুর হার (প্রতি হাজার জীবিত জন্মে) ১ দশমিক ৭২ জনে নেমে নেমে এসেছে

— মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ২০০৬ সালের ৪৬টি থেকে বেড়ে ১১১টি হয়েছে

— মানুষের গড় আয়ু ২০০৬ সালের ৬৫ বছর থেকে বর্তমানে ৭২ দশমিক ৮ বছর হয়েছে

— ঝরে পড়ার হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে

—বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮০টি থেকে ১৪৮টি হয়েছে

— দেশে হাইটেক পার্কের সংখ্যা ২৮টি

—২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় প্রায় ৫৪৩ ডলার থেকে সাড়ে ৩ গুণ বেড়ে ১,৯০৯ ডলার হয়েছে

—জাপানের সম্রাট মেইজির মতো প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার ঘোষণা

—সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে

— দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসে টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলায় ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি’ পাইলট আকারে চলমান

—ক্যানসার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সাভারে ৩টি আধুনিক ল্যাবরেটরিজ নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিকস ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে

—বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

—২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটবে

—যুবকদের মধ্যে সব ধরনের ব্যবসা উদ্যোগ (স্টার্ট আপ) সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে

—পরিবহন খাতে ১ লাখ দক্ষ পেশাদার গাড়িচালক তৈরির বিশেষ কার্যক্রম চলমান

—মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পদে ও কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন এমন পদে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি

—৪ হাজার ৮০৮টি পোশাক কারখানার প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ডেটাবেইস তৈরি করা হয়েছে

—২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন কারখানা প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার ৭০৬টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে

—জাতীয় মহাসড়কে ১২১টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে

—নদীভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

—দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত

—চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন ফসলের ১৫টি নতুন জাত ও ১০টি জলবায়ুসহনশীল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে

—২০১৯-২০ অর্থবছরে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে অতিরিক্ত ৫০ কোটি বরাদ্দের প্রস্তাব

—২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ৪০ দশমিক ০ শতাংশ থেকে ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে

—নারী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা

—কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে নিয়োগ দিলে সে প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় করের ৫ শতাংশ কর রেয়াত প্রদানের প্রস্তাব

—নারী উদ্যোক্তা পরিচালিত ব্যবসার শোরুমের ওপর মূসক অব্যাহতি

—বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে প্রতিরক্ষার জন্য লাইটিং এরেস্টারের ওপর বিদ্যমান আমদানি মূসক ১০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। এরপরই রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতি প্রদান করেন।

পিপিবিডি/জিএম

২০১৯-২০ অর্খবছরের বাজেট,জাতীয় সংসদ,অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close